জাবি গণিত বিভাগ

খাতা কিনতেই ১ হাজার টাকা!

প্রকাশ | ১৪ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

তহিদুল ইসলাম, জাবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) গণিত বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের প্রথমবর্ষ ¯œাতক (সম্মান) শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ‘টিউটরিয়াল পরীক্ষার খাতা কিনতে’ ১ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। তবে টাকা নেওয়ার আগে এ সম্পর্কিত কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেনি বিভাগটি। এমনকি টাকা নেওয়ার পর শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের রশিদও দেওয়া হয়নি। এদিকে গতকাল বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনার পর বিভাগটির সভাপতি অধ্যাপক মো. শরিফ উদ্দিন শিক্ষার্থীদের টাকা দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

গণিত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের টিউটরিয়াল পরীক্ষার খাতা কেনার জন্য কাছ থেকে ২০০ টাকা করে নেওয়া হয়। বেশ কয়েক বছর ধরে এই হারে টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে এ বছর ৪৮ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত ব্যাচটির ৭৯ জন শিক্ষার্থী টাকা জমা দিয়েছেন। তবে এদের মধ্যে অনেকেই গণিত বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে চলে গেছেন।

বিভাগটির শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, ৪৮ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ভর্তি হওয়ার পর ভর্তি নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত প্রয়োজনে বিভাগে গেলে তখন বিভাগ থেকে তাদের জনপ্রতি ১ হাজার টাকা দিতে বলা হয়। তখন শিক্ষার্থীদের অনেকেই নির্ধারিত টাকা জমা দেন। তবে যারা সে সময় টাকা দেননি এবং যারা পরে অন্য বিভাগ থেকে মাইগ্রেশনের মাধ্যমে গণিত বিভাগে এসেছেন সেসব শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যাচটির ক্লাস প্রতিনিধি আমিনুলকে এই টাকা তুলতে বলেন গণিত বিভাগের কর্মচারী জাকারিয়া। এরপর আমিনুল ওই কর্মচারীর কথা মতো টাকা তোলা শুরু করেন।

আমিনুল জানান, এ পর্যন্ত ৩০ জনের মতো শিক্ষার্থী তার কাছে ১ হাজার টাকা করে জমা দিয়েছেন। তবে বুধবার বিভাগীয় সভাপতি প্রত্যেকের টাকা ফেরত দেওয়া হবে বলে তাকে জানিয়েছেন।

জাকারিয়া বলেন, টিউটরিয়াল খাতা কিনতে প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে নেওয়া হয়। এবার একসঙ্গে ৫ বছরের টাকা নেওয়া হয়েছে। সভাপতি স্যারের নির্দেশে ৪৮ ব্যাচের ক্লাস প্রতিনিধিকে টাকা তুলতে বলা হয়েছে। তবে যাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে তাদের টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এমনকি যারা মাইগ্রেশনের মাধ্যমে অন্য বিভাগে চলে গেছেন কিন্তু টাকা দিয়েছেন তাদের টাকাও ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

এদিকে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে গণিত বিভাগের ৪৮ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী বিভাগ থেকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ‘সভাপতি ফান্ড/উন্নয়ন ফান্ড নামে ১ হাজার টাকা’ করে নেয়া হচ্ছে বলে একটি ফেসবুক গ্রুপে উল্লেখ করেন। তখন এ নিয়ে ফেসবুকে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি জানার পর বুধবার সকালে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা অধ্যাপক মো. শরিফ উদ্দিনের সঙ্গে দেখা করে এর প্রতিবাদ জানান এবং শিক্ষার্থীদের টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। তখন সভাপতি টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে তাদের আশ্বস্ত করেন। তবে ভর্তির সময় প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ‘উন্নয়ন ফি’র নামে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়ার পরও টিউটরিয়াল পরীক্ষার খাতা কেনার জন্য বাড়তি টাকা নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন শাখা ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দিদার। তিনি বলেন, টিউটরিয়াল পরীক্ষার খাতা কেনার অর্থ সরবরাহের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের, শিক্ষার্থীদের নয়। পরবর্তী সময়ে যদি কোনো বিভাগ অবৈধভাবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি আদায়ের অপচেষ্টা চালায় তবে আমরা তা রুখে দেব।

এ বিষয়ে গণিত বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. শরিফ উদ্দিন বলেন, আমি বিষয়টি জানতাম না। যখন জানতে পেরেছি যে, ১ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে তখন আমি দ্রুত টাকা ফিরিয়ে দিতে বলেছি। টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। তিনি আরো বলেন, টিউটরিয়াল খাতা কেনার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হতো। এটা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। এখন ওরা ভুল করে ১ হাজার টাকা করে নিয়েছে। এটা একটা ভুল বোঝাবুঝি।

ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে তারা যেহেতু উন্নয়ন ফি নিয়েছে তারপরও বাড়তি টাকা নেওয়া কতটুকু যৌক্তিক তা বিভাগই ভালো বলতে পারবে। তারা আমাদের কিছু জানায়নি।

 

"