লামা ও আলীকদমে খাল খননে অর্থ অপচয়ের অভিযোগ

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি

বান্দরবানের লামা ও আলীকদম উপজেলায় ১ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে দুটি খাল খননে প্রকল্পে দুর্নীতি ও অর্থ অপচয়ের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর দাবি বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করলে এ অভিযোগের সত্যতা মিলবে। এদিকে লামা-আলীকদমের বুকচিড়ে বয়ে যাওয়া মাতামুহুরী নদী নাব্য হারিয়েছে। নদীর বুকে এখন বহু চর জেগেছে। নদী ড্রেজিং না করে, প্রায় সোয়া কোটি টাকা ব্যয়ে ছড়া খনন প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের নামে পাহাড়ি ছড়ার প্রকৃত গতি নষ্ট করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তাছাড়া এস্কাভেটরে মাটি কাটার কারণে সেই মাটি খালের পাড়ে ভালোভাবে বসানো হয়নি। সামান্য বৃষ্টিতেই তা গড়িয়ে পুনরায় খালে পড়বে।

লামা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামাল উদ্দিন বলেন, মাতামুহুরী নদী থেকে মধুঝিরি গ্রাম হয়ে কলেজ গেট পর্যন্ত ছড়া খননের নামে ফাঁকিবাজি চলছে। তিনি জানান, ছড়ার দুই পাশে এস্কাভেটর দিয়ে কাজ করলে স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। স্থানীয়রা জানান, এসব প্রাকৃতিক বা খালে নাব্য ফিরিয়ে আনতে হলে সরকারি ম্যাপ অনুযায়ী

ছড়া উদ্ধার করে কাজ করতে হবে। প্রায় একমাস ধরে একটি এস্কাভেটর দিয়ে পৌর শহরের বাজার মার্মাপাড়ার পাশ ঘেঁষে যে কাজ করেছে, তা শ্রমিক লাগিয়ে করলে ভালো হতো।

লামা নাগরিক ফোরাম ও লামা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান বলেন, লামা ও আলীকদমে চার দশক ধরে তামাক চাষের ফলে পাহাড়ি নদী, ছড়া, ঝিরি অনেকটা ভরাট হয়ে গেছে। ফলে বর্ষায় পানিতে তলিয়ে যায় জনবসতি। এ খাল, ছড়া ও ঝিরি খননের কাছে স্থানীয়দের মতামত নেওয়া উচিত। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে ঝিরিগুলো শুকিয়ে পানি শূন্যতা দেখা দেয়। এসব বিবেচনায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০, শত বর্ষের ডেল্টা প্ল্যানের অংশ হিসেবে ৬৪ জেলার ছোট নদী, খাল এবং জলাশয় খনন প্রকল্পের (প্রথম পর্যায়) আওতায় লামা পৌরসভা ও আলীকদম উপজেলায় দুটি খাল খনন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্প দুটি হচ্ছে লামা পৌরসভার মধুঝিরি ও আলীকদম উপজেলার মোস্তাকপাড়া ঝিরি খনন। পাউবো বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে মধুঝিরি নামক খালের ৩ দশমিক ৮ কিলোমিটার খনন এবং ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে আলীকদমের মোস্তাকপাড়া ঝিরির ১ দশমিক ৩৪৫ কিলোমিটার খনন করা হবে। সরেজমিন দেখা গেছে, আলীকদম উপজেলার মোস্তাকপাড়া ঝিরি খননের মাধ্যমে তলদেশ থেকে মাটি তুলে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ফলে ঝিরিটি নাব্য ফিরে পেতে চলছে। অন্যদিকে লামায় ঝিরি খননের নামে হচ্ছে ভরাট। এদিকে কাজের গতি প্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তারা জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে আগে নদী ড্রেজিং করার পর ঝিরি খনন করা প্রয়োজন ছিল। স্থানীয়রার দাবি করেন, ঝিরি খননের নামে এসব অর্থ অপচয় না করে বরাদ্দ পাওয়া অর্থ দিয়ে মাতামুহুরী নদীর ভাঙনকবলিত গ্রাম বা বাণিজ্যিক এলাকায় ব্লক স্থাপন করা দরকার।

 

"