মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতিচারণ

পটিয়ায় গৈড়লার টেক যুদ্ধ এখনো মনে পড়ে

প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানি পটিয়ার ঠেগরপুনি গ্রামের সন্তান প্রিয়তোষ চৌধুরী। একাত্তরের রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন জীবন বাজি রেখে। যুদ্ধ দিনের সেই স্মৃতি চোখের জলে তার বুক ভাসায়। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর তার প্রত্যাশা ও প্রাপ্তিসহ যুদ্ধের স্মৃতিকথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই সময়ে তিনি ২২ বছরের টকবগে যুবক ছিলেন। ঢাকা তেজগাঁও কলেজের বিএ পরীক্ষার্থী। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ তাকে উদ্দীপ্ত করে। ২৫ মার্চ কালো রাতে পাক হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।

‘মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার জন্য ভারতের উদ্দেশে রওয়ানা দিই। তখন আমাকে পার্শ্ববর্তী ছনহরা গ্রামের বদিউল আলম (বদি) ও আবুল বশর সহযোগিতা করেছিল। পরে বদিউল আলম বদি সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হন। ওই গ্রামে শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের নির্দেশে রাজাকার আলবদর সদস্যরা আমার বাড়িসহ ঠেগরপুনি গ্রাম লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমি লেখাপড়ার জন্য পুনরায় ঢাকায় চলে যাই। তার আগে পটিয়া থানায় আমার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটকারী রাজাকার আলবদরদের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি করি। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সেই সময় রাজাকার আলবদরদের বিচার করলে আজকে বাংলাদেশের এই অবস্থা হতো না।’

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধারা অবহেলিত লাঞ্ছিত আর স্বাধীনতা বিরোধীচক্র দাপটের সঙ্গে বাংলাদেশে ঘুরছে। তাদের গাড়িতে স্বাধীন দেশের পতাকা ওড়ে। কিন্তু জাতির পিতার কন্যা ২০০৮ সাল থেকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে এদেশের ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জতের প্রতি যে সম্মান প্রদর্শন করেছেন তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানতে প্রেরণা যোগাবে।’

তিনি আরো বলেন, আমাদের গেরিলা বাহিনীর গৌরবময় প্রতিরোধ যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে পটিয়ার ইন্দ্রপোল ভেঙে দেওয়া, ধলঘাটে রেললাইন তুলে ফেলা, গৈড়লার টেকে পালিয়ে যাওয়া পুলিশ বাহিনীকে আত্মসমর্পণ করানো এবং পটিয়া থানাতে প্রথম স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন ইত্যাদি। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা দেওয়া প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি ২০১৩ সাল থেকে সম্মানি ভাতা গ্রহণ করে আসছি। আমার মতো সব মুক্তিযোদ্ধারা আজ সর্বক্ষেত্রে সম্মানিত হচ্ছি।’

 

"