সৌরবিদ্যুৎ : মিসরে পাল্টে গেছে জেলেপল্লীর জীবন

প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মিসরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ একটা বড় চ্যালেঞ্জ। একটি কোম্পানি ছোট-বড় গ্রাহক ও সরকারের সঙ্গে চুক্তি করে স্থানীয় পর্যায়ে সৌরশক্তির জোগান দিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা বদলে দিচ্ছে। লোহিত সাগরের তীরে জেলেদের ছোট গ্রাম কুলান। এই জেলেপল্লীতে এ আলোর জ্বলকানি। এই জনপদ এখনো জাতীয় বিদ্যুতের গ্রিডে যুক্ত হয়নি। কিছুকাল আগে পর্যন্ত শুধু ডিজেল জেনারেটরের মাধ্যমেই সেখানে বিদ্যুৎ পাওয়া যেত। বর্তমানে সৌরশক্তিচালিত এক স্থানীয় গ্রিড ২৪ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। ফলে জেলেরা তাদের মাছ মজুদ করতে পারছে। তাদেরই একজন মনসুর সাইদ সালেহ। তিনি বললেন, ‘আগে মাছ ধরেই ১১ কিলোমিটার দক্ষিণে হামাতা অথবা ১৬ কিলোমিটার উত্তরে আবু গুসুনে নিয়ে যেতে হতো। দীর্ঘ সেই পথে মাঝেমাঝে মাছ পচে যেত, দুর্গন্ধ বের হতো। এখন দিন-রাত বিদ্যুৎ থাকার ফলে আমাদের কাছে ফ্রিজার রয়েছে। মানুষ আমাদের কাছে মাছ কিনতে আসে। ফলে সময় ও পরিবহনের খরচ বেঁচে যায়।’ প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তরে মারসা আলম পর্যটন কেন্দ্র অবস্থিত। সেখানকার হোটেলগুলো বিদ্যুতের জন্য মূলত ডিজেলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু মারসা শাগরা লজে পরিস্থিতি একেবারে অন্যরকম। সারা বিশ্ব থেকে ডাইভিং করতে মানুষ সেখানে আসেন। লজের মালিকরা সৌরশক্তিতে বিনিয়োগ করেছেন। তবে সেই প্রণালি শুধু দিনের বেলায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। অন্ধকার নামলেই হোটেলে জেনারেটর চালাতে হয়। তা সত্ত্বেও সৌরশক্তির সাময়িক ব্যবহারের ফলে শুধু পরিবেশেরই ভালো হচ্ছে না, অর্থনৈতিক পর্যায়ও সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। লজের ম্যানেজার রফিক ফারুক বলেন, ‘গত আট বছরে জীবাশ্মভিত্তিক জ্বালানির মূল্য অনেক বেড়ে গেছে। বর্তমানে জেনারেটর চালিয়ে এক কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে প্রায় ১২ ইউরো সেন্ট ব্যয় হয়। অন্যদিকে সৌর প্লান্টে সেই ব্যয় মাত্র ৮ সেন্ট। ফলে সৌরশক্তিতে বিনিয়োগের অর্থ ফিরে পেতে ৫ বছরও সময় লাগেনি।’ যত দ্রুত সম্ভব পুরোপুরি বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। কার্মসোলার কোম্পানি এই মিনি গ্রিড ও সোলার স্টেশন গড়ে তুলেছে ও তা রক্ষণাবেক্ষণ করছে। তারা হোটেলে বিদ্যুৎ বিক্রি করে। স্থানীয় মানুষকে সম্পৃক্ত করার নীতি গামাল আবদ এল কাদের স্থানীয় পর্যায়ে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করেন। কার্মসোলার কোম্পানি নীতিগতভাবে স্থানীয় মানুষকেই প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। গামাল বলেন, ‘যখন শুরু করেছিলাম, তখন শুধু দিনমজুর হিসেবেই কাজ করতাম। গর্ত খোঁড়া, তার বসানো, জিনিসপত্র এদিক-ওদিক নিয়ে যাওয়াÑ এসব করতাম। সৌরশক্তি সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। কার্মসোলার কোম্পানির কল্যাণে ধীরে ধীরে শিখতে লাগলাম। ইঞ্জিনিয়াররা আমাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।’

তিনি প্রতিদিন সৌর প্যানেল পরীক্ষা করেন। চারদিকে এত বালু উড়ে বলে নিয়মিত সেগুলো পরিষ্কার করা জরুরি। স্থানীয় মিস্ত্রিদের জন্য কার্মসোলার কোম্পানির গ্রিডগুলো পেশার ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ বয়ে আনছে। গামাল এখন ৩টি সোলার গ্রিডের দায়িত্বে রয়েছেন।

কার্মসোলার মূলত বড় গ্রাহক ও কোম্পানিগুলোর জন্য প্লান্ট নির্মাণ করে। তবে এই বেদুইন বসতির মতো ছোট আকারের চাহিদাও মেটায় সেই কোম্পানি। বর্তমানে দাতারা তাদের জন্য দুটি সৌর প্যানেলের ব্যবস্থা করেছেন। গামাল সেখানে গিয়ে এই মিনি গ্রিডের কর্মপদ্ধতি বুঝিয়ে বলছেন। কার্মসোলার সরকারের সঙ্গেও গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত বড় আকারের বিদ্যুৎকেন্দ্রে কাজ করে। মিসরে সৌরশক্তির উজ্জ্বল ভবিষ্যতের লক্ষণ এখনই দেখা যাচ্ছে।

 

"