পুটখালী সীমান্ত মানব পাচারের নিরাপদ রুট

প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি

যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার পুটখালী সীমান্ত মানব পাচারের এবং অবৈধ পথে পাসপোর্ট ছাড়া ভারতে যাওয়ার নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। তরুণী ও শিশুদের ভারতে পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে দালালরা এ পথ ব্যবহার করছে। এদিকে ভারতে পাচারকালে দুই তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণে জড়িত সন্দেহে ছয় বখাটেকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে গতকাল সোমবার কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, একশ্রেণির স্থানীয় দালাল দেশের বিভিন্ন জেলার দালাল প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং কমিশনের ভিত্তিতে মানব পাচার করে। আবার ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে এ দেশের অনেক তরুণীকে ভারতের বিভিন্ন নিষিদ্ধ পল্লীতে বিক্রি করে দেয়। তারা জানান, দূর-দূরান্ত থেকে আসা এসব তরুণী ও গৃহবধূকে দালালরা সীমান্ত এলাকায় আটকিয়ে রেখে লাইন খারাপ, সীমান্ত গরম, বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের ধর্ষণ করে থাকে।

গত শনিবার রাতে কুষ্টিয়া ও চাঁদপুরের দুই তরুণীকে ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের এক দূর সম্পর্কের মামা বেনাপোল এনে দালালদের হাতে তুলে দেন। ওই মামা বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে চলে যান তাদের ওপার থেকে রিসিভ করার জন্য। কিন্তু ওই দুই তরুণী পুটখালীতে ধর্ষণের শিকার হন। ধর্ষণের এ কাহিনি জানাজানি হয়ে গেলে বেনাপোল পোর্ট থানার ওসির চেষ্টায় ১৮ ঘণ্টার মধ্যে ছয় ধর্ষককে আটক করা হয়।

একটি সূত্র জানায়, বেনাপোলের পুটখালী ঘাট দিয়ে যারা মানব পাচার করে তারা অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং তারা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকে। এ পথে যারা মানব, শিশু, নারী পাচার করে থাকে তাদের সঙ্গে যুক্ত ওই ছয় ধর্ষক। শাহীন নামে যে ধর্ষক পলাতক রয়েছে, সে ওই গ্রামের একজন মহিলা ইউপি সদস্যের ছেলে।

বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি (তদন্ত) সৈয়দ আলমগীর হোসেন বলেন, সোমবার ওই দুই তরুণীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য যশোর মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে এবং আটক আসামিরা জেলহাজতে আছে।

এদিকে বেনাপোলের পুটখালী গ্রামে গত শনিবার রাতে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার দুই তরুণীর মেডিকেল পরীক্ষার জন্য গতকাল সোমবার যশোর মেডিকেলে পাঠিয়েছে পুলিশ। ওই ঘটনায় নির্যাতিত এক তরুণী বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামি করে মামলা করেছে বেনাপোল পোর্ট থানায়।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুটখালী গ্রামের ছয় যুবককে আটক করেছে পুলিশ। এরা হচ্ছে সোহেল, আব্দুল্লাহ, আরিফ হোসেন, শিমুল, মোর্শেদ ও প্লাবন। শাহীন, রাফিউল ও অন্য একজন আসামি পলাতক রয়েছে। এদের থানায় আত্মসমর্পণের জন্য পরিবারকে সময় বেঁধে দিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশে দালালদের মাধ্যমে দুই তরুণী শনিবার পুটখালী গ্রামে শাহ আলম বিশ্বাসের বাড়িতে আসে। ওই রাতে গ্রামের ৯ যুবক তাদের ভারতে পাঠানোর নাম করে বাড়ির পাশে আমবাগানে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

 

"