কাঠমান্ডু ট্র্যাজেডি আজ

নতুন সংসার পেতেছে এ্যানী

প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

রাজীবুল হাসান, শ্রীপুর (গাজীপুর)

গাজীপুরের শ্রীপুর নগরহাওলা গ্রামের দোতলা বাড়ির নিচে পাশাপাশি রয়েছে পাথর দিয়ে বাঁধানো বাবা ও মেয়ের কবর। কবরের এক পাশে লেখাÑ ‘চলে গেছো, কিন্তু আমাদের সঙ্গে তোমার অস্তিত্ব ও হৃদ্যতা ভুলিনি’। নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস বাংলা বিমান দুর্ঘটনায় নিহত আলোকচিত্রী এফ এইচ প্রিয়ক ও তার মেয়ে প্রিয়ন্ময়ীর স্মৃতি এখনো কাঁদায় স্বজনদের। অসময়ে প্রিয়জনের চলে যাওয়ার বেদনার স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দেয় কবরের এপিটাপ।

কাঠমান্ডু ট্র্যাজেডির এক বছর পূর্ণ হলো আজ। গত বছর এই দিনে নেপালের কাঠমান্ডু ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে

অবতরণকালে বিধস্ত হয় ইউএস বাংলার ফ্লাইট বিএস-২১১। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৫১ জন যাত্রী। এদের মধ্যে পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়ার তালিকায় ছিল খ্যাতিমান আলোকচিত্রী এফ এইচ প্রিয়ক ও তার মেয়ে তামাররা প্রিয়ন্মীয়।

গতকাল সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো বাড়ি নিস্তব্ধ। নিঃসঙ্গ একাকী প্রিয়কের বৃদ্ধা মা ফিরোজা বেগম আর কাজের মেয়ে ছবি বেগমই এখন বাড়ির বাসিন্দা। সংবাদকর্মী দেখতে দেখতে এখন আর ফিরোজা বেগমের ভালো লাগে না। অপরিচিত কাউকে দেখলেই বলে ওঠেনÑ কেন আসছেন? আমি আর সাক্ষাৎকার দিতে পারমু না। পরক্ষণেই আবার ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখান প্রিয়ক-প্রিয়ন্ময়ীর জামা-কাপড়, গিটার ও খেলনা। প্রিয়কের থাকার ঘরে খুব যতœ করে এগুলো রেখে দিয়েছেন তিনি। স্বামীহারা ফিরোজা বেগম একমাত্র ছেলে প্রিয়কে অবলম্বন করেই চেয়েছিল বাঁচতে। বিমান দুর্ঘটনা সবকিছু উলট-পালট করে দেয়। দুর্ঘটনায় আহত অবস্থায় বেঁচে ফিরেন পুত্রবধূ এ্যানী। সুস্থ হয়ে এ্যানী নতুন করে সংসার পেতেছেন। ফিরোজা নিজ হাতেই নাকি পুত্রবধূকে বিয়ে দিয়েছেন। ফিরোজা বেগম বলেন, স্বামী হারিয়েছি, ছেলে ওপারে চলে গেছে। এই বয়সে আর কেমন থাকব।

ফিরোজা বেগম জানান, ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষ যে টাকা দিয়েছে সেগুলো দিয়ে প্রিয়কের নামে একটি মসজিদ নির্মাণে হাত দিয়েছেন। নাতিনের নামে একটি মাদ্রাসাও করবেন।

নেপাল ভ্রমণ করার জন্য প্রিয়ক তার স্ত্রী আলমুন এ্যানী ও মেয়ের সঙ্গে স্ত্রীসহ তাকেও সঙ্গী করেন। তিনজন প্রাণে বেঁচে গেলেও রক্ষা পায়নি প্রিয়ক ও তার মেয়ে।

প্রিয়কের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সোহানূর রহমান সোহাগ বলেন, প্রিয়ক ভাইয়ের আম্মাকে আমরা দেখাশোনা করি। মঙ্গলবার (আজ) প্রিয়ক ভাই চলে যাওয়ার এক বছর হলো। এই উপলক্ষে বাড়িতে বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

 

"