আর কত বয়স হলে তিনি বয়স্ক ভাতা পাবেন!

প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

আহসান হাবীব সুমন, কচুয়া (চাঁদপুর)

নাম তার জিলহজ বেগম, বয়স ১১০ বছর। বিধবা জিলহজ বেগম (রেনুর মা) এই বয়সেও রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে মানুষের কাছে ভিক্ষা করে জীবন চালাচ্ছেন। তিনি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার পশ্চিম সহদেবপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খিলমেহের গ্রামের আদম আলীর স্ত্রী। জিলহজ বেগমের স্বামী আদম আলী মারা গেছেন ৪০ বছর আগে। এক মেয়ের সংসার তার। মেয়েটাও অন্যের বাড়িতে ভিক্ষা কিংবা কাজ করে জীবন চালায়। সরকারি বিধি মোতাবেক এই বৃদ্ধার বিধবা ভাতা পাওয়ার কথা থাকলেও কখনো সে এই ভাতা পায়নি। কিন্তু কোনো দল বুঝেন না কিংবা কোনো দলের হয়ে ওয়ার্ড জনপ্রতিনিধিকে খুশি করার সামর্থ্য তার নেই। তাই ভাগ্যে জুটেনি বিধবা ভাতা। বর্তমানে তিনি মানুষের বাড়িতে কাজের বিনিময়ে দুই মুঠো আহার খেয়ে কোনো মতে জীবন পার করছেন জিলহজ বেগম। ভূমিহীন জিলহাজ বেগম আর কত বয়স হলে পাবেন বয়স্ক ভাতা! এই প্রশ্ন এখন এলাকার অনেকের।

জিলহজ বেগম কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, এ পর্যন্ত আমি কোনো ধরনের সরকারিভাবে সুযোগ-সুবিধা পাইনি। বরং কোনো বয়স্কভাতা ও বিধবা ভাতাও পাইনি। কোনো মতে ভিক্ষা করে জীবন যাপন করি। আমাকে আজ পর্যন্ত কোনো ভাতা দেওয়া হয়নি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন মজুমদার বলেন, ওই বিধবা জিলহজ বেগমের আইডি কার্ড না থাকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। আইডি কার্ড পাওয়া গেলে শিগগিরই বয়স্কভাতার সুবিধা দেওয়া হবে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান ভূঁইয়া জানান, প্রত্যেক ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে আমরা উপকারভোগীদের তালিকা তৈরি করি থাকি। তবে জিলহজ বেগমের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে তার আইডি কার্ড না থাকলে নির্বাচন অফিস থেকে সংগ্রহ করতে হবে। তাহলে তাকে শিগগিরই সুবিধাভোগীর তালিকায় আনা যাবে।

 

"