মাদরাসাছাত্রকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন : থানায় মামলা

শিক্ষক কারাগারে

প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

মাদরাসা পালানোর অপরাধে ইবরাহিম (১০) নামের এক ছাত্রকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন করেছেন শিক্ষক হাফেজ মো. ফোরকান মিয়া। ইবরাহিম তালতলী উপজেলার বড় অংকুজানপাড়া কারিমিয়া হাবিবিয়া মাদরাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র। পুলিশ ওই শিক্ষককে গত রোববার রাতে মাদরাসা থেকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনা ঘটেছে রোববার রাত ৮টায়। গতকাল সোমবার এ শিক্ষককে আদালতে হাজির করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৭ সালে উপজেলার বড় অংকুজানপাড়া গ্রামের আবদুল রহমানের ছেলে ইবরাহিমকে কারিমিয়া হাবিবিয়া মাদরাসা কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ওই সময় থেকেই এ ছাত্রকে শিক্ষক ফোরকান মিয়া বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে আসছিল। শিক্ষকের নির্যাতন সইতে না পেরে ছাত্র ইবরাহিম কয়েকবার মাদরাসা থেকে পালিয়ে যায়। মাদরাসা থেকে পালানোর অপরাধে ওই শিক্ষক ছাত্রকে এক বছর ধরে মাদরাসার হোস্টেলে শিকলে বেঁধে তালা দিয়ে রাখে। প্রয়োজন ছাড়া ওই ছাত্রের শরীর থেকে শিকল খুলে দেন না তিনি।

শিক্ষকের অসহনীয় নির্যাতন সইতে না পেরে গত রোববার রাতে শিশুছাত্র ইবরাহিম হোস্টেলের খুঁটি থেকে তালা খুলে শরীরে শিকল বাঁধা নিয়ে পালিয়ে যায়। মাদরাসা থেকে তিন কিলোমিটার শরীরে শিকল নিয়ে বারোঘর নামক স্থানে পৌঁছে ইবরাহিম। ওই স্থানের লোকজন শিশুটির শরীরে শিকল বাঁধা দেখে ধরে ফেলে। পরে পুলিশে খরব দেয়। পুলিশ গিয়ে ওই ছাত্রকে শরীরে শিকলে বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে তালতলী থানায় নিয়ে আসে। ওই রাতেই শিক্ষক ফোরকানকে ওই মাদরাসা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই ছাত্রের নানা হারুন মিয়া বাদী হয়ে শিক্ষক ফোরকানকে আসামি করে তালতলী থানায় মামলা করেন। গতকাল সোমবার পুলিশ শিক্ষক ফোরকানকে আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে। বিচারক মো. সাকিব হোসেনের নির্দেশে শিক্ষক ফোরকান মিয়াকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

এ ছাত্রের নানা হারুন মিয়া বলেন, ‘আমার নাতি ইরবাহিমের মা বিদেশে থাকেন। আর ওর বাবা ঢাকায় দিনমজুরের কাজ করে। নাতি ইবরাহিম আমার বাড়িতে থাকে। দুই বছর আগে ইবরাহিমকে বড় অংকুজানপাড়া কারিমিয়া হাবিবিয়া মাদরাসা কমপ্লেক্সে হেফজ বিভাগে ভর্তি করে দিই। ভর্তির পর থেকেই শিক্ষক ফোরকান আমার নাতিকে নির্যাতন করে আসছে। শিক্ষকের নির্যাতন সইতে না পেরে কয়েকবার পালিয়ে এসেছে। গত বৃহস্পতিবার পালিয়ে এলে শুক্রবার আমি ইবরাহিমকে মাদরাসায় দিয়ে আসি। এরপর শিক্ষক ফোরকান আমার নাতিকে শিকলে বেঁধে হোস্টেলের খুঁটিতে তালা দিয়ে রাখে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নজরুল ইসলাম বলেন, ছাত্র ইবরাহিম মাদরাসা থেকে পালানোর অপরাধে শিক্ষক ফোরকান মিয়া শিকলে বেঁধে নির্যাতন করত বলে প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে।

তালতলী থানার ওসি পুলক চন্দ্র রায় বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। শিক্ষক ফোরকানকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে হাজতে পাঠানো হয়েছে।

 

"