সংসদে আসুন, অনুযোগ যত আছে বলুন, বাধা দেব না

প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংসদে এসে কথা বলার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচনে নৌকার বিজয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ভোটের রায়। জঙ্গি-সন্ত্রাস-মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকেই বেছে নিয়েছে দেশের জনগণ। জনগণ আর জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস-মাদক-অগ্নিসন্ত্রাস আর দেখতে চায় না নির্বাচনে তাই প্রমাণ হয়েছে। তাই বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত নেতাদের বলব, জনগণের ভোটের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সংসদে আসুন, যত কথা বলার আছে বলুন, আমরা কোনো বাধা দেব না। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার রাতে রাষ্ট্রপতি ভাষণ সম্পর্কে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব এবং একাদশ জাতীয় সংসদের সমাপনী বক্তব্যে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, জনগণের কাছে যে ওয়াদা দিয়েছি, তা রক্ষা করাই আমাদের কাজ। দুর্নীতি করতে আসিনি, জনগণের সেবা করতে এসেছি। দুর্নীতি অনেক কমিয়ে আনতে পেরেছি। চেষ্টা করে যাচ্ছি দুর্নীতি দূর করে উন্নয়ন করতে। দুর্নীতি যথেষ্ট কমাতে পেরেছি বলেই এত উন্নয়ন সমৃদ্ধি দৃশ্যমান হয়েছে। মানুষের মধ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে চেতনা সৃষ্টি করছি। কারণ অসৎ উপায়ে বিরিয়ানি খাওয়ার চেয়ে সৎভাবে বসবাস করে নুন খেলেও তৃপ্তি। আলোচনা শেষে ধন্যবাদ প্রস্তাবটি ভোটে দিলে তা সর্বসম্মতক্রমে গৃহীত হয়। বিরোধী দলের বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে কোনো চুক্তি নয়, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। রাশিয়া, চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভিয়েতনামসহ প্রতিরক্ষা চুক্তি পৃথিবীর অনেক দেশের সঙ্গে চুক্তি আছে। বিশ্ব গ্লোবাল ভিলেজ। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আমাদের সামরিক বাহিনী প্রয়োজন। তাই সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিকভাবে গড়ে তুলছি। ফোর্সেস গোল প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। যুদ্ধ বিধ্বস্ত কুয়েতকে গড়ে তুলতে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। সৌদি আরবের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক করেছি অবকাঠামো নির্মাণ, কারিগরি সহায়তায়, দেশটির স্থল সীমানায় মাইন অপসারণের জন্য। তিনি দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, অন্য কোনো দেশের যুদ্ধ হলে সেখানে আমাদের সেনাবাহিনী সেই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে না। পবিত্র মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তার রক্ষার প্রয়োজন হয়, সেখানে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী কাজ করবে। এখনে ভুল বোঝাবুঝির কোনো অবকাশ নেই। গত ১০ বছরে কোনো দেশের সঙ্গে আমাদের বৈরিতা হয়নি, সবার সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।

সংসদ নেতা বলেন, দেশকে আমরা কোন পর্যায়ে নিয়ে এসেছি তা রাষ্ট্রপতির ভাষণে উঠে এসেছে। আর সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দল গড়ে উঠুক আমরা তাই চাই।

বিএনপিকে সংসদে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। জনগণের ভোটের প্রতি সম্মান জানিয়ে সংসদে এসে যা বলার কথা বলুন, আমরা কোনো বাধা দেব না। সুলতান মোহাম্মদ মনসুরকে শপথ নিয়ে সংসদে আসার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যদের অনেকে সেনা প্রিয় বলেন। দেশের এমন কিছু লোক আছে দেশে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি এলেই তাদের সুবিধা হয়। তারা কোনো উন্নয়ন চোখে দেখে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী, ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করব মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ। আর ২১০০ সালে ডেল্টা প্লান বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত দেশগুলোর একটি হবে বাংলাদেশ।

 

 

"