বগুড়ার মহাস্থানগড়ে পাওয়া গেছে গুপ্ত যুগের নিদর্শন

প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়ার মহাস্থান গড় এলাকার বৈরাগী ভিটায় চলা খননকাজে বেরিয়ে এসেছে ষষ্ঠ শতকের গুপ্ত আমলের নানা প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন। এর মধ্যে রয়েছে পোড়ামাটির ফলক, মৃৎপাত্রের ভগ্নাংশ, তৈলপাত্র, পোড়া মাটির বাটি ও গুটিকা। পাওয়া গেছে স্থাপত্য নির্মাণের অবকাঠামো। এসব ষষ্ঠ থেকে একাদশ শতকের বিভিন্ন যুগের নিদর্শন বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সরকারি অর্থায়নে গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া খননকাজ চলবে মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত।

প্রতœতত্ত্ব অধিদফতর রাজশাহী ও রংপুর বিভাগীয় আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা জানান, স্থাপত্য অবকাঠামোগুলো খুবই প্রাচীন। পুরো গবেষণা না করে বলা যাচ্ছে না এসব কোনো শাসনামলের। তবে প্রতœ গবেষকরা বলছেন, আগের পাওয়া নিদর্শন থেকে ধারণামতে গুপ্ত আমলের সঙ্গে অবকাঠামোগুলোর বেশ মিল রয়েছে। আবার কিছু অবকাঠামো পাল আমলের সঙ্গেও মিল রয়েছে। বগুড়ার মহাস্থানগড় জাদুঘর ও মহাস্থান জাদুঘরের কাস্টোডিয়ানের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে মহাস্থানগড়ের অবস্থান। নব্বই দশক থেকে মহাস্থানগড়ে বিভিন্ন সময়ে খননকাজ চলছে। থেমে থেমে চলা খননকাজে পুরাকলের নিদর্শন পাওয়া যায়।

বগুড়ার মহাস্থানগড়ে লইয়েরকুড়ি ভিটার উত্তর-পশ্চিম কোণে এবং মহাস্থান জাদুঘর থেকে দক্ষিণ দিকে অবস্থিত বৈরাগীর ভিটা। এই ভিটায় নিজস্ব অর্থায়নে আট সদস্যের একটি কমিটির তত্ত্বাবধানে তৃতীয় দফায় শুরু হয়েছে খননকাজ। খননকাজে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা বলছেন, খননকালে বেশ কিছু পোড়া মাটির ফলক, পাত্র, কিছু ভগ্নাংশ পাওয়া গেছে। এসব গুপ্ত আমল থেকে শুরু করে একাদশ শতাব্দীর শাসনামলের বিভিন্ন নির্মাণশৈলীর সঙ্গে মিল রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে পাওয়া মন্দিরের অবকাঠামোর মতো বলে মনে করছেন প্রতœ গবেষকরা।

রাজশাহী ও রংপুর বিভাগীয় আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা আরো জানান, অতি সাবধানি হয়ে চলছে খননকাজ। এ পর্যন্ত পাওয়া প্রাচীন নিদর্শনগুলো নিয়ে আরো গবেষণার প্রয়োজন আছে। তিনি আরো জানান, ষষ্ঠ শতাব্দী থেকে একাদশ শতাব্দী পর্যন্ত বিভিন্ন সময় এই অবকাঠামোগুলো নির্মাণ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

"