সংসদ অধিবেশন

উদ্ভিদের নতুন জাত উদ্ভাবনে বিল উত্থাপন

প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

উদ্ভিদের নতুন জাত উদ্ভাবন ও স্থানীয় জনপ্রিয় জাতগুলোকে বিলুপ্তি থেকে রক্ষা করতে ‘উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণ বিল-২০১৯’ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। গতকাল রোববার সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক। কমিটিকে যাচাই-বাছাই শেষে ৪৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণ এবং কৃষক ও প্রজননবিদদের অধিকার রক্ষায় ‘উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ’ নামে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নিয়োগ করবে সরকার। উদ্ভিদের প্রজাতি নির্ধারণও এই কর্তৃপক্ষের কাজ হবে। কর্তৃপক্ষ প্রজননবিদ বা কৃষকের উদ্ভাবিত জাত ‘সংরক্ষিত জাত’ হিসেবে নিবন্ধন করবে।

প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ দেশে উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণ ও উন্নয়নে অবদানের গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রাতিষ্ঠানিক বা অপ্রাতিষ্ঠানিক যাই হোক না কেন, শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্বিশেষে গবেষণা অনুদান বা আর্থিক পুরস্কার দিতে পারবে। বিলে উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণ ও উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সম্প্রদায় বা সংস্থার অনুকূলে ‘স্বীকৃতিসনদ’ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

বিলে কোনো ব্যক্তি সংরক্ষিত জাতের মিথ্যা নাম দিলে বা নিবন্ধিত কোনো জাতের বাণিজ্যিক ব্যবহারের সময় স্বেচ্ছায় কোনো দেশ বা স্থান, প্রজননবিদ তার ঠিকানা-সংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করলে দুই বছর পর্যন্ত কারাদন্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে কৃষিমন্ত্রী সংসদে বলেন, নতুন উদ্ভাবিত জাতের অধিকার সুরক্ষার জন্য আমাদের পাশের দেশ ভারত, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, চীন, কোরিয়াসহ বিশ্বের উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণ আইন কার্যকর রয়েছে। বাংলাদেশেও উদ্ভিদের গবেষণা, জাতের উন্নয়ন, বীজ উৎপাদন, ব্যবহার, বিতরণ, বিপণন, রফতানি, প্রজনন ও জাত সংরক্ষণের সুফল কৃষকদের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার জন্য উৎসাহ, নির্দেশনা ও সহায়তার প্রয়োজন। কৃষিক্ষেত্রে মেধাস্বত্ব অধিকার সংরক্ষণের জন্য ‘উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণ বিল’ প্রণয়ন করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

"