বুড়িগঙ্গায় নৌকাডুবি

আরো ৪ যাত্রীর লাশ উদ্ধার

প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বুড়িগঙ্গায় নৌকাডুবির ঘটনায় আরো চার যাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি একজনের খোঁজে গতকাল শনিবার তৃতীয় দিনের মতো নদীতে তল্লাশি চালিয়েছে ফায়ার সার্ভিস, বিআইডব্লিউটিএ ও নৌপুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাতে নৌকাটি ডুবে গেলে ছয়জন নিখোঁজ হয়। গত শুক্রবার এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল। নৌপুলিশের সদরঘাট থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তিনি জানান, গতকাল শনিবার সকাল ৮টার দিকে আহসান মঞ্জিল জাদুঘর বরাবর নদী থেকে মাহি (৬) নামে একটি শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়।

এরপর দুপুরে দেলোয়ার (২৮) ও তার ছেলে জুনায়েদ (৬ মাস) এবং মাহির বোন মিম (৮) নামে আরো তিনজনের লাশ উদ্ধারের কথা গণমাধ্যমকে জানায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা রাশেদ সিকদার। তিনি বলেন, মিম ও মাহির মা সাহেদা বেগম (৩২) এখনো নিখোঁজ রয়েছে। তাকে উদ্ধারে কাজ চলছে।

এই নৌদুর্ঘটনায় আহত পোশাক শ্রমিক শাহজালাল নিজের ও বোনের পরিবারকে নিয়ে শরীয়তপুর যেতে গত বৃহস্পতিবার কামরাঙ্গীরচর থেকে নৌকায় করে সদরঘাট এসেছিলেন। পেছন থেকে লঞ্চে ওঠার সময় ঢেউয়ের তোড়ে নৌকাটি উল্টে গেলে ডুবে যান ছয়জন।

বিআইডব্লিউটিএর ঢাকা নৌবন্দরের যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন জানান, ওই নৌকার যাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে চলন্ত লঞ্চের পেছন দিক দিয়ে ওঠার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু লঞ্চ তখন পেছন দিকে যাওয়ায় প্রপেলারের ঢেউয়ের ধাক্কায় ছোট নৌকাটি ডুবে যায়। নৌকার মাঝি ছাড়া বাকি সবাই ডুবে গেলে সঙ্গে সঙ্গে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় শাহজালালকে।

নৌপুলিশ কর্মকর্তা রাজ্জাক জানান, লঞ্চের প্রপেলারের আঘাতে শাহজালালের দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নৌপুলিশের টহল দল তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এরপর গত শুক্রবার দুপুরের দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় নদী থেকে শাহজালালের বোন জামশেদার (২১) ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। গতকাল শনিবার দুপুরে যে দেলোয়ারের লাশ পাওয়া গেছে, তিনি নিহত জামশেদার স্বামী। এখনো নিখোঁজ সাহেদা আহত শাহজালালের স্ত্রী।

ওই নৌদুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছে বিআইডব্লিউটিএ।

 

"