২ হাজার টাকার জন্য প্রেমিকাকে বন্ধুদের দিয়ে গণর্ধষণ : পরে হত্যা

প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

হবিগঞ্জে আলোচিত রুমানা হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পিবিআই। ঘটনায় জড়িত ঘাতক প্রেমিকসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। মূলত রুমানা গণধর্ষণের প্রতিবাদ করায় গলা কেটে হত্যা করে তাকে। গতকাল শনিবার দুপুরে পিবিআই থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান হবিগঞ্জ পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কুতুবুর রহমান চৌধুরী।

তিনি জানান, ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় বন্ধু সাইফুর রহমানকে জুবায়ের জানায় আজ রাতে তোদের জন্য এক সুন্দরী মেয়েকে নিয়ে আসব আনন্দ-ফুর্তির জন্য। এজন্য তোদের প্রত্যেককে ৫০০ টাকা করে দিতে হবে। ৫০০ টাকা করে দিলে প্রেমিকাকে তোদের হাতে তুলে দেব। কথা অনুযায়ী তার বন্ধু সাইফুর রহমান, মামুনুর রশিদ, আবু সাইদ ও ইলিয়াস মিয়া ৫০০ টাকা করে দেয়। টাকা নেয়ার পর সবাইকে রাত সাড়ে ১০টায় গ্রামের ঈদগাহের কাছে থাকতে বলে জুবায়ের। রাতে বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে ঘর থেকে বের করে নিয়ে আসে একই গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে জুবায়ের আহমেদ। রাতেই জুবায়েরসহ তার বন্ধুরা রুমানাকে গণধর্ষণ করে। এ সময় রুমানা প্রতিবাদ করলে প্রেমিকসহ ঘাতকরা তাকে জবাই করে হত্যা করে। পর দিন বাড়ির পাশের একটি ধানি জমি থেকে রুমানার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ৬ আগস্ট নিহত রুমানার মা বানেছা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে বাহুবল থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।

গত বছরের ৪ ডিসেম্বর মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিকেশন পিবিআইয়ের হাতে হস্তান্তর করা হয়। মামলাটি তদন্ত করে পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক মাইনুল ইসলাম। মাইনুল ইসলাম দীর্ঘ তদন্ত করে গত ৬ মার্চ বাহুবল উপজেলার স্নানঘাট এলাকা থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামি সাইফুর রহমানকে আটক করা হয়। তার স্বীকারোক্তিতে একই দিন তার সহযোগী মামুনুর রশিদকে রাজাপুর থেকে আটক করা হয়। এরপর আরেক সহযোগী একই গ্রামের আবু সাঈদকে আটক করা হয়। তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার মূল হোতা প্রেমিক জুবায়েরকে শুক্রবার রাতে একই এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। জুবায়েরর তথ্য অনুযায়ী শুক্রবার রাতে রাজাপুর থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে আটক জুবায়েরকে আদালতের মাধ্যমে করাগারে প্রেরণ করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে মামলার তদন্ত অফিসার পুলিশ পরিদর্শক মাইনুল ইসলাম ও মোক্তাদির আলম উপস্থিত ছিলেন।

 

"