সাবেক শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা

ডাকসু হোক নেতৃত্ব তৈরির কারখানা

প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

ঢাবি প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) হয়ে উঠুক নেতৃত্ব তৈরির কারখানা। লেজুড়ভিত্তিক রাজনীতি ছেড়ে ছাত্রদের সমস্যা-সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করবে নির্বাচিতরা। এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত মিলনমেলায় অংশ নেওয়া সাবেক শিক্ষার্থীরা। গতকাল শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ‘প্রতিষ্ঠার শতবর্ষের দ্বারপ্রান্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক সাবেক শিক্ষার্থীদের মিলনমেলার আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক হাজার সাবেক শিক্ষার্থী। অনেক বছর পর সাবেক সহপাঠী-বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হলেও স্মৃতিচারণা যতটা না হয়েছে, তার চেয়ে বেশি আলোচনায় হয় আসন্ন ডাকসু নির্বাচন নিয়ে। ডাকসুর সোনালি অতীত ফিরে আসুক, তৈরি হোক আদর্শবাদী নেতা, অধিকার ফিরে পাক সাধারণ ছাত্ররাÑ এমনটিই আশা তাদের।

ডাকসুর সাবেক ভিপি ও মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, দীর্ঘ ২৮ বছর পর ডাকসুর নির্বাচন হতে যাচ্ছে। যে নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছেন মানুষ। আমি উপাচার্যকে বলেছি, নির্বাচনটা যেন সুষ্ঠু হয়, সঠিক হয়। তার কারণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলনের সূতিকাগার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নেতা তৈরির কারখানা। এখান থেকে অনেক নেতা জাতীয় নেতা হিসেবে পরিণত হয়েছে, দেশের জন্য অনেক কিছু করেছে। আমরা বিশ্বাস করি ডাকসু নির্বাচনে নির্বাচিতরা দেশের মানুষের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করেন। আমরা যারা সরকারের আছি তাদের ভুলগুলো ধরিয়ে দেবেন।

ডাকসুর প্রথম ভিপি ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বর্ণযুগ, সোনালি ঐতিহ্য, যেটা গলা টিপে হত্যা করে এক ধরনের দখলদারত্বের পরিবেশে সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়কে আবদ্ধ করে ফেলা হয়েছে। সেখান থেকে পুনরুদ্ধারের জন্য এবং নতুন করে ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ ঘটবে, সেই আকাক্সক্ষাও মনের মধ্যে তীব্রভাবে জেগে ওঠে। তিনি বলেন, আন্তরিকভাবে কামনা করি সাধারণ ছাত্রসমাজ সারা দেশের জনগণ যে ভোটাধিকার অর্জন করতে পারেননি, আজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই বরফ ভেঙে নতুন ভবিষ্যৎ রচনা করবে।

আজকের অবস্থা আইয়ুব আমলেও ছিল না উল্লেখ করে সাবেক এ ছাত্রনেতা বলেন, ‘আইয়ুব-মোনায়েমচক্র সারা দেশ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গিয়েছিল কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেনি। আমি আশা করব এবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই আমাদের বরফ ভাঙার কাজটা শুরু হবে। এরপর ছড়িয়ে পড়বে সারা দেশে।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতিচারণা করে হোসনে আরা বেগম বলেন, পুনর্মিলনে এসে অসাধারণ লাগছে, খুবই ভালো লাগছে। পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হচ্ছে কথা হচ্ছে। এখন আমি দেশের বাইরে থাকি। ছেলেমেয়ে এমনকি নাতি-নাতনিরও বিয়ে দিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনের কথা কি বলে শেষ করা যায়। এটা কখনো ভোলা যায় না।

মিলনমেলায় অংশ নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ হাজার সাবেক শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছেন বলে জানিয়েছে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। চলে স্মৃতিচারণা ও আড্ডা, চিত্রকর্ম প্রদর্শনীসহ নানা আয়োজনে মুখরিত থাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবদুল মাল আবুল মুহিত। এ ছাড়া মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, একুশে ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিক, সাংবাদিক, শিল্পী, শিল্পপতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা দেশের বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।

 

"