ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন

আইন মানছেন না কেউ কমছে কৃষিজমি

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ভূমির শ্রেণি পরিবর্তনের সরকারি বিধি-বিধান কেউ মানছেন না। সরকারি কোনো অনুমতি না নিয়েই যে যার ইচ্ছামতো ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন করছেন। কৃষি জমি বদলে হচ্ছে অকৃষি, জলাশয় কিংবা পরিত্যক্ত ভূমি হচ্ছে। উল্লাপাড়ায় ইটভাটাগুলো কৃষি জমির সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে কমছে কৃষি জমি। কমছে খাদ্য শস্য উৎপাদন।

উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে, গোটা উপজেলায় মোট কৃষি জমির পরিমাণ ৩২ হাজার ৫৮৫ হেক্টর। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুই ফসলি জমির পরিমাণ ১৮ হাজার ৫৬৫ হেক্টর। তিন ফসলি জমির পরিমাণ ১১ হাজার ৯৯০ হেক্টর। এক ফসলি জমির পরিমাণ ২ হাজার ৩০ হেক্টর। ভূমির শ্রেণিতে মোট ৩২ হাজার ৫৮৫ হেক্টরের মধ্যে একেবারে উঁচু জমির পরিমাণ ৪ হাজার ৬৯০ হেক্টর। মাঝারি উঁচু জমির পরিমাণ ১৪ হাজার ৬১০ হেক্টর, মাঝারি নিচু জমির পরিমাণ ৫ হাজার ৮৬৯ হেক্টর, নিচু জমির পরিমাণ ৬ হাজার ১৪৫ হেক্টর ও অতি নিচু জমির পরিমাণ ১ হাজার ২৭১ হেক্টর। গড় হিসেবে নিচু জমির পরিমাণ ১৩ হাজার ২৭৫ হেক্টর, মাঝারি জমির পরিমাণ ১৪ হাজার ৬১০ হেক্টর। মোট জমির ১৩ শতাংশ হলো উঁচু শ্রেণির জমি।

উল্লাপাড়ায় সবচেয়ে বেশি পরিমাণ জমিতে রবি ফসলের আবাদ হয়। সরকারি বিধিবিধানে যেকোনো ভূমির শ্রেণি পরিবর্তনে সরকারি অনুমোদন নেয়া দরকার রয়েছে বলে জানা যায়। একজন জমির মালিককে ভূমির শ্রেণি পরিবর্তনে অর্থাৎ সমতল ভূমির মাটিকাটা, কোনো জলাশয় কিংবা পুকুর খনন, বসতবাড়ি নির্মাণে নিজ ইউনিয়ন পর্যায়ে ভূমি অফিসের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে ভূমি অফিস ও জেলা পর্যায়ে আবেদন করার বিধান রয়েছে বলে জানা যায়। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরেজমিন তদন্ত শেষে এর প্রতিবেদন উপজেলা ভূমি অফিসে পাঠানোর নিয়ম আছে। সেখানে উল্লাপাড়ায় ভূমির শ্রেণি পরিবর্তনে কোনো বিধিবিধান মানা হচ্ছে না। জমির মালিকরা তাদের ইচ্ছা মতো শ্রেণি পরিবর্তন করছে। সরকারের ভূমি ব্যবহার নীতিমালায় কৃষি জমির টপসয়েল নষ্ট করা যাবে না। এছাড়া কোনো কৃষি জমিতে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। কৃষি জমি কৃষি হিসেবেই রাখতে হবে। ভূমির শ্রেণি সহজেই পরিবর্তন করা যাবে না।

উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন করা হচ্ছে। সেখানে ফসলি জমি মাটি কেটে খনন করা হচ্ছে পুকুর। যার বেশির ভাগই অনুমতি না নিয়েই করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই ইউনিয়নের চৈত্রহাটি পূর্বপাড়ায় সরকারি কোনো অনুমতি ছাড়াই ইসমাইল হোসেন তার কৃষি জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে পুকুর খননকালে স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আবদুল কাইয়ুম জানান, অনুমতি না নিয়েই পুকুর খনন ও ইটভাটায় মাটি বিক্রির বিষয়ে বেশ কয়টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব বিষয়ে উপজেলা ভূমি অফিসে জানানো হয়েছে।

উল্লাপাড়ায় কৃষি জমির মাটি ইটভাটায় বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে। কৃষকরা বিভিন্ন প্রলোভনে তা বিক্রি করছে। উল্লাপাড়ার তেলকুপি, পাগলা, গোজা, শ্রীকোলা, ঘিয়ালা, রাজমান, বড়হর, বোয়ালিয়া, চড়ুইমুড়ি, চালাসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষি জমি মাটি ব্যাপক হারে ইটভাটায় কেটে নেয়া হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. খিজির হোসেন প্রামাণিক বলেন, ভূমি শ্রেণি পরিবর্তন করে পুকুর খনন, ইটভাটায় মাটি বিক্রি করায় কৃষি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এর রোধে কৃষি অফিসের আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কোনো ক্ষমতা নেই। তবে মৌখিকভাবে কৃষি জমির ভূমি শ্রেণি পরিবর্তন না করার বিষয়ে তার বিভাগ থেকে পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান জানান, কৃষি জমি শ্রেণি পরিবর্তন করতে হলে অবশ্যই নিয়ম বিধান মানতে হবে। কেউ শ্রেণি পরিবর্তন করছে এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

"