বিশ্ব ইজতেমা : নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তায় পুরো এলাকা

* গাড়ি পার্কিং ও যানবাহন চলাচলে ডিএমপির নির্দেশনা * প্রতি ইঞ্চি জায়গা সিসি টিভির আওতায় : আইজিপি

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:১৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
ama ami

দেশের সর্ববৃহৎ মুসল্লি জমায়েতকে ঘিরে বিশ্ব ইজতেমা প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশ এলাকায় নিñিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে নজিরবিহীন নিরাপত্তাবেষ্টনীতে থাকছে এবারের ইজতেমা প্রাঙ্গণ। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে ইজতেমা মাঠ ও এর আশপাশের সব এলাকায় কয়েক হাজার সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এতে ইজতেমার প্রতি ইঞ্চি জায়গা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে থাকবে। আছে ওয়াচ টাওয়ার। র‌্যাবের হেলিকপ্টার টহল। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি তো আছেই।

গতকাল বুধবার টঙ্গীর পৌরসভা মাঠে ‘বিশ্ব ইজতেমা-২০১৯’ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেলের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, গাজীপুরের পুলিশ কমিশনার ওয়াইএম বেলালুর রহমান, তাবলিগের মাওলানা জোবায়েরপন্থিদের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, মাহফুজুর রহমান, মুফতি নেছার উদ্দিন এবং সা’দপন্থিদের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার মুহিবুল্লাহ, হাজী মোহাম্মদ হোসেন, হারুন অর রশীদসহ অনেকে।

ফলোআপ সভায় আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, বিশ্ব ইজতেমাকে ঘিরে যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে না পারে, সে জন্য মাঠ ও এর আশপাশের সব এলাকায় সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। ইজতেমার প্রতি ইঞ্চি জায়গা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে থাকবে। ইজতেমায় এবার নিরাপত্তাব্যবস্থা অন্যবারের চেয়ে অনেক গুণ বাড়ানো হয়েছে। সিসি ক্যামোরা কাভারেজ অনেক গুণ বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া র‌্যাবের হেলিকপ্টার টহল থাকবে। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু হয়ে গেছে। বিদেশি মেহমানদের প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, ‘বিদেশ থেকে যারা আসছেন, তাদের প্রত্যেকের তালিকা আমাদের কাছে আছে। প্রতি মুহূর্তে তালিকা আপডেট করা হচ্ছে। কাজেই নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, ইজতেমায় এবার বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকছে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, কেউ যদি কোনো অনিয়ম করতে চায়, সেটি সঙ্গে সঙ্গে প্রতিহত করা হবে। কাজেই আপনারা সর্বাত্মকভাবে আমাদের সহযোগিতা করুন। যাতে সুদৃঢ় মুসলিম হিসেবে বাংলাদেশের যে সুনাম সেটি অক্ষুণœ থাকে।

ইজতেমায় পুলিশের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা : এদিকে বিশ্ব ইজতেমা চলাকালে ট্রাফিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গাড়ি পার্কিং ও যানবাহন চলাচলের বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। গতকাল ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব এবং দ্বিতীয় পর্ব ১৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। দেশি-বিদেশি লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মানুষ যেন নির্বিঘেœ যাতায়াত করতে পারেন সেই কারণে পুলিশের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইজতেমা চলাকালে রেইনবো ক্রসিং থেকে আবদুল্লাহপুর হয়ে ধউর ব্রিজ পর্যন্ত এবং রামপুরা ব্রিজ থেকে প্রগতি সরণি পর্যন্ত রাস্তায় ও রাস্তার পাশে কোনো যানবাহন পার্কিং করা যাবে না।

ঢাকা বিভাগের মুসল্লিরা সোনারগাঁ জনপথ চৌরাস্তা থেকে দিয়াবাড়ী খালপাড় পর্যন্ত গাড়ি পার্কিং করবে। সিলেট বিভাগের গাড়ি পার্কিং হবে উত্তরার ১৫ নম্বর সেক্টর খালপাড় থেকে দিয়াবাড়ী গোলচত্বর পর্যন্ত। ঢাকা মহানগরের গাড়ি পার্কিং করতে হবে উত্তরার শাহজালাল অ্যাভিনিউ, নিকুঞ্জ-১ এবং নিকুঞ্জ-২-এর আশপাশের খালি জায়গায়। চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে আসা মুসল্লিরা গাউসুল আজম অ্যাভিনিউয়ের (১৩ নম্বর সেক্টর রোড) পূর্বপ্রান্ত থেকে পশ্চিমপ্রান্ত হয়ে গরিবে নেওয়াজ রোডে গাড়ি পার্কিং করবেন।

খুলনা বিভাগ থেকে আসা গাড়ি পার্কিং হবে উত্তরার ১৭ ও ১৮ নম্বর সেক্টরের প্রধান সড়কের পাশে খালি জায়গায়। রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের মুসল্লিরা গাড়ি পার্কিং করবেন প্রত্যাশা হাউজিংয়ে। বরিশাল বিভাগের গাড়ি পার্কিং হবে ধউর ব্রিজ ক্রসিংসংলগ্ন বিআইডব্লিউটিএ ল্যান্ডিং স্টেশন এলাকায়। ডিএমপির বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, নির্ধারিত স্থানে পার্কিং করা গাড়িতে চালক অথবা সহকারী (হেলপার) অবস্থান করবেন। মুসল্লিরা গাড়ির মালিক ও চালকের মোবাইল ফোন নম্বর রাখবেন, যেন বিশেষ প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়।

আশুলিয়া থেকে আবদুল্লাহপুরগামী যানবাহনগুলো আবদুল্লাহপুরপুর না এসে ধউর ব্রিজ ক্রসিং থেকে ডানে মোড় নিয়ে মিরপুর বেড়িবাঁধ ব্যবহার করবে। মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে আবদুল্লাহপুরগামী আন্তজেলা বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ সব ধরনের যানবাহন মহাখালী ক্রসিং থেকে বামে মোড় নিয়ে বিজয় সরণি-গাবতলী দিয়ে চলাচল করবে। কাকলী, মিরপুর থেকে উত্তরাগামী বড় বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান হোটেল র‌্যাডিসন গ্যাপে ডাইভারশন পাবে। কাকলী, মিরপুর থেকে উত্তরাগামী প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশাগুলোকে নিকুঞ্জ-১ গেটের সামনে ডাইভারশন দেওয়া হবে। প্রগতি সরণি থেকে আবদুল্লাহপুরগামী যানবাহনগুলো কুড়িল ফ্লাইওভারের নিচে লুপ-২ থেকে ডাইভারশন করা হবে। এই রুটগুলোর বিকল্প সড়ক ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হয় ডিএমপির পক্ষ থেকে।

দুই পর্বের আখেরি মোনাজাতের দিন (১৬ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি) ডাইভারশন করা হবে। ডাইভারশন পয়েন্টগুলো হলো মহাখালী ক্রসিং, হোটেল র‌্যাডিসন গ্যাপ, প্রগতি সরণি, কুড়িল ফ্লাইওভারের নিচের লুপ-২, ধউর ব্রিজ ও বেড়িবাঁধঘেঁষা উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের প্রবেশমুখ। দুই পর্বের আখেরি মোনাজাতের দিন বিমান অপারেশনস ও বিমান ক্রু বহনকারী যানবাহন, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স বিমানবন্দর সড়ক ব্যবহার করে চলাচল করতে পারবে।

আখেরি মোনাজাতের দিন ভোর ৪টা থেকে ট্রাফিক উত্তর বিভাগের ব্যবস্থাপনায় দুটি মিনিবাস ও দুটি মাইক্রোবাস বিদেশগামী বা বিদেশফেরত যাত্রীদের নিকুঞ্জ-১ আবাসিক এলাকার গেট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বিনামূল্যে পরিবহন সেবা দেবে। ট্রাফিক সম্পর্কিত যেকোনো তথ্যের জন্য প্রয়োজনে সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (উত্তরা ট্রাফিক জোন : ০১৭১৩-৩৯৮৪৯৮) অথবা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই-উত্তরা ট্রাফিক জোন ০১৯১২-০২৫৯৩৯) নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়।

"