রাজস্ব কর্মকর্তাদের ‘পদক’ দেবে এনবিআর

প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ama ami

রাজস্ব আহরণে উৎসাহ জোগাতে এবং কর্মক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রাজস্ব প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জন্য প্রথমবারের মতো পদক প্রবর্তন করা হচ্ছে। এই পদক দেওয়া হবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তিনটি বিভাগ আয়কর, কাস্টমস এবং মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট কর্মকর্তাদের। এ বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে এনবিআর। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে এই পদক চালুর পরিকল্পনা রয়েছে এনবিআরের।

এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া বলেন, পুলিশ পদকের আদলে রাজস্ব পদক প্রবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যারা কর আহরণ করছেন, তাদের কাজের উৎসাহ জোগাতে চলতি অর্থবছর থেকে এই পদক প্রবর্তন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, পুলিশ পদকের আদলে রাষ্ট্রপতি রাজস্ব পদক, অর্থমন্ত্রী রাজস্ব পদক এবং এনবিআর চেয়ারম্যান রাজস্ব পদকÑ এই তিন ক্যাটাগরিতে কর কর্মকর্তাদের পদক প্রদানের প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আয়কর দিবস, কাস্টমস দিবস এবং ভ্যাট দিবসে এই পদক প্রদান করা হবে। এ ক্ষেত্রে পদকপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পুরস্কার হিসেবে থাকবে সনদ, ক্রেস্ট এবং অর্থ।

জানা যায়, পদক প্রদানের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্ব ও সততা, কর্মদক্ষতা এবং রাজস্ব আহরণে অবদান এসব বিবেচনায় নেওয়া হবে। তবে পদকের জন্য কর্মকর্তা নির্বাচনের পদ্ধতি এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এনবিআরের কর্মকর্তারা মনে করেন, রাজস্ব প্রশাসনে যারা ভালো কাজ করছেন, যারা কর আহরণে অবদান রাখছেন এই পদক প্রবর্তন তাদের আরো উদ্বুদ্ধ করবে। এই পুরস্কার তাদের জন্য প্রণোদনা হিসেবে কাজ করবে। পদক প্রদানের পুরো কর্মপদ্ধতি ঠিক করতে শিগগিরই কমিশনারদের নিয়ে সভা করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই থেকে ডিসেম্বর) এনবিআর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব আদায় কম হয়েছে প্রায় ২৮ হাজার ৭৮৭ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে ১ লাখ ২৬ হাজার ২৭ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এনবিআর আদায় করতে পেরেছে প্রায় ৯৭ হাজার ২৪০ কোটি টাকা। তবে গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে আদায় বেড়েছে সাড়ে পাঁচ শতাংশ। যদিও গত অর্থবছরের প্রথমার্ধে আদায়ে প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ১৫ শতাংশ।

এনবিআর সূত্র জানায়, আমদানি শুল্ক ও স্থানীয় পর্যায়ে ভ্যাট আদায়ে বেশি পিছিয়ে এনবিআর। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। গত ছয় মাসে ৪০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আমদানি শুল্ক আদায় হয়েছে ৩০ হাজার ৫০২ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে শুল্ক আদায় হয়েছিল ২৯ হাজার ৭১২ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত ছয় মাসে শুল্ক আদায় বেড়েছে মাত্র ২ দশমিক ৭২ শতাংশ। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে শুল্ক আদায়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৯ শতাংশের বেশি। গত ছয় মাসে ৫০ হাজার ২৪ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ভ্যাট আদায় হয়েছে ৩৭ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ভ্যাট আদায় হয়েছিল ৩৬ হাজার ৫৩১ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে গত ছয় মাসে আদায় বেড়েছে ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ। অথচ গত অর্থবছরে ভ্যাট আদায়ে প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ২০ শতাংশ। এ দুটি খাতের চেয়ে আয়কর আদায়ে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেশি, প্রায় ১১ শতাংশ। তবে আয়কর খাতেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আদায় কম হয়েছে প্রায় পৌনে ৭ হাজার কোটি টাকা।

এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচনের আগে সরকার কয়েকটি জনবান্ধব খাতে আয়কর, ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক ছাড় দিয়েছে। এ কারণে রাজস্বে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশেষত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানিতে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক ছাড় দেওয়ায় এ খাত থেকে চলতি বছর প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য রাজস্ব কমবে। অন্যদিকে ইন্টারনেট সেবায় ভ্যাট ছাড় এবং কিছু খাতে কর ছাড়ও দেওয়া হয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে রাজস্বে। এছাড়া পেট্রোবাংলাসহ কয়েকটি খাত থেকে বড় অঙ্কের রাজস্ব বকেয়া পড়ে থাকলেও সমন্বয়ের অভাবে ওই অর্থ আদায় হচ্ছে না। কেবল পেট্রোবাংলার কাছেই প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব বকেয়া রয়ে গেছে। এনবিআরের আওতাধীন সংশ্লিষ্ট ভ্যাট অফিস থেকে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তাতে কাক্সিক্ষত সুফল মেলেনি।

এদিকে গত রোববার এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, এই মুহূর্তে আমরা রাজস্ব আহরণে কিছুটা হলেও পিছিয়ে আছি। রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আরো কীভাবে রাজস্ব আয় বাড়ানো যায় সে উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য রাজস্ব আয় আরো বাড়ানো।

"