বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে পতেঙ্গায়

প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

জিয়াউল হক ইমন, চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য চট্টগ্রাম নগরীর সাগর তীরবর্তী পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। চলমান আউটার রিংরোড প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) উদ্যোগে আধুনিক পর্যটন সুবিধা এবং অককাঠামোগত আধুনিক নির্মাণশৈলীতে গড়ে তোলা হচ্ছে পতেঙ্গা সমুদ্র্র্র সৈকতকে। দেশি-বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ করতে পরিকল্পিতভাবে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের সব অবকাঠামো ও আয়োজন থাকবে সেখানে।

কর্ণফুলীর মোহনা থেকে বঙ্গোপসাগরের তীরঘেঁষে ৩০ ফিট ব্যাসে প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার এলাকায় গড়ে তোলা হচ্ছে আধুনিক ও বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্র। এক লাখ লোক একসঙ্গে হাঁটার জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে ওয়াকওয়ে। প্রায় ১০০০ গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা নিয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে বিশেষায়িত পর্যটন প্লাজা। সৈকতে প্রবেশের সড়কটি প্রশস্ত করা হচ্ছে ৮০ ফুট। আধুনিক বিশ্বের পর্যটনকেন্দ্রের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা থাকবে পতেঙ্গা সৈকতে। থাকবে বসার জন্য সুন্দর ও সুপরিসর আসন, শিশুদের জন্য আলাদা কিডস কর্নার, ফুড কোর্ট, গ্রিন জোন, খেলার মাঠ, ক্যাবলকার, উন্নত মানের রাইড, সাগরে নিরাপদে ওঠানামার জন্য জেটি, সাঁতারের পর গোসলের ব্যবস্থা, কার পার্কিং এবং আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেটের ব্যবস্থা।

পর্যটকদের জন্য উন্নত মানের সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি মাথায় রেখে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতকে আধুনিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়াস বলে দাবি করেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক কাজী হাসান বিন শামস।

এই প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘পতেঙ্গা এলাকাটি দুটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। জোন ওয়ান ও জোন টু, জোন ওয়ান হচ্ছে পঙ্গেতা বিচ আর জোন টু হচ্ছে পাঁচ কিলোমিটার শেষে রিংরোড। সেখান থেকে আসা-যাওয়ার জন্য ক্যাবলকারের ব্যবস্থা থাকবে। প্রাথমিকভাবে দুই জোনের আনুমানিক ব্যয় ৪ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে। সব ঠিকঠাক থাকলে জোন ওয়ানের কাজ আগামী মার্চ মাসের মধ্যে শেষ করার কথা রয়েছে।’

‘পর্যায়ক্রমে পাঁচতারকা মানের হোটেল, কনভেনশন হল, শপিং মলসহ আরো নানা পর্যটন সুবিধা পতেঙ্গায় গড়ে তোলার ব্যাপারে সিডিএর পরিকল্পনা আছে বলে তিনি প্রতিদিনের সংবাদকে জানান।’

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে বিশ্বমানের বিনোদনের জন্য যেসব উপাদান প্রয়োজন, সেসব উপাদান পতেঙ্গা বিচে নেই। বর্তমানে সেই শূন্যতা পূরণ করতে চলেছি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধাসহ পতেঙ্গাকে একটি বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। সেই অনুযায়ী কাজ চলছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এই পতেঙ্গাকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসংবলিত একটি পর্যটন হিসেবে চট্টগ্রামের মানুষ দেখতে পাবে বলে জানান তিনি।

"