মা-বাবার কলহের ‘বলি’ শিশু : খাটের নিচে লাশ

প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
ama ami

২০১২ সালে প্রেম করে সংসার পাতেন গাজীপুরের কাপাসিয়ার চাঁপাত গ্রামের রফিকুল ও নাছরিন। অভাবের সংসারে এক বছর পরই আসে ফুটফুটে এক কন্যাসন্তান। নাম রাখেন মনিরা আক্তার। কন্যার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ওমান পাড়ি জমান রফিকুল। স্ত্রীর বিষয়ে নানা অভিযোগ পেয়ে তিনি ওমান থেকে দেশে ফিরে আসেন। গাজীপুরে এসে বিভিন্ন স্থানে তারা চাকরি শুরু করেন। ভালোই চলছিল তাদের সুখের সংসার। এক পুরুষের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক করে স্বামী ও একমাত্র কন্যাসন্তান ফেলে চলে গিয়েছিল নাছরিন। পরে অনেক কষ্টে স্বামী রফিকুল ইসলাম নাছরিনকে ফিরিয়ে এনে পুনরায় সংসার শুরু করেন। তবে স্ত্রী নাসরিন সংশোধন হননি। একমাত্র সন্তানকে বিভিন্ন সময় ঘরে ফেলে রেখে পরকীয়ার টানে সময় কাটাত বাহিরে। এ নিয়ে প্রায়ই তাদের সংসারে অশান্তি লেগেই থাকত। গত শুক্রবার দুপুরে বাবা-মায়ের নামে মিলাদ পড়ান রফিকুল। সেই মিলাদে আগত রফিকুলের বন্ধুদের মুখে খাবার তুলে খাইয়ে দেয় নাছরিন। এ নিয়ে সেদিন তাদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। মারামারি শেষে রফিকুল ইসলাম স্ত্রীকে উচ্চৈঃস্বরে বলে তুই কোনোদিন মানুষ অইতি না, তোর লগে সংসার করবার বহুত চেষ্টা করলাম, পারলাম না। এ ঘটনার একদিন পর স্ত্রী নাছরিন প্রতিদিনের মতো সকালে কাজে চলে যান। দুপুরে খাবার বিরতিতে বাসায় এসে মেয়েকে নিজ হাতে ভাতও খাওয়ান। ওইদিন রফিকুল কাজে না গিয়ে বাড়িতে অবস্থান করছিল। সন্ধ্যায় নাছরিন কাজ থেকে বাড়িতে ফিরে মেয়ে ও স্বামীকে খুঁজে পাচ্ছিল না। আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে থানার যান। পরে পুলিশ এসে থাকার ঘরে খাটের নিচ থেকে একটি সিলভারের পাতিলে শিশুকন্যার লাশ খোঁজে পায়। একমাত্র সন্তানকে হত্যার রাতেই রফিকুল ইসলাম ঠিক করে আত্মহত্যা করবে। আত্মহত্যা করতে জয়দেবপুর রেললাইনেও যান। পরে পুলিশ গিয়ে সোমবার ভোররাতে সেখান থেকে রফিকুলকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় রফিকুলকে আসামি করে শ্রীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেছে নাছরিন।

গ্রেফতারকৃত রবিকুল ইসলাম হত্যার কথা স্বীকার করে গাজীপুরের বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শামীমা খাতুনের বিচারিক আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার এস আই মো. মাহামুদুল হাসান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বীমী-স্ত্রী রফিকুল-নাছরিন দম্পতির মাঝে পারিবারিক কলহের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে। আদালতে ঘাতক বাবা শ্বাসরোধে কন্যাশিশুকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। রফিকুল ও নাছরিন শ্রীপুর উপজেলার কেওয়া দক্ষিণখ- গ্রামে ইয়াসিনের বাড়িতে ভাড়া থেকে স্থানীয় ডেনিমেক কারখানায় চাকরি করত।

"