জাবিতে মাসে ক্ষতি সাড়ে ৬ লাখ টাকা

তিন বছর ধরে ওয়ার্কশপে পড়ে আছে ২ বাস

প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

তহিদুল ইসলাম, জাবি
ama ami

রাজধানীর একটি ওয়ার্কশপে প্রায় তিন বছর ধরে পড়ে আছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) দুইটি বাস। বছর তিনেক আগে মেরামতের উদ্দেশে ওয়ার্কশপে তিনটি বাস দেয়া হলেও মেরামত করে ফেরত আনা গেছে একটি বাস। বাকি দুইটি বাস ওয়ার্কশপেই পড়ে আছে। আর এই দুইটি বাস পরিত্যক্ত পড়ে থাকার কারণে ঘাটতি মেটাতে বিআরটিসি ও একটি বেসরকারি পরিবহন কোম্পানির বাস ভাড়া করে চালানো হচ্ছে। এতে বাস দুইটির বিকল্প হিসেবে ভাড়া করা দুইটি বাসের পেছনে ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে অন্তত সাড়ে ৬ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের মার্চে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩টি হিনো পুরনো বাস (ঢাকা মেট্রো-চ-০৮-০০০২, ঢাকা মেট্রো-চ-০৮-০০১৯, ঢাকা মেট্রো-চ-০৮-০০২০) মেরামতের উদ্দেশে রাজধানীর আনোয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে নেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন রেজিস্ট্রার নিজ উদ্যোগে বাস তিনটি সেখানে মেরামতের উদ্দেশে দেন। এরপর ওই বছরের ৮ মে বাস মেরামতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে তৎকালীন রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিককে প্রধান করে একটি কমিটি করা হয়। তবে বাস সংস্কারে ওই কমিটি কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি। আর গাড়ি মেরামতে কমিটি কোনো কাজ না করায় ২০১৮ সালের ১২ মার্চ উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের নেতৃত্বে একটি সভা হয়। সভায় গাড়ি মেরামতের সিদ্ধান্ত হয়। গত বছর প্রয়োজনীয় ৭ লাখ ২৩ হাজার ৪০০ টাকা পরিশোধ করলে প্রতিষ্ঠানটি একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-চ-০৮-০০১৯) মেরামতের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। তবে এরপর বাকি দুইটি বাস মেরামত করে আনা যায়নি। এতে এখনো দুইটি বাস সেই ওয়ার্কশপেই পড়ে আছে।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে বাস দুইটি অচল থাকার কারণে বাস দুইটির বিকল্প হিসেবে ভাড়া করা বাস দিয়ে ঘাটতি মেটাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে ভাড়া করা বাসের পেছনে ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকা ক্ষতি হচ্ছে।

সূত্র জানায়, সরকারি প্রতিষ্ঠান বিআরটিসি থেকে ভাড়া করা বাস এক কিলোমিটারে ১.৬০ টাকা (আসনপ্রতি) হারে ভাড়া পরিশোধ করতে হয়। অন্যদিকে মা পরিবহন থেকে ভাড়া করা দুইটি বাস এক কিলোমিটারে ১.৪০ টাকা (আসনপ্রতি) হারে ভাড়া পরিশোধ করতে হয়। সে হিসেবে তুলমামূলক কম ভাড়ায় পাওয়া মা পরিবহনের দুইটি বাসের পেছনেই ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়। এই বছরের জানুয়ারিতে মা পরিবহনের দুইটি বাসের ভাড়া বাবদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যয় হয় ৬ লাখ ৪৯ হাজার ৫৩০ টাকা। গত বছরের ডিসেম্বরে এই অর্থের পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৫৪ হাজার ২৩৪ টাকা। তবে আনোয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে পড়ে থাকা বাস দুইটি মেরামত করা হলে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাগারে থেকে যেত।

আনোয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের কর্ণধার আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা ২০১৬ সালে রেজিস্ট্রারের কাছ থেকে ৩টি গাড়ি নিয়ে আসি। গাড়িগুলো দীর্ঘদিন ধরে পড়ে ছিল। তখন বলছিল, টাকা দেবে। এরপর একটা গাড়ি মেরামত করে দিয়ে দেয়ার ৬ মাস পর টাকা পেয়েছি। আমরা বলেছি, আপনারা টাকা দেন আমরা গাড়ি দিয়ে দেব। কিন্তু তারা বলছে গাড়ি মেরামত করে দিলে টাকা দেবে। গাড়ি মেরামত করার এত পর যদি টাকা পাই তাহলে আমরা কীভাবে মেরামত করব। তিন বছর ধরে আমার এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি রয়েছে। প্রতি মাসে গাড়ি রাখার জন্য প্রতি গাড়ি বাবদ আমার ৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়।

এ বিষয়ে পরিবহন অফিসের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক আলী আজম তালুকদার বলেন, তৎকালীন রেজিস্ট্রার কাউকে না জানিয়ে ওই ওয়ার্কশপের কাছে মেরামতের জন্য তিনটি বাস দিয়ে দেন। বাস মেরামতে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে খরচ হতো তার চেয়ে কম খরচে মেরামত করার জন্য তিনি দায়িত্ব নিয়ে এ কাজ করেন। কিন্তু সেটা এখনো মেরামত হয়নি। টাকা পরিশোধের পর একটা বাস তারা (ওয়ার্কশপ) দিয়েছে। আমি দায়িত্বে আসার পর দুইবার মিটিং করেছি। সেখানে ওয়ার্কশপের মালিক ছিলেন। আমাদের কথা হয়েছিল, তারা আমাদের একটি বাস দেয়ার পর আমরা টাকা দেব। আর একটির টাকা দিলে আরেকটা বাস মেরামত করে দেবে। কিন্তু তারা এখন কথা রাখছে না।

এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আমির হোসেন বলেন, আগে এই বাসগুলো আনার কোনো উদ্যোগ ছিল না। এখন আমাদের সঙ্গে ওয়ার্কশপের মালিকের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা মেরামত করে দিলে আমরা সঙ্গে সঙ্গেই চেক দিয়ে দেব। টাকা দিয়েই আমরা বাস আনব। টাকা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। তাদের সঙ্গে আমাদের এ রকমই কথা হয়েছে।

"