আ.লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ : আদিতমারী রণক্ষেত্র

প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন নিয়ে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় ১৪ জন আহত হয়েছেন। গতকাল রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় আদিতমারী উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান দলের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক সাপ্টিবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল আলম। কিন্তু একই পদে দলের মনোনয়ন চান জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদ সামছুল ইসলাম সুরুজের ছেলে বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত আলীর ভাইপো ইমরুল কায়েস ফারুক। যিনি গত নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষের প্রার্থীর কাছে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন এবং অল্প ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। এছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সিরাজুল হকও মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন।

দলীয় মনোনয়ন পেয়ে ঢাকা থেকে রংপুর হয়ে বাড়ি ফিরার পথে রফিকুল আলমকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে তার অনুসারীরা মোটরসাইকেল সোভাযাত্রা নিয়ে গংগাচড়া শেখ হাসিনা সেতুর দিকে রওনা হন। পথিমধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের কাছে পৌঁছলে বিদ্রোহী গ্রুপের নেতাকর্মীরা তাদের পথ রোধ করেন। এ সময় দুই গ্রুপে সংঘর্ষ শুরু হয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

এতে উভয় পক্ষের ১৫ থেকে ২০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর হয়। আহতদের উদ্ধার করে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে পুরো উপজেলায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। দফায় দফায় হামলা পাল্টা হামলায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় গোটা আদিতমারী উপজেলা। মাঝে মাঝে গুলির শব্দ শোনা গেছে। আদিতমারী থানার ওসি মাসুদ রানা জানান, আতঙ্কের কিছু নেই। বর্তমানে উভয় পক্ষ শান্ত রয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

"