নওগাঁ সরকারি গ্রন্থাগার

বেড়েছে পাঠক : বসার স্থান কম

প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

নওগাঁ প্রতিনিধি
ama ami

বই মানুষের জ্ঞান বাড়িয়ে দেয়। খোলে দেয় বুদ্ধির দুয়ার। সমাজ ও সংসারের দরকারি জ্ঞান ছাড়া প্রকৃত মানুষ হওয়া যায় না। মানুষ দুই ধরনের হয়। জ্ঞানী মানুষ আর জ্ঞানবিহীন মানুষ। জ্ঞানী মানুষ নিয়মিত জ্ঞানচর্চা করেন এবং বই পড়েন। জ্ঞানবিহীন মানুষ বই পড়েন না। জ্ঞানহীন মানুষ আর ভারবাহী প্রাণীর মধ্যে খুব একটা প্রার্থক্য নেই। এলাকার সব বয়সের মানুষের মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে নওগাঁ শহরের কালীতলায় ১৯৮২ সালে গণগ্রন্থারের যাত্রা শুরু হয়। তখন শহর থেকে কিছুটা দূরে হওয়ায় পাঠকদের আনাগোনা ছিল কম। এরপর ২০১১ সালে শহরের দয়ালের মোড়ে নিয়ে আসা হয় এটিকে। এই গ্রন্থাগারে ৩৫টি সেলফে আত্মজীবনী, গল্প, উপন্যাস, ইসলামিক, একাডেমির বই ও ছোটদের ছড়াসহ ২৭ হাজার বই রয়েছে। এখন এই গ্রন্থাগারে পাঠক বেড়েছে অনেক। এতে অনেকে বসার জায়গা পেতেও হিমশিম খান। এ গ্রন্থাগারে একজন প্রথম শ্রেণির গ্রন্থাগারিক, একজন সহকারী গ্রন্থাগারিক, একজন জুনিয়র গ্রন্থাগারিক ও একজন অফিস সহকারী আছেন। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে এটি। বন্ধ থাকে বৃহস্পতি ও শুক্রবার।

এই গ্রন্থারের পাঠকদের নিয়ে একটি পাঠক ফোরাম গঠন করা হয়েছে। যেখানে সপ্তাহে দুই দিন ক্লাস ও পরীক্ষা হয়। শিক্ষার্থীরা যে যে বিষয়ের ওপর পড়াশোনা করেছেন, মূলত তারাই ক্লাস নিয়ে থাকেন। প্রতিদিন অন্তত ২০০ পাঠকের আগমন ঘটে এই গ্রন্থাগারে।

নওগাঁ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ইলিয়াস হোসেন বলেন, চাকরির বই পড়ার পাশাপাশি বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনী পড়ি। সাপ্তাহিক দুই দিন রোববার ক্লাস ও বুধবার পরীক্ষা হয়ে থাকে। এর জন্য সার্বিক সহযোগিতা করেছেন জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান। মূলত তিনি পাঠক ফোরাম গঠন করে দিয়েছেন আমাদের সুবিধার জন্য। অনেক সময় তিনি নিজেও আমাদের ক্লাস নেন। বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতিসহ দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির চাকরির প্রস্তুতির জন্য এই গ্রন্থাগারে এসে নিয়মিত পড়াশোনা করেন তরুণ-তরুণীরা।

পাটক নাজনিন নাহার বলেন, বাড়িতে সব পত্রিকা কিনে পড়া সম্ভব না। তাই সকালে এখানে এসে পত্রিকা পড়ি। বিশেষ করে কলাম, খেলার পাতা ও আন্তর্জাতিক পাতা পড়তে ভালো লাগে।

গ্রন্থাগারিক এস এম আশিফ বলেন, দিন দিন পাঠক সংখ্যা বাড়ছে। এতে স্থান সংকুলানেরও সমস্যা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান জানালেন, গ্রন্থাগারের পাঠকস্বল্পতা দূর করতে ফোরাম গঠন করায় পাঠকদের আগ্রহ বেড়েছে। পাঠক সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

"