নেত্রকোনায় জমি নিয়ে বিরোধ

দুই পরিবার বাড়িছাড়া শিশুদের লেখাপড়া বিঘ্ন

প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

হুমায়ুন কবির, কেন্দুয়া (নেত্রকোনা)

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই ভাই বাচ্চু মিয়া ও আবদুস সালামের পরিবারকে মারধর করে বাড়িছাড়া করা হয়েছে। জমি দখলের জেরে প্রতিপক্ষ হক মিয়ার পরিবারের সঙ্গে ঝগড়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছে এই অবস্থার। তবে একপক্ষ এই দুই ভাই এবং হক মিয়া অন্য গোষ্ঠীর লোক। স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি জানিয়েছেন দুই পক্ষের মধ্যে মীমাংসার চেষ্টা চলছে। তবে থানায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জমি নিয়ে এই মারামারির ঘটনায় তদন্ত চলছে। পালিয়ে বেড়ানো দুই পরিবারের শিশুদের স্কুল যাওয়া বন্ধ রয়েছে। বিঘœ হচ্ছে তাদের লেখাপড়া।

এ ঘটনায় গবাদি পশু ও নারী-শিশু নিয়ে বাচ্চু মিয়া ও সালামের পরিবারের ১৩ সদস্য বিভিন্ন গ্রামে পালিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার মাসকা ইউনিয়নের কান্দাপাড়া গ্রামে। সেই থেকে প্রতিপক্ষ আবদুল হকের লাঠিয়ালদের হামলার ভয়ে সাত দিন ধরে বাড়িতে আসতে পারছেন না এই দুজনের পরিবারের কেউ। যে কারণে নোয়াদিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র রুহুল আমিন ও সপ্তম শ্রেণির ছাত্র কাইয়ুমের লেখাপড়ায় বিঘœ ঘটছে। গত শনিবার কান্দাপাড়া গ্রামে সরেজমিন দেখা যায়, প্রতিপক্ষের দেওয়া আগুনে পুড়ে যাওয়া বাচ্চু মিয়ার দুটি খড়ের গাদা জ্বলছে। বাড়িঘরেও কোনো মানুষ নেই।

গ্রামের লোকজন ও বাচ্চু মিয়ার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কান্দাপাড়া গ্রামের বাচ্চু মিয়া ও সালাম নামে ২ ভাইয়ের বাড়ির সামনের জমিতে ১৫ দিন আগে একই গোষ্ঠীর হক মিয়া ১৫ শতক জমিতে নতুন আইল তুলে নিজেদের দাবি করে দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। বাচ্চু মিয়া বাধা দিতে গেলে উভয়পক্ষের মারামারি হয়। এতে বাচ্চু মিয়ার পক্ষের আলমগীর (২৩) মারাত্মক আহত হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় বাচ্চু মিয়া বাদী হয়ে প্রতিপক্ষ হক মিয়া, বেগম আক্তার, হাসিম উদ্দিন, মাসুদ, হবি, সাজ্জাদ, রোমান, সাদ্দাম, হারুনসহ বেশ কয়েকজনের নামে কেন্দুয়া থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ ৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাতে হক মিয়ার পক্ষের রোমান এবং সাদ্দাম নামের দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

বাদী বাচ্চু মিয়া আরও জানান, পুলিশ দুজনকে আটক করায় ওই রাতেই তারা আমার বাড়ির খড়ের দুটি গাদায় আগুন দেন। পরে গ্রামবাসী ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করেন। এখন শোনা যাচ্ছে, তাদের বয়োবৃদ্ধ একজনকে হত্যা করে আমাদের নামে হত্যা মামলা করবে। বাচ্চু মিয়ার স্ত্রী পারভীন আক্তারের সঙ্গে নওপাড়া ইউনিয়নের দুখিয়ারগাতী গ্রামে গিয়ে কথা হলে তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ছোট বাচ্চা ও গরু বাছুর নিয়ে বিভিন্ন গ্রামের মানুষের বাড়িতে পরে আছি, পোলাপানের লেখাপড়া বন্ধ। বাড়িতে গেলে আমাদেও মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। ঝগড়ার দিন আত্মরক্ষার্থে পাশের শহীদ মিয়ার ঘরে আশ্রয় নিলে সেখানেও তারা আমাদের ওপর হামলা করে। পরে অন্য গ্রামের মাতব্বররা এসে আমাদের উদ্ধার করে। আমরা বাড়ি ফিরে যেতে চাই। এ ব্যপারে হক মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে বাড়ি পাওয়া যায়নি। হক মিয়ার বোন কুলসুমা জানান, দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বাচ্চু মিয়াদের সঙ্গে তাদের বিরোধ রয়েছে। এই দিন আইল তোলাকে কেন্দ্র করে হক মিয়ার ছেলে কবির ও ছেলে রুহুল আমিনের মধ্যে ঢিল ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে। পরে বড়দের মাঝে মারামারি হয়। এতে উভয় পক্ষের ছয় থেকে সাতজন আহত হন। খড়ের গাদায় কে আগুন দিয়েছে আমরা জানি না।

এ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এনামুল হক জানান, জমির বিষয় নিয়ে আগেও দেন দরবার হয়েছে। মারামারির খবর পেয়ে এসে থামাতে চেষ্টা করি। দুই ভাইয়ের পরিবারের সদস্যরা বাড়ি আসতে না পারার বিষয়ে বলেন, এ বিষয়ে হক মিয়ার সঙ্গে কথা হয়েছে আগামী বুধবার তিনি বাড়িতে আসবেন। তিনি এলেই উভয় পক্ষকে নিয়ে বসব। তবে কেন্দুয়া থানায় এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বলা হয় এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছুটিতে আছেন, তাই তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত করা জানানো যাচ্ছে না।

"