স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রী

চাষযোগ্য জমি রক্ষায় মহাপরিকল্পনা করুন

প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাষযোগ্য জমি রক্ষা এবং ফসলের জমিতে অপরিকল্পিত ভবন, সড়ক ও ঘরবাড়ি নির্মাণ রোধে প্রতিটি উপজেলায় একটি মহাপরিকল্পনা করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা মাঠ, স্কুল, কলেজ ও চাষযোগ্য জমির স্থান রাখার জন্য প্রতিটি উপজেলায় মহাপরিকল্পনা করতে পারি। আমরা যদি সঠিকভাবে এটি করতে পারি, মানুষ তা গ্রহণ করবে। আমি মনে করি, আমাদের এ ধরনের কাজ দরকার।’ গতকাল রোববার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় পরিদর্শন শেষে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে সকাল ১০টার দিকে সচিবালয়ে এলে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

প্রধানমন্ত্রী ভূমি ব্যবস্থাপনায় কঠোর হয়ে অপরিকল্পিত উন্নয়ন ঠেকানোর নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন, ‘আগেও আমি একটা নির্দেশনা দিয়েছিলাম। তবে সেভাবে কার্যকর হয়নি। উপজেলায় একটা মাস্টারপ্ল্যান করা। এখন কারো টাকা থাকলেই ফসলি জমি নষ্ট করে দালান তুলছে। কোনো হিসাব-নিকাশ নেই। পরিকল্পিত রাস্তা হলে খরচও বাঁচে আবার জমিও বাঁচে। এখন থেকে আমরা যেন এটা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করব। যেখানে ভিটে আছে, সেখানেই বাড়িঘর করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি উপজেলায় কোথায় খেলার মাঠ থাকবে, কোথায় স্কুল-কলেজ থাকবে বা কোথায় ছোট-বড় শিল্পনগরী গড়ে তোলা দরকার, চাষের জমি কোথায় কীভাবে সংরক্ষণ হবেÑ সেই মহাপরিকল্পনা যদি করতে পারি, তাহলে মানুষ কিন্তু এইটা গ্রহণ করবে, শুনবে। এভাবে কিছু কাজ আমাদের করা দরকার।’

দেশের উন্নয়নে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালীকরণ, তাদের স্থানীয় সরকার উন্নয়ন উদ্যোগে সম্পৃক্ত করা এবং সব উন্নয়ন টেকসই করার লক্ষ্যে সরকার প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণ করতে চায়। আমরা সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছি এলজিআরডি মন্ত্রণালয়কে। এলজিআরডি মন্ত্রণালয় যদি যথাযথভাবে কাজ করে, তাহলে আমরা ব্যাপক আকারে দারিদ্র্য নিরসন করতে সক্ষম হব। তাহলে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত যতটুকু কাজ এগিয়ে ছিলাম, মাঝখানে ৭ বছরে আমরা যখন ছিলাম না এ সময়ে অনেক কিছু নষ্ট হয়ে যায়। ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময় হাতে পেয়েছিলাম বলে অনেকগুলো কাজ করতে পেরেছি। আজ বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ। এখন আমাদের কাজ হচ্ছে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে গেলে আমাদের সমন্তাৎ পরিকল্পনা নিতে হবে তৃণমূল পর্যায়ে, যে মানুষগুলো বাস করে তাদের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করা, তাদের জীবনমান উন্নত করা। এটা করতে পারলে স্বাভাবিকভাবেই ধীরে ধীরে সমস্ত দেশটাই উন্নত হবে। সেদিকে লক্ষ করে এ মন্ত্রণালয়টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, বাজেটের সবচেয়ে বড় টাকার অংশটাই এ মন্ত্রণালয়ে আসে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামীতে আমরা কেন্দ্রীয়ভাবে বাজেট করব ঠিকই, কিন্তু এর পরও আমি চাচ্ছি, দায়িত্ব দিয়ে দেব আমাদের প্রতিটি জেলায়। তারা বলবে ওই অঞ্চলের কী চাহিদা, কীভাবে মানুষের কাছে সেবা পৌঁছাতে পারে। তাদের কাছ থেকে মতামত ও পরিকল্পনা আমরা নেব। এভাবে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি স্তর থেকে আমরা বাজেট কীভাবে হবে, সেই ধারণাটা নিয়ে বাজেট তৈরি করব। যাতে প্রতিটি পয়সা মানুষের কল্যাণে কাজে লাগে।’

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন। প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, স্থানীয় সরকার সচিব এস এম গোলাম ফারুক, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় সচিব মো. কামাল উদ্দিন তালুকদারসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

"