মোবাইল চুরির অপবাদে দুই স্কুলছাত্রকে নির্যাতন

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
ama ami

মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে রাজবাড়ীর উপজেলার নারুয়া বাজারে প্রকাশ্যে দিবালোকে বেঁধে বেদম পিটিয়ে আহত করেছে দুই স্কুলছাত্রকে। গতকাল শুক্রবার বিকালে নারুয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। সাবেক সেনা সদস্যের মারধরে আহত হয়েছে নারুয়া ইউনিয়নের বিলধামু গ্রামের ফরিদ মোল্লার ছেলে ও বিলধামু আবুল কাসেম মন্ডল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্র বিজয় মোল্লা (১১) ও তার সহযোগী একই গ্রামের সাদেক আলীর ছেলে ও মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণির ছাত্র আসিক (৭)। বিলধামু গ্রামের বাবু মোল্লা জানান, সাবেক সেনা সদস্য জুলফিকার শেখ ফোন দেয় আসরের আজানের পর আমাদের গ্রামের দুটি ছেলেকে আটকে রেখে আমাকে খবর দেয়। পরে আমি তাদের দুজনকে নিয়ে এসে বাড়িতে পাঠিয়ে দেই। আমার সামনে মারধর করেনি। জুলফিকারের দাবি তারা ফোন চুরি করেছে। পরে সবার উপস্থিতিতে আমার কাছে ওই দুটি ছেলে বুঝে দেন তিনি।

মারধরের শিকার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র বিজয় মোল্লা জানায়, নারুয়া গ্রামের সুমনের কাছে তাদের একটি ফোন মেরামত করতে দেয়। শুক্রবার সকালে ফোনটি দেওয়ার কথা ছিল। সকালে দোকানে গিয়ে তাকে না পেয়ে তার বাড়িতে যাই। বাড়িতে না থাকায় তার বাবা জুলফিকার শেখের কাছে বললে সে বলে পরে আস। বাড়ি ফেরার পথে একটি ফোন পড়ে পাই।

বিষয়টি সবাইকে জানাই একটি মোবাইল পথে পেয়েছি। বিকালে ওই দোকানে ফোন আনতে গেলে সুমন ও জুলফিকার আমাদের দুজনকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখে মারধর শুরু করে। মারধরে বাধ্য হয়ে ফোন চুরি করেছি বলে স্বীকার করি। মারধরে শরীরে রক্ত জমে গেছে।

বিজয়ের বাবা ফরিদ মোল্লা জানান, ছেলেকে মারধরের কথা শুনে এসে দেখি ছেলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতারিভাবে মারধর করেছে। তাকে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক শরীফুল ইসলামের কাছে থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করা হয়েছে। আমি এ মিথ্যা অপবাদ দিয়ে শিশু নির্যাতনকারীর বিচার দাবি করছি।

অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য জুলফিকার শেখ বলেন, আমার মোবাইল ফোনটি চুরির ওদের দুজনকেই সন্দেহ হয়। পরে বিকেলে মোবাইল চুরি সন্দেহে তাদের আটক করি। তাদের পুলিশের ভয় দেখালে মোবাইল চুরির কথা স্বীকার করে।

এ বিষয়ে বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম আজমল হুদা জানান, এ বিষয়ে এ পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ কেউ করেনি। তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

"