উল্লাপাড়ায় হিজল গাছ ঘিরে যত কুসংস্কার

প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
ama ami

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় একটি হিজল গাছকে ঘিরে যুগ যুুগ ধরে চলে আসা স্থানীয়দের আদি ভৌতিক বিশ্বাস ও কুসংস্কার এখনো ভাঙা যায়নি। দারিদ্র্যপীড়িত ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষ এখনো গাছটিকে আশা পূরণে আর মঙ্গলের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করছেন। ওই হিজল গাছটির কাছে আশা পূরণে মানত করা হয়। ছোড়া হয় মাটির ঢিল। ডালে ঝুলানো হয় মাছ। বেঁধে দেওয়া হয় টুকরো কাপড়। উল্লাপাড়া উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের চান্ডালগাঁতী সড়কের পাশে হিজল গাছটির অবস্থান। এলাকার প্রবীন ব্যক্তিদের ভাষ্য, তারা ছোটবেলা থেকেই গাছটিকে আজকের অবস্থায় দেখে আসছেন। তাদের পূর্বপুরুষেরা নাকি এভাবেই দেখেছেন। চান্ডালগাঁতী গ্রামে মোনজের প্রামাণিক (৬৯), নুরাল প্রামাণিক (৬৮) এবং বিনায়েকপুর গ্রামের প্রায় ৭০ বছর বয়সী মজলার রহমান জানান, গাছটি ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছেন। প্রায় ৮০ বছর বয়সী রহিচা খাতুন জানান, তিনি বিবাহিত জীবনে প্রায় ৬৫ বছর কাল ধরেই একই অবস্থায় দেখে আসছেন। তার শ্বশুর সোলে মন্ডল ও মামা শ্বশুর রহমানের মুখেও শুনেছেন ওই গাছের কথা। তখন থেকেই এসব প্রথা হয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন তাদের মনের আশা পূরণে গাছতলায় এসে নানা ধরনের মানত করে থাকে। এরা আশা পূরণের আগে ও পরে মানতের জন্য আনা পণ্যসামগ্রী ওই গাছটির গোড়ায় রেখে যান। এলাকার মৎস্যজীবিরা মাছ শিকারের আগে এক-দুটি মাছ গাছের ডালে ঝুলিয়ে রেখে যান। অনেকেই ব্যবসা বাণিজ্যে বেরিয়ে যাওয়ার আগে গাছটি ছুঁয়ে যান। এছাড়া চলার পথে অমঙ্গল যেন না হয় এমনটি ভেবে মাটির ঢিল ছোড়া হয়।

উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আজমল হক জানান, এটি পুরোপুরি কুসংস্কার। আগের বেশির ভাগ মানুষ কুসংস্কারে বিশ্বাস করত। সেই ধারাবাহিকতা এখনো চলছে।

প্রতিদিন কেন গাছটিকে ছুঁয়ে বের হন, এমন প্রশ্নে দোকানি আবুল হোসেন বলেন, প্রায় ত্রিশ বছর ধরে পথটিতে আসা-যাওয়াকালে ওই গাছটি ছুঁয়ে যান। দোকানে ভালো বেচাকেনা হবে, এমন আশা থেকেই এসব করি। চয়ড়া গ্রামের গ্রাম্য ডাক্তার ও সাংস্কৃতিক কর্মী রকুনুজ্জামান রতন বলেন, তিনি নিজেও মনের বিশ^াসে আসা-যাওয়ার পথে গাছটিতে একটি হলেও ঢিল ছোড়েন। অমঙ্গল হতে পারে ভেবেই ঢিল ছোড়া থেকে নিজেকে বাদ রাখতে পারেননি।

উল্লাপাড়া সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শামিম হাসান বলেন, আধুনিক জীবনের গতিশীলতায় এক পর্যায়ে এসব কুসংস্কার আর থাকবে না এমনিতেই সব বন্ধ হয়ে যাবে।

 

"