সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ৩০ রোহিঙ্গা আটক

টাকা লেনদেন হয় বিকাশের মাধ্যমে

প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
ama ami

সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় ২ দালালসহ ৩০ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষকে আটক করেছে বিজিবি। গত বৃহস্পতিবার রাতে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের ঘোলচর ও শুক্রবার ভোররাতে শীলখালীর নোয়াখালীয়া পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। তারা সবাই উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় বসবাসকারী রোহিঙ্গা।

বিজিবি জানায়, মানবপাচারকারী একটি চক্র বৃহস্পতিবার রাতে শাহপরীর দ্বীপের ঘোলচর ও শুক্রবার ভোররাতে শীলখালীর নোয়াখালীয়া পাড়ায় রোহিঙ্গাদের মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে জমায়েত করে। খবর পেয়ে বিজিবি অভিযান চালিয়ে শাহপরীর দ্বীপ এলাকার ঘোলাচর থেকে ১ দালালসহ ১২ রোহিঙ্গাকে আটক করে। এর মধ্যে তিনজন পুরুষ, ছয়জন নারী ও তিন শিশু রয়েছে।

অন্যদিকে বিজিবির আরেকটি দল নোয়াখালীয়া এলাকার সাগর তীরবতী জঙ্গলে অভিযান চালিয়ে এক দালালসহ ১৮ রোহিঙ্গাকে আটক করে। এর মধ্যে তিনজন পুরুষ, ১১ জন নারী ও চার শিশু রয়েছে। এসব রোহিঙ্গারা মালয়েশিয়াগামী ট্রলারের জন্য অপেক্ষা করছিল বলে জানায় বিজিবি।

আটকদের মধ্যে বালুখালী ক্যাম্পের হামিদা বেগম (২০), তার মেয়ে শউকত আরা (৫), থাইংখালী ক্যাম্পের জুবাইদা (২৫) তার মেয়ে রেনেছা (৫), একই ক্যাম্পের হামিদা বেগম (২০), কুতুপালং ক্যাম্পের তাহমিনা বেগম (১৮), বালুখালী ক্যাম্পের শারমিন আকতার (১৬), কুতুপালং ক্যাম্পের ইয়াছমিন আকতার (১৮), তাজনিমারখোলা ক্যাম্পের আমিন (২০), বালুখালী ক্যাম্পের ফয়েজুল ইসলাম (১৫), তাজনিমারখোলা ক্যাম্পের নূর কামাল (২৪), বালুখালী ক্যাম্পের ইউনুছ (১৯), তাজনিমারখোলা ক্যাম্পের শফি আলম (২৫), বালুখালী ক্যাম্পের হেদায়েত উল্লাহ (১৫), কুতুপালং ক্যাম্পের ছলিমুল্লাহ (১৯), ইমাম হোসেন (২০), জাহিদ উল্লাহ (২৮), ছানা উল্লাহ (২০), লম্বাশিয়া ক্যাম্পের আমিন (২০) ও বান্দরবান লামা দোলহাজারা গ্রামের আবদুর রহিমের (২০) পরিচয় জানা গেছে। আটক দালালরা হলো টেকনাফ উপজেলার জাহাজপুরা এলাকার হাবিবুল্লাহর ছেলে মুহিবুল্লাহ (২০) ও দমদমিয়া গ্রামের আবদুল করিমের ছেলে হুমায়ুন (১৮)।

টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আছাদুদ জামান চৌধুরী জানান, ‘দালালদের প্রলোভনে মোটা অঙ্কের টাকায় এসব রোহিঙ্গা মালয়েশিয়া গমন করছিল। আটকদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য দালালদের আটক করতে অভিযান চলছে।’

আটক কয়েকজন রোহিঙ্গা জানায়, ?‘২০১২ সালের দিকে তাদের নিকট আত্মীয়রা সাগরপথে মালয়েশিয়া চলে গেছে। বর্তমানে তারা সেখানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কাজে নিয়োজিত। তারা মুঠোফোনে বারবার তাগিদ দেওয়ায় বিকাশের মাধ্যমে টাকার লেনদেন করে ডেইলপাড়া গ্রামের লেং শামশুর ছেলে দালাল শাহজান, হিজোলীয়া গ্রামের জলু আহম্মদের ছেলে নুরুল্লার মাধ্যমে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য আবদুল কাদেরের বাড়িতে চার-পাঁচ দিন ধরে অবস্থান করেছে।’

উখিয়া থানার ওসি আবুল খায়ের জানান, ?এ ঘটনায় শাহজান, নুরুল্লাসহ আটজনকে আসামি করে উখিয়া থানায় মানবপাচার আইনে একটি মামলা করা হয়েছে।

 

"