ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে

প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর বাজারগুলোতে বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি মুরগির দাম ১০ টাকা বেড়েছে। এখনো বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মাছ। তবে বাজারগুলোতে দাম কমেছে সব ধরনের চাল ও পেঁয়াজের। এ ছাড়া শীতের সবজির পাশাপাশি আগাম পাওয়া যাচ্ছে গ্রীষ্মকালীন সবজি। আগাম সবজির দাম বেশি হলেও স্থিতিশীল রয়েছে অন্যান্য সবজির দাম। অপরিবর্তিত রয়েছে ডাল, ডিম, চিনি, আটা, গুঁড়া দুধসহ সব ধরনের মুদি পণ্যের দাম।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর শান্তিনগর, সেগুনবাগিচাসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া যায়।

রাজধানীর বাজারগুলোতে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ১৪০ টাকায়। লেয়ার মুরগি (ছোট) বিক্রি হয়েছে ১৯৫-২০৫ টাকা পিস আর মাঝারি সাইজের পাকিস্তানি মুরগি বিক্রি হয়েছে ২৬০ টাকায়। বড় সাইজের মুরগি বিক্রি হয়েছে ৩৫০ টাকায়।

নাজিরশাইল চাল গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল কেজিপ্রতি ৬০ টাকায়, বর্তমানে ৫৮ টাকা। মিনিকেট চাল ৫৫ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে ৫২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। স্বর্ণা গত সপ্তাহে ছিল ৪২ টাকা বর্তমানে ৪০ টাকা, বিআর-২৮ প্রতি কেজি ৪০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে ৩৮ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যায়।

মুরগি ব্যবসায়ী খোকন জানান, বেশ কিছুদিন মুরগির দাম স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু বিয়ে ও পিকনিককে কেন্দ্র করে হঠাৎ মুরগির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। চলতি মাসের শুরু থেকেই মুরগির দাম বাড়তি।

মুরগির দাম বাড়লেও বাজারে ডিম, গরু ও খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। গরুর মাংস আগের মতোই ৪৮০-৫০০ টাকা কেজি এবং খাসির মাংস ৭০০-৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। মুরগির ডিম প্রতি ডজন ৯৫ টাকা, হাঁসের ডিম ১৫৫ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ১৭০ টাকা ডজন বিক্রি হতে দেখা যায়।

আগের সপ্তাহ থেকে দুই টাকা কমে নতুন দেশি পেঁয়াজ ১৮-২২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজের কেজি ১৫-২০ টাকা। রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, বাজারে সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় বেশিরভাগ সবজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আগাম সবজির মধ্যে প্রতি কেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা, ঝিঙ্গা ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ টাকা। এ ছাড়া শীতের সবজি লাউ মানভেদে ৪০-৫০ টাকা, শিম ১৫-২০ টাকা, বেগুন ২০-৩০ টাকা, ফুলকপি ১০-১৫ টাকা পিস, বাঁধাকপি ১৫-২৫ টাকা পিস, শালগম ১০-২০ টাকা কেজি এবং মুলা ১০-২০ টাকা, পাকা টমেটোর কেজি ১৫-৩০ টাকা, নতুন আলু ১৫ টাকা ও কাঁচামরিচ ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া পালংশাক বিক্রি হচ্ছে ৫-১৫ টাকা আঁটি, লাল ও সবুজ শাক বিক্রি হয়েছে ৫-১০ টাকা আঁটি, লাউশাক পাওয়া যাচ্ছে ২০-৩০ টাকায় ও সরিষাশাক ৫-১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

সবজির দামের বিষয়ে সেগুনবাগিচা বাজারের ব্যবসায়ী মাসুদ বলেন, বাজারে এখন সব ধরনের শীতের সবজি ভরপুর। যে কারণে সবজির দাম তুলনামূলক কম। শীতের সবজি শেষ হয়ে এলেই আবার সবজির দাম বেড়ে যাবে। বর্তমানে আগাম গ্রীষ্মকালীন সবজি পাওয়া গেলেও দাম অনেক বেশি।

এদিকে গত সপ্তাহের চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে মাছ। রুই মাছ বাজারে বিক্রি হয়েছে ২২০-৪০০ টাকা কেজি। পাবদা মাছ বিক্রি হয়েছে ৪৫০-৫০০ টাকা কেজি। টেংরা মাছের কেজি ৫০০-৬৫০ টাকা। তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হয়েছে ১৪০-১৮০ টাকায়, শিং মাছ ৪০০-৬০০ টাকায়, বোয়াল মাছ বিক্রি হয়েছে ৫০০-৮০০ টাকায়, বাইম ৬০০ টাকায়, পোয়া ৫০০ টাকায় ও মলা ৪০০ টাকায়। তবে ইলিশের দাম বেড়েছে হালিতে ৫০০-১০০০ টাকা।

অপরিবর্তিত রয়েছে মুদি পণ্যের দাম। বাজারে প্রতি কেজি খোলা আটা বিক্রি হয়েছে ২৬ টাকা, প্যাকেট ৩২ টাকা, আমদানি করা চিনি ৫০ টাকা, দেশি লাল চিনি ৫৬ টাকা, ডাল ৪০-৯০ টাকা, মানভেদে গুঁড়া দুধের প্যাকেট ২৭০-৫৫০ টাকা, সরিষার তেলের কেজি ১২০ টাকা, লবণ ৩০-৩৫ ও পোলাও-এর চাল ৯০-৯৫ টাকা কেজি।

 

"