কর্ণফুলী তীরে উচ্ছেদ অভিযান

দখলমুক্ত করা হয়েছে ৫ উপখালের প্রবেশ মুখ

৫ দিনে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ১৮০ অবৈধ স্থাপনা

প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

চট্টগ্রাম ব্যুরো
ama ami

কর্ণফুলী নদীর দুই তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান গতকাল শুক্রবার পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে। গত পাঁচ দিন ধরে চলা অভিযানে কর্ণফুলী নদীর সঙ্গে সংযুক্ত পাঁচটি উপখালের প্রবেশ মুখের অবৈধ স্থাপনা সরিয়েছে প্রশাসন। প্রতিদিনের মতো গতকাল শুক্রবারও সকাল ৯টা থেকে এই অভিযান শুরু হয়। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমান মুক্ত এবং তৌহিদুর ইসলাম চট্টগ্রাম নগরীর পশ্চিম মাদারবাড়ি এলাকায় আনু মাঝির ঘাটের দুই পাশ থেকে পৃথকভাবে উচ্ছেদ কার্যক্রম চালান। তাহমিলুর রহমান মুক্ত জানিয়েছেন, গত পাঁচ দিনের অভিযানে কমপক্ষে ১৭০-১৮০টি অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পাঁচটি খালের প্রবেশ মুখ মুক্ত করা হয়েছে। প্রায় সাত কিলোমিটারেরও বেশি এলাকা দখলমুক্ত হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার নগরীর বারিক বিল্ডিং মোড় পর্যন্ত এলাকায় দখলদারদের প্রায় ২০০ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ সম্ভব হয়। এর ফলে নগরীর সদরঘাট থেকে বারিক বিল্ডিং মোড় পর্যন্ত এলাকা প্রায় অবৈধ দখলমুক্ত হলো। সদরঘাট থেকে বারিক বিল্ডিং পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার এলাকাকে প্রথম ধাপ হিসেবে চিহ্নিত করে গত ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করেছিল জেলা প্রশাসন।

তাহমিলুর রহমান মুক্ত বলেন, ‘যে পাঁচটি খালের প্রবেশপথ অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়েছে। এসব খাল দখল হতে হতে নালায় পরিণত হয়েছিল। এজন্য জলাবদ্ধতা হতো। উচ্ছেদের পর খালকে যদি পুরনো আকৃতিতে ফেরানো যায়, জলাবদ্ধতাও কমে যাবে।’

এদিকে আনু মাঝির ঘাটের আশপাশের এলাকায় নদীর পাড়ে নগরীর সদরঘাট থানার পশ্চিম মাদারবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ি ও একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। উচ্ছেদ অভিযানে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আরো কাজ করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিস, কর্ণফুলী গ্যাস কর্তৃপক্ষ, বিআইডব্লিউটিএ, র‌্যাব-পুলিশ। এ ছাড়াও রয়েছে জেলা প্রশাসনের নিযুক্ত ১০০ জন শ্রমিক ।

প্রসঙ্গত, হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১৫ সালের জরিপে কর্ণফুলী নদীর দুই পাড়ে ২১১২টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। গত তিন বছরে স্থাপনা আরো বেড়েছে বলে ধারণা জেলা প্রশাসনের।

 

"