প্রাণের বইমেলা

মজার মজার বইয়ে আনন্দে মাতার দিন

শিশুপ্রহরে হৈহুল্লোড়

প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

অমর একুশে গ্রন্থমেলায় গতকাল শুক্রবারে শিশুপ্রহরে ছিল অন্য রকম আমেজ। আজ শনিবারও শিশুপ্রহর, এ জন্য গ্রন্থমেলার দ্বার খুলবে বেলা ১১টায়। অভিভাবকদের হাত ধরে এসেছিল শিশুরা। বই কিনে, শিশু চত্বরে হৈহুল্লোড় করে দিনভর উপভোগ করেছে তারা।

ছোট্ট সোনামণিদের হাত ধরে বইয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন অনেক অভিভাবক। তবে শিশুর হাতে সঠিক বইটি তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরো বেশি সচেতন হওয়া উচিত বলে মনে করছেন শিশুসাহিত্যিক ও প্রকাশকরা। তারা বলছেন, শিশুদের জ্ঞানচর্চায় আগ্রহী করে তুলতে শৈশব থেকেই গল্প, কবিতা, ছড়াসহ বিভিন্ন ধরনের বইপড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হয়। গতকাল শুক্রবার অমর একুশে গ্রন্থমেলায় এ প্রসঙ্গে নন্দিত শিশুসাহিত্যিক সৈয়দা আনোয়ারা হক বলেন, যেকোনো সাহিত্য একটি বাচ্চাকে গড়ে তুলবে। কিন্তু আমরা কি বাচ্চাদের সে রকম ভালো সাহিত্য পড়াই? আমরা কি সত্যজিৎ-সুকুমার পড়াই? আমরা কি এমন কোনো বই পড়িয়েছি যেটা পড়ে একটা বাচ্চার মনের ভেতরে তার পরিবার, তার পরিবেশ, তার দেশ, তার মানুষ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে? আমরা শুধু শিশুদের জন্য রঙিন বই খুঁজি।

বাংলা একাডেমির তথ্য মতে এবারের বইমেলার প্রথম সাত দিনে শিশুসাহিত্যের বই প্রকাশ পেয়েছে ৩০টি। তবে প্রকাশকদের হিসাব অনুযায়ী এ সংখ্যা আরো বেশি এবং তা আরো বাড়বে। আর তুলনামূলকভাবে এবার শিশুসাহিত্যের বই বিক্রিও হবে বেশি বলে মনে করছেন প্রকাশকরা। আদিগন্ত প্রকাশনীর প্রকাশক মোস্তাক রায়হান বলেন, শিশুদের বইয়ের ক্ষেত্রে যেকোনো একটি বিষয় নয়, আমাদের সব বিষয়েই গুরুত্ব দিতে হয়। বিশেষ করে বানানের ক্ষেত্রে। এরপর যে বিষয়টি থাকে, তা হলো সহজ ভাষায় বই করা।

তিনি বলেন, বাচ্চারা কী চাইছে, কেমন চাইছে, কতটা রং চাইছে, সবগুলো মিলিয়ে এর সঙ্গে আরো ভালো কিছু দিয়ে একটি বই করার বিষয়টিই আমাদের মাথায় রাখতে হয়।

পাতাবাহার প্রকাশনীর প্রকাশক মোস্তফা মান্না বলেন, সবাই জ্ঞানের বই করে, আমরা করি আনন্দের জন্য। একটু হলেও শিশু যেন পড়ে আনন্দ পায়, ছবি দেখে আনন্দ পায়। থাকে কিছু বিজ্ঞানসম্মত দিকও। ওর বয়স অনুযায়ী ও যেন বইটা ধরতে পারে, নাড়াচাড়া করতে পারে, আকার, আয়তন, ওজনÑ সেদিকেও খেয়াল রাখতে হয়। তিনি বলেন, আমরা চাই তিন বছরের একটি শিশু অন্তত ৫০টি বই পড়ে ফেলুক।

এদিকে মেলা প্রাঙ্গণে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা নিজেদের সন্তানদের পছন্দ অনুযায়ীই বই কিনে দিচ্ছেন। তবে অনেকেই রাখছেন নিজেদের পছন্দ।

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আদিবা খাতুনের বইগুলো কেনা হয়েছে তার পছন্দতেই। এ নিয়ে তার মা শাম্মি আক্তার বলেন, বাচ্চাদের বইগুলো তো মোটামুটি ভালোই দেখলাম। বাচ্চারা বিজ্ঞানভিত্তিক বা কমিক্স টাইপের মজার হাসির কিছু বই পছন্দ করল, ওগুলোই কিনে দেওয়া হয়েছে। আশা করি সামনে তো আরো দিন আছে, সেখানে আরো প্রচুর ভালো বই পাব আমরা। আর বাচ্চাদের এই মেলাতে আনতে পেরে ভালো লাগছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মো. তানভীর ইসলাম বলেন, বাচ্চার বয়সটা যেমন তাতে আসলে সায়েন্স ফিকশন বইগুলোই ওদের জন্য বেশি মানানসই। আমার পছন্দে একটা কিশোর ক্লাসিক বই কিনেছি, যেটা আসলে আমরা ছোটবেলায় পড়েছিলাম, যুগ-যুগান্তর ধরে চলে আসছে। বাকিগুলোর ক্ষেত্রে ওদের পছন্দকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

নতুন বই সম্পর্কে তিনি বলেন, আমার মনে হয় গতবারের তুলনায় এবার ভালো বই আসছে। আশা রাখছি আরো অনেক ভালো বই পাব শিশুদের জন্য।

 

"