রোহিঙ্গা শিবিরে মহামারী রোধে যুক্তরাজ্যের সহায়তা

প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ama ami

গত বুধবার যুক্তরাজ্য সরকার রোহিঙ্গা শিবিরে রোগের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে নতুন সহযোগিতার কথা ঘোষণা করেছে। জলবসন্ত ব্যাপক মাত্রায় ছড়িয়ে পড়ার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে বাংলাদেশকে সহায়তা করবে দেশটি। কক্সবাজারের ১৬৮টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে চলবে ‘আর্লি ওয়ার্নিং’ সিস্টেমের কার্যক্রম। স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো থেকে পাওয়া তথ্য মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হবে যাতে তারা রোগ শনাক্ত করে তা ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিতে পারেন। এর মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা স্বাস্থ্যগত দিক থেকে সুরক্ষার নিশ্চয়তা পাবে।

যুক্তরাজ্য সরকারের ‘ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের’ (ডিএফআইডি) সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হয়েছে প্রকল্পটি। যুক্তরাজ্যের ‘ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট’ মন্ত্রী পেনি মর্ডেন্ট মন্তব্য করেছেন, ‘ত্রাণ সহায়তার অর্থ এটা নয়, দুর্যোগ ঘটে যাওয়ার পর হাজির হতে হবে। আমরা প্রযুক্তি ও বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে দুর্যোগ ঠেকানো ও সমস্যাগুলোর বড় হয়ে ওঠা বন্ধ করার চেষ্টা করছি।’ তিনি আরো বলেছেন, ‘মহামারী হয়ে ওঠার আগে প্রকোপ দেখা দেওয়ার প্রাথমিক পর্যায়েই কোনো রোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারলে আমরা আরো দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারব, বাঁচাতে পারব আরো বেশি প্রাণ। বিশ্বজুড়ে পরিবারগুলোর কাছে জলবসন্ত পরিচিত রোগ। কিন্তু আশ্রয় শিবিরে এ রোগ দেখা দিলে তার তা পরিস্থিতিকে বিশেষভাবে খারাপ করে তুলবে। সেজন্য ইউকে এইড আগাম সতর্কতা জারির ব্যবস্থা চালু করেছে ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে। ’

এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গা শিবিরে প্রায় চার হাজার মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এদের অর্ধেকের বয়সই পাঁচ বছরে কম। জলবসন্ত যদিও খুব একটা ভয়ঙ্কর রোগ নয়, কিন্তু এ থেকে শুরু হয় অন্য রোগ যেমন নিউমোনিয়া। তাছাড়া জলবসন্তের কারণে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে জটিলতা। ‘আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেমের’ কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চিকিৎসকদের পক্ষে সহজ হয়েছে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় থাকা রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আগাম সতর্কতা জারির এই ব্যবস্থা বাস্তবায়নের প্রকল্পে যুক্তরাজ্য সরকারের সংস্থা ডিএফআউডির খরচ হয়েছে ৯ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, রোহিঙ্গা শিবিরের ঘিঞ্জি পরিবেশে রোগ দ্রুত ছড়ায়। প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ চিহ্নিত করা ও এর ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কার্যকর করা আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম সহায়তা করবে কলেরা ও ডিপথেরিয়ার মতো রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে যখন ডিপথেরিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় তখন ইউকে এইড গঠন করেছিল ‘ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল টিম’ (ইএমটি)। এতে যুক্ত ছিলেন যুক্তরাজ্যের খ্যাতনামা চিকিৎসকরা।

 

"