ট্রাম্প-কিম শীর্ষ বৈঠক এবার ভিয়েতনামে কেন?

প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভিয়েতনাম যুদ্ধে মারাত্মক তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছিল আমেরিকার। যদিও সে যুদ্ধ শেষ হয়েছে ৪৪ বছর হলো। তারপর ভিয়েতনামকে এবার কেন নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে নিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৯৬৫ সালের মার্চে ভিয়েতনাম যুদ্ধে অংশ নিতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের দানাং শহরে নেমেছিল মার্কিন সৈন্যদল। আর এর ৫৪ বছরের মাথায় সেই একই শহরে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে ভিয়েতনামের সাবেক শত্রু আমেরিকা। ভিয়েতনাম যুদ্ধে উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ছিল। ভিয়েতনাম এখন এশিয়ায় খুব বর্ধিষ্ণু অর্থনীতির দেশ। দেশটির এই উন্নতি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক সংস্কার চুক্তির ফলে, যার শুরু ১৯৮৪ সালে। ট্রাম্পের আশা উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন বর্তমান ভিয়েতনাম ঘুরে দেখুন। ভিয়েতনামের এই চোখ ধাঁধাঁনো উন্নতির ‘মার্কিন মডেল’ যদি তার মনে ধরে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার বৈঠক হবে ভিয়েতনামে আগামী ২৮ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি। দুই পক্ষই বলছে ভিয়েতনাম তাদের কাছে নিরপেক্ষ ভেন্যু। কিন্তু ভিয়েতনাম কেন? কমিউনিস্টরা শাসন করলেও ভিয়েতনাম কার্যত পুঁজিবাদী অর্থনীতি। আর দেশটি এখন একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মিত্র। দুই পক্ষের চাহিদা পূরণে নিরপেক্ষ হোস্ট হিসেবেই দেশটিকে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে বলছেন নিউ সাউথ ওয়েলস ইউনিভার্সিটির ভিয়েতনাম বিশেষজ্ঞ কার্ল থ্যায়ার।

কিম কেনো রাজি হলেন? উত্তর কোরীয় নেতার জন্য চীনের ওপর দিয়ে ভিয়েতনাম উড়ে যাওয়া নিরাপদ বেশি। আর খুব অল্প কয়েকটি দেশের মধ্যে ভিয়েতনাম একটি যে দেশের সঙ্গে ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের সুসম্পর্ক আছে। আর এর মাধ্যমে উত্তর কোরীয় নেতা প্রমাণ করতে চাইছেন যে তার দেশ বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন নয়।

কিম জং উন ভিয়েতনাম ডেভেলপমেন্ট মডেল দিয়ে পড়ালেখা করেছেন এবং এবার নিজে থেকেই দেশটির রূপান্তর দেখার সুযোগ পাবেন।

ভিয়েতনামের সঙ্গে যুদ্ধ, ওই যুদ্ধের পর কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করে নিয়ে আসা। মুক্ত বাণিজ্য আলোচনা। এসব বিষয়ই এখন উত্তর কোরীয় নেতার জন্য আগ্রহের বিষয় জানিয়েছে অধ্যাপক থ্যায়ার।

এশিয়ার দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি ভিয়েতনাম। যদি ভিয়েতনামের অর্থনৈতিক সাফল্য কিম জং উনকে উৎসাহিত করে। সে রকমই চিন্তা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ‘দৈ মৈ’ নামে পরিচিত ১৯৮৬ সালে নেওয়া সেই অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি ভিয়েতনামকে তৈরি করেছে এশিয়ার সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে।

অ্যাপেক সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে ট্রাম্প ২০১৭ সালে ভিয়েতনাম সফর করেছেন এবং ভিয়েতনামকে একটি কমফোর্ট জোনই মনে হয়েছে তখন তার কাছে, অভিমত অধ্যাপক থ্যায়ারের।

এ ছাড়া ব্যাপক বিধ্বংসী মরণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে অবরোধে সমর্থন দিয়ে যে সহযোগিতা যুক্তরাষ্ট্রকে ভিয়েতনাম করেছে তাও স্বীকার করেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

ভিয়েতনামে যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়া শীর্ষ বৈঠকের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দক্ষিণ কোরীয় নেতার মুখপাত্র বলেছেন, ‘ভিয়েতনাম একসময় মার্কিনবিরোধী লড়াই করলেও এখন দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু। আমরা মনে করি যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার নতুন ইতিহাস রচনার জন্য ভিয়েতনাম হবে চমৎকার একটি জায়গা।’

 

"