বিদায়ী এমপিদের অফিস-বাসা ছাড়ার নির্দেশ আসছে

প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

গাজী শাহনেওয়াজ
ama ami

একাদশ জাতীয় সংসদের এমপিদের আবাসন সুবিধা দেওয়ার কাজ শুরু করেছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। আবাসনের পাশাপাশি নতুন অফিসও পাবেন নতুন সংসদ সদস্যরা। এ কারণে বিদায়ী সংসদের এমপিদের তাদের আবাসন ও অফিস ছাড়তে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরাতে নিদের্শনা জারি করতে যাচ্ছে সংসদ সচিবালয়। সূত্র বলছে, আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য মতে, নবম জাতীয় সংসদের মেয়াদকালে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে এমপিদের জন্য আবাসন বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর আগে নাখালপাড়ায় এমপিদের আবাসন ব্যবস্থা ছিল। এছাড়া শেরেবাংলা

নগরে এমপি হোস্টেলে অফিস কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হতো; যেখানে আগে এমপিরা থাকতেন। নতুন এমপিদের আবাসন ও অফিস বরাদ্দ দিতে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর ই আলম চৌধুরীকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। গঠিত কমিটি সরেজমিন ফ্ল্যাট ও অফিস পরিদর্শন করে মূল কমিটিতে প্রতিবেদন দেবে; তার আলোকে বরাদ্দ পাবেন নতুন এমপিরা।

এ উপলক্ষে গতকাল বুধবার কমিটির সভাপতি নূর ই আলম চৌধুরী লিটনের সভাপতিত্বে একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে কমিটির সদস্য এ বি তাজুল ইসলাম এমপি, হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি, ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, হুইপ মাহবুব আরা বেগম গিনি এমপি, নূর মোহাম্মদ এমপি, মনজুর হোসেন এমপি, আশেক উল্লাহ এমপি এবং বিশেষ আমন্ত্রণে হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এমপি ও হুইপ আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি অংশ নেন।

জানা গেছে, মানিক মিয়া এভিনিউ ও নাখালপাড়ার সংসদ সদস্য ভবনের ফ্ল্যাট এবং শেরেবাংলা নগরের এমপি হোস্টেলে এখনো সাবেক এমপি-মন্ত্রীদের অনেক আত্মীয়-স্বজনরা ব্যবহার করে চলেছেন। নতুন করে বরাদ্দ প্রদানের স্বার্থে যারা এবারে এসব বরাদ্দ পাওয়ায় যোগ্য নন তাদের ফ্লাট ছেড়ে দেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে। যাতে কোনো বহিরাগত সেখানে প্রবেশ করতে না পারে বা অবস্থান না করতে পারে সেজন্য নিরাপত্তা জোরদার করার সুপারিশ করেছে কমিটি। দশম জাতীয় সংসদের অনেক এমপি এখনো ন্যাম ভবন, নাখালপাড়াসহ সংসদ ভবন এলাকার অফিসগুলো ছাড়েননি। তাদের অফিস ও বাসা ছাড়তে নির্দেশ দেওয়া হবে। ওই প্রক্রিয়া শেষ হলে নতুনদের বরাদ্দ দেওয়া শুরু হবে।

সূত্র মতে, গতকালের বৈঠকে কমিটি সংসদ সদস্যদের সার্বিক নিরাপত্তা বৃদ্ধিসহ প্রতিটি ভবনে ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা স্থাপনের সুপারিশ করেছে। এছাড়া ইন্টারকম ও টেলিফোন সংযোগ স্থাপন, সংসদ সদস্য ব্যতীত ফ্ল্যাটে অন্য কারো অবস্থান নিষিদ্ধকরণ, সংসদ সদস্যদের ফ্ল্যাট ও অফিসে দর্শণার্থী সংখ্যা নির্দিষ্টকরণ, রাত ১১টার পর সদস্য ভবনে অবস্থান নিষিদ্ধকরণ, সংসদ লবিতে নাস্তা কিংবা খাবার পরিবেশন সীমিত করে শুধু চা-কফি পরিবেশন, ক্যাফেটেরিয়ার খাদ্যমান ও সার্বিক পরিবেশ উন্নত করার সুপারিশ করেছে। নতুন এমপিদের বাসা ও অফিস বরাদ্দে গঠিত উপকমিটির সদস্যরা হলেন হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি, কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি ও ফজলে হোসেন বাদশা এমপি।

 

"