বাল্যবিয়ে বন্ধের আইন ‘কুফরি’ দাবি ওলামা লীগের

প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে বাল্যবিয়ে বন্ধ করার জন্য কাজ করছে এমন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে নিষিদ্ধ করার দাবি করা হয়েছে। গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানিয়েছে আওয়ামী ওলামা লীগসহ সমমনা ১৩টি দল। এই মানববন্ধনে বলা হয়েছে বাল্যবিয়ে নিরোধমূলক আইনটি কুফরি। তাছাড়া সেসব এনজিও বাল্যবিয়েবিরোধী কাজে যুক্ত সেসব এনজিও সংশ্লিষ্টদের মৃত্যুদ-ের শাস্তি দাবি করেছেন এই ১৩ দলের নেতারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘বাংলাদেশে বাল্যবিয়ে নিয়ে জনগণ বা সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই। তবে পবিত্র ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী পশ্চিমা এনজিওগুলোর মাথাব্যথা রয়েছে। বিশ্বব্যাপী মুসলিম জনসংখ্যা হ্রাসে তারা কথিত সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী, মিডিয়া, সরকারের কর্তাব্যক্তিদের পেছনে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। সভা সেমিনার, সিম্পোজিয়ামে নিয়ে বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে বলাচ্ছে, মিডিয়ায় লেখাচ্ছে, প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। দেশের পারিবারিক মূল্যবোধ ও সামাজিক বন্ধন ধ্বংস, এইডস ছড়ানো, জনসংখ্যা হ্রাস, দেশদ্রোহী হাজারো তৎপরতার সঙ্গে এসব এনজিও জড়িত।’

তারা অভিযোগ করেন ‘আন্তর্জাতিক সংস্থা টেরেডেস হোমস নেদারল্যান্ডস, নিউইয়র্ক ভিত্তিক প্রোটেকটিং হিউম্যান রাইটস (পিএইচআর), যুক্তরাজ্যভিত্তিক সেভ দ্য চিলড্রেন, ইহুদি স্বার্থ সংরক্ষণকারী ইউনিসেফ, ইহুদি ব্যক্তি জর্জ সরোসের অর্থায়নে পরিচালিত ব্র্যাক বাল্যবিয়ে বন্ধে কাজ করছে।’ বক্তাদের দাবি ‘বাল্যবিয়ে বন্ধে জড়িতরা মুসলিম বিরোধী চক্রান্তে লিপ্ত।’ তারা এসব এনজিও নিষিদ্ধের দাবি জানান।

বক্তারা আরো বলেন, ‘সরকার দেশে বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন প্রণয়ন করলেও দেশে ১৮ বছরের নিচের ছেলেমেয়েদের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ফলে আশঙ্কাজনকহারে বেড়েই চলে অবৈধ গর্ভপাত, ভ্রƒণ হত্যা ও কুমারি মাতার সংখ্যা। সে নিয়ে মুসলিম বিদ্বেষী এনজিও বা সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই।’

বক্তারা অবিলম্বে বাল্যবিয়ে নিরোধ নামক ‘কুফরি আইন’ প্রত্যাহারের পাশাপাশি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রতি অবমাননার কারণে এনজিওগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্তদের মৃত্যুদ-ের দাবি জানান। ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন’ করা হলে তা হবে বৈষম্যমূলক ও সাম্প্রদায়িক দাবি করে বক্তারা আরো বলেন, ‘সংবিধানে দেশের সব নাগরিকের সমান অধিকার দেওয়া হয়েছে। আবার প্রত্যেক নাগরিকের সুরক্ষায় আইনও রয়েছে। সেখানে আলাদাভাবে ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন’ করা হলে তা হবে বৈষম্যমূলক ও সাম্প্রদায়িক। বৈষম্য সৃষ্টিকারী কথিত সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন করা যাবে না। অন্যথায় মুসলিম সুরক্ষা আইন করতে হবে।’

সমাবেশ ও মানববন্ধনের সমন্বয় করেন বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগের সভাপতি পীরজাদা আলহাজ মাওলানা মুহম্মদ আখতার হুসাইন বুখারী, (পীর সাহেব, টাঙ্গাইল)। আরো বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাওলানা মুহম্মদ আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী, সম্মিলিত ইসলামী গবেষণা পরিষদের সভাপতি হাফেজ মাওলানা মুহম্মদ আবদুস সাত্তার, সহ-সভাপতি হাফেজ মাওলানা মোস্তফা চৌধুরী (বাগেরহাটি) প্রমুখ।

 

"