জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

অতিথিদের উৎপাতে অতিষ্ঠ অতিথি পাখি

প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

জাবি প্রতিনিধি
ama ami

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শীতের অতিথি পাখির সুনাম দেশব্যাপী। বিশেষ করে ঢাকা এবং আশপাশের মানুষের কাছে এসব পাখির কদর এতই বেশি যে, শীতের মৌসুমে পাখি দেখতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি তথা দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লেগেই থাকে। তবে এই ভিড়ই এখন কাল হয়ে দাঁড়াচ্ছে অতিথি পাখির জন্য। দর্শনার্থীর উৎপাতে প্রতি বছর ক্রমেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি পাখির সংখ্যা কমছে। এমন কথাই জানালেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাখি ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪টি লেকে প্রতি বছর অতিথি পাখি আসে। এগুলো হলো ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টারের ভেতরের লেক, সুইমিংপুল সংলগ্ন লেক, পুরাতন রেজিস্ট্রার ভবনের সামনের লেক ও পরিবহন চত্বরের পেছনের লেক। এর মধ্যে দর্শনার্থীরা খুব কাছ থেকে পুরনো রেজিস্ট্রার ভবনের সামনের লেক ও পরিবহন চত্বরের পেছনের লেকের অতিথি পাখি দেখার সুযোগ পান। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বেড়ে গেছে দর্শনার্থীদের সংখ্যা, তাদের বাড়তি উপস্থিতিই পাখিদের জন্য উৎপাতের কারণ। এ জন্য এই দুই লেকে আশঙ্কাজনকহারে অতিথি পাখি কমেছে। শীতের শুরুতে এই দুই লেকে অতিথি এলেও ভরা মৌসুমে আর খোঁজ মেলে না।

এ বছরও শীতের শুরুতে পুরনো রেজিস্ট্রার ভবনের সামনের লেকে অতিথি পাখি এলেও এখন আর দেখা যাচ্ছে না। তা ছাড়া পরিবহন চত্বরের পেছনের লেকের অতিথি পাখিও তুলনামূলক কম। আর যেগুলো আছে, তাও সড়কের বিপরীত পাড়ের দিকে সরে গেছে। এসব লেকে আসা অতিথি পাখির কিছু অংশ ক্যাম্পাস ছেড়েছে, আবার কিছু অংশ সংরক্ষিত লেক বলে পরিচিত ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টারের ভেতরের লেকে স্থানান্তরিত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিথি পাখির মূল আবাসস্থলে জনবসতি কম। কিন্তু এসব পাখি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর অনেক মানুষ দেখে ভয় পেয়ে কিংবা বিরক্ত হয়ে চলে যায়। এ ছাড়া পাখি দেখতে আসা দর্শনার্থীর অনেকেই লাল শাপলা তুলতে কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে লেকে নেমে পড়েন। আবার অনেকে অতিথি পাখির ওড়াউড়ি দেখতে ঢিল ছোড়েন। তা ছাড়া লেকের পাখি গাড়ি পার্কিংয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। লেকের একেবারে কাছে পার্কিং করা হচ্ছে। আবার এসব এলাকায় চালকরা উচ্চস্বরে হর্ন বাজান! এসবই অতিথি পাখি কমে যাওয়ার কারণ বলে অভিমত তাদের।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. কামরুল হাসান জানান, এ বছর এখন পর্যন্ত পাঁচ হাজারের কাছাকাছি অতিথি পাখি এসেছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৬০০ অতিথি পাখিই ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টারের ভেতরের লেকে। বাকি ২ থেকে ৩০০ রয়েছে অন্যান্য লেকে। তবে সব অতিথি পাখিই মাত্র তিন প্রজাতির। এসব পাখির অধিকাংশই ছোট সরালি। বাকি কিছু রয়েছে বড় সরালি আর মাত্র দুটি লেঞ্জা দেখা গেছে। তিনি বলেন, দর্শনার্থীদের উৎপাতে ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টারের ভেতরের লেক ছাড়া অন্য লেকে অতিথি পাখি কমে গেছে। তবে শীত এখনো আছে। এখনো হয়তো অতিথি পাখি আসতে পারে।

পাখিবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ বললেন একই কথা। তিনি বলেন, অনেক দর্শনার্থী পাখিকে ঢিল ছোড়ে, উল্লাস করে। যে কারণে পরিবহন চত্বরের পেছনের লেক ও পুরনো রেজিস্ট্রার ভবনের সামনের লেকে অতিথি পাখি কমে গেছে। এসব পাখি জিমনেশিয়াম ও ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টারের লেকে চলে যাচ্ছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পাখিমেলায় বলেন, আমরা পাখি সংরক্ষণের জন্য লেকের পাড়ে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছি। সেই বেড়া কেটে মানুষ ভেতরে প্রবেশ করে, পানিতে নেমে শাপলা তোলে। এটা করছেন দর্শনার্থীরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নয়।

"