বরিশালে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণ শুধুই নথিপত্রে!

প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

মাসুদ রানা, বরিশাল

বরিশাল জেলা পরিষদে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল নির্মাণ কাজ নিয়ে তুঘলকি কা- ঘটেছে। এ কাজের জন্য চার বছর ধরে কাগজে-কলমে বাজেট হয় ; নির্মাণও হয়; মোটা অর্থও ব্যয় হয়Ñ কিন্তু বাস্তবে জেলার কোথাও বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালের দেখা মিলছে না। এ তথ্য জানা গেছে পরিষদের নথিপত্রের সূত্রে। এ ঘটনায় এখানকার মুক্তিযোদ্ধারা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। তবে এ বিষয়ে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জেলা পরিষদের নথিতে দেখা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে নিজস্ব তহবিলের বাধ্যতামূলক কার্যাবলি তালিকায় জেলা পরিষদ ভবনের সামনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিভিত্তিক ম্যুরাল নির্মাণের জন্য ১২ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এছাড়া কাগজপত্রে ম্যুরাল নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রাজস্ব তহবিল প্রকল্পের ভেতর দেখা যায়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল নির্মাণের জন্য ব্যয় করা হয়েছে আরো ৪ লাখ টাকা। এয়াড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতসহ দেশের বিশিষ্টজনদের একটি ম্যুরাল নির্মাণের জন্য খরচ করা হয়েছে আরো ৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ মোট ব্যয় করা হয়েছে ২১ লাখ টাকা। সরেজমিনে ম্যুরাল তো দূরের কথা ম্যুরালের কোনো অস্তিত্বও নেই। জেলা পরিষদের এমন অদ্ভূত কা- দেখে হতবাক ক্ষমতাসীন দলের লোকজনসহ সাধারণ মানুষ। উপপ্রকৌশলী জাহিদুর রহমান এ বিষয়ে জানান, ম্যুরাল নির্মাণের জন্য গত চার বছর পর্যন্ত উদ্যোগ নেওয়া হলেও মূলত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল নির্মাণের জন্য ২৪ লাখ টাকা দরকার। এজন্যই ম্যুরাল নির্মাণের সময় লাগছে। তবে শিগগিরই ম্যুরাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে মুক্তিযোদ্ধা আক্কাস উদ্দিন বলেন, দুঃখের বিষয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল নির্মাণের অর্থ বরাদ্দ নিয়ে চার বছর পর্যন্ত খেলা চলছে, এ খেলা আর দেখতে চাই না, বরিশালে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল চাই। তিনি আরো বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এর কঠোর প্রতিবাদ করছি এবং এর যথাযথ বিচার প্রার্থনা করছি।

বিষয়টি বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইফনুসকে অবহিত করলে তিনি জানান, আপনারা সংবাদপত্রে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। তাহলে দল থেকে ব্যবস্থা নিতে সহজ হবে। সরকার ও স্থানীয়রা এই অনিয়ম সম্পর্কে জেনে প্রতিকারের জন্য সোচ্চার হবে।

"