ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হারুন হত্যা

বাবা হত্যার বিচার দাবিতে শিশু হাফসার মানববন্ধন

প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ama ami

বাবার বুকে মাথা রেখে আর ঘুমাতে পারবে না শিশু উম্মে হাফসা। তার চোখে-মুখে কেবলই বিষণœতা। সে হয়তো জানেন না তার বাবা নেই, আর ফিরবেও না কোনো দিন। দুর্বৃত্তদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন হাফসার বাবা হারুন মিয়া (৫৫)। তাই বাবার হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে শত মানুষের ভিড়ে রাজপথে দাঁড়িয়েছে পাঁচ বছরের অবুঝ শিশু হাফসা।

হারুন হত্যার বিচার দাবিতে গতকাল রোববার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা সদরের স্বাধীনতা চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। মানববন্ধনে অংশ নেন হারুনের স্ত্রী হাসিনা বেগম, ছেলে আলমগীর মিয়া, মেয়ে হাফসাসহ তার স্বজন এবং এলাকাবাসী। বক্তারা বলেন, হারুন মাদক ও চোরাকারবারিদের জন্য পথের কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তিনি চোরাকারবারিদের তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে দিতেন। সে জন্য তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিচার দাবি করেন তারা।

হারুনের ছেলে আলমগীর মিয়া বলেন, কসবা উপজেলার কাইমপুর ইউনিয়নের নাখাউড়া গ্রামের বাসিন্দা ও কুমিল্লার সিআইডি কর্মকর্তা আলী আজ্জম আমার বাবাকে ডেকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে তার সহযোগীরা মিলে হত্যা করেছে। আমরা এ হত্যাকান্ডে জড়িত আসামিদের বিচার চাই।

আখাউড়া রেলওয়ে থানার ওসি শ্যামল কান্তি দাস বলেন, অপমৃত্যু মামলা থেকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করার কারণে একটু সময় লাগছে। সিআইডি কর্মকর্তা আলী আজ্জম মামলার প্রধান আসামি হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আমরা সদর দফতরে প্রতিবেদন দিয়েছি। আমরা মামলাটি তদন্ত করছি। ইতোমধ্যে একজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, হারুন মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগর গ্রামের মৃত সুলতান মিয়ার ছেলে। তিনি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সোর্স হিসেবে কাজ করতেন। গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর কসবা উপজেলার কালতা ও চকবস্তা এলাকার মাঝামাঝি স্থানের রেললাইনের পাশ থেকে হারুনের মরদেহ উদ্ধার করে রেলওয়ে থানা পুলিশ। এ ঘটনায় প্রথমে আদালতে এবং পরে ৩ ডিসেম্বর ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন হারুনের স্ত্রী হাসিনা বেগম।

"