চট্টগ্রামে সোহেল হত্যা নিয়ে ধূম্রজাল

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

জিয়াউল হক ইমন, চট্টগ্রাম ব্যুরো

নগরীর পাহাড়তলী রেলওয়ে বাজারে ছাত্রলীগের সাবেক উপশিক্ষা ও পাঠবিষয়ক সম্পাদক মহিউদ্দিন সোহেলকে (৩৫) হত্যার ঘটনায় চলছে নানা গুঞ্জন। নিহতের পরিবার বলছে গণপিটুনির আড়ালে সোহেলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর দাবি চাঁদাবাজির কারণে গণপিটুনিতে মহিউদ্দিন সোহেল মারা গেছেন। তবে সোহেলের শরীরে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পরিকল্পিত হত্যার ইঙ্গিত বহন করে। সব মিলিয়ে এ খুনের ঘটনা নিয়ে এলাকাবাসীর মনে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।

ওই ঘটনার একদিন পর নিহতের পরিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন নিহত মহিউদ্দিন সোহেল কোনো প্রকার চাঁদাবাজ ছিলেন না। এলাকায় মাদকবিরোধী তৎপরতা ও অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে তৎপর হওয়ায় সোহেলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর গত বুধবার নিহতের ভাই শাকিরুল ইসলাম শিশির বাদী হয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে প্রধান আসামি করে ২৭ জনের নাম উল্লেখ একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ পর্যন্ত মামলায় অভিযুক্ত ওসমানসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওসমান পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডে আছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন ধরে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছাবের আহমদ ও স্থানীয় জাতীয় পার্টি নেতা ওসমানের সঙ্গে বিরোধ ছিল নিহত মহিউদ্দিন সোহেলের। মূলত এ কারণে সোহেলকে হত্যা করা হয়েছে একাধিক সূত্রে জানা যায়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন দাবি করেন নিহত সোহেল চাঁদাবাজ ছিলেন। এমনকি আমার কাছ থেকেও বেশকিছু টাকা চাঁদা আদায় করেন সোহেল। তার সঙ্গে এসআইদের সখ্যতার কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা করতে কেউ সাহস পেত না বলে দাবি করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ব্যবসায়ী সোহেল চাঁদাবাজ বলে দাবি করেন। আবার অনেকেই এ ব্যাপারে মুখ খুলতে রাজি নয়।

নিহত সোহেলের ভাই শাকিরুল ইসলাম শিশির প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, আমার ভাইকে যারা মেরেছেন তারা চাঁদাবাজ বলে দাবি করছেন। প্রকৃতপক্ষে আমার ভাই চাঁদাবাজ ছিলেন না। পাহাড়তলী এলাকায় নিজের লিজকৃত জায়গায় অসহায় ও দরিদ্রদের জন্য একটা কম্পিউটার ইনস্টিটিউট করতে চাইছিল। পাশাপাশি এলাকায় আরো কিছু ভালো কাজ করার উদ্যোগ নেওয়ায় তারা আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ওয়ার্ড কাউন্সিল ছাবের আহমদের সঙ্গে মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

ডবলমুরিং জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আশেকুর রহমান প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, মহিউদ্দিন সোহেল হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সে মোতাবেক আমরা এ পর্যন্ত ওসমানসহ পাঁচজন আসামি গ্রেফতার করেছি। অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। উল্লেখ্য, গত সোমবার নগরীর পাহাড়তলী এলাকায় গণপিটুনির শিকার হয় মহিউদ্দিন সোহেল।

"