বাণিজ্য মেলায় ছাড়ের ছড়াছড়ি : ক্রেতা কম

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

পাঠান সোহাগ

ছাড়ের ছড়াছড়ি, কিন্তু চাহিদামাফিক ক্রেতা নেই। এমন অবস্থা চলছে বাণিজ্য মেলায়। প্রত্যেক স্টলে শতকরা ১০ থেকে ৮০ শতাংশ ছাড়ে পণ্য বিক্রি চলছে। মেলায় দর্শনার্থীর ভিড়ে ঠাসা, কিন্তু ক্রেতা কম। সব দর্শনার্থী এখনো ক্রেতা হয়ে উঠতে পারেনি। এমটাই জানালেন স্টল মালিক ও বিক্রয় কর্মীরা। গত শুক্রবারের তুলনায় গতকাল শনিবারে দর্শনার্থী ও ক্রেতা দুই-ই কমেছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পণ্যের ও সেবার পরিচিতি ও প্রসারের জন্য বিশাল ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এবারের মেলার ২৫ দেশের ৫২ প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এসব দেশি-বিদেশি পণ্যের মধ্যে রয়েছে পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য, মেশিনারিজ, কার্পেট, কসমেটিকস, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস, গৃহসামগ্রী, চামড়াজাত পণ্য, স্পোর্টস সামগ্রী, স্টেশনারি, ক্রোকারিজ, প্লাস্টিক, মেলামাইন, ইমিটেশন জুয়েলারি, সিরামিকস, নানা ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফাস্টফুড, আসবাবপত্র, হস্ত ও কারুপণ্য শিল্পজাত পণ্য এবং ফার্নিচার অন্যতম। প্রায় সব পণ্যই ছাড়ে বিক্রি হচ্ছে।

মেলা পরিচালনা কমিটির কর্মকতারা বলছেন, ‘আমাদের দেশের গ্রাহকদের দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পণ্য ও তাদের সেবার মানের সঙ্গে পরিচিতি করতেই এত বড় পরিসরে বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায় দেশি-বিদেশি অনেক দর্শনার্থী থাকে। তারা স্টলগুলো ঘুরে ঘুরে দেখেন। পণ্যের গুণগত মান ভালো থাকলে পরে এসব পণ্য আমদানি-রফতানিতে বড় ভূমিকা রাখে। পণ্যের প্রসারের জন্য সব প্রতিষ্ঠান বিশাল ছাড়ের ব্যবস্থা রাখে।

সরেজমিনে মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে দর্শনার্থী, ক্রেতা ও বিক্রয় কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অলটাইমের ১১ প্যাকেজ চলছে বিশাল ছাড়ে। অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্স তাদের তাদের বিভিন্নি অফার দিয়ে আসছে এই মেলায়। প্রিমিও প্লাস্টিক তাদের সব পণ্যে শতকরা ১৫ শতাংশ ছাড় দিয়েছে। শতরঞ্চি কারুপণ্যে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ ছাড়ে পণ্য বিক্রি করছে। জুট ক্রাফট’স মালিক আফজাল হোসেন বলেন, ‘আমরাও বিভিন্ন পণ্য শতকরা ৩০ শতাংশ ছাড়ে বিক্রি করছি। লাভের আশায় মেলায় স্টল দেইনি। গ্রাহকের কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়াই আমার উদ্দেশ্য।’

মেলায় আমিনুল ইসলাম পরিবার নিয়ে এসেছেন। তিনি জানান, ‘বিভিন্ন স্টলে ছাড় চলছে। কিছু প্রয়োজনীয় সমগ্রী কিনেছি। পছন্দ হলে আরো কিছু কিনব।’ গাবতলী থেকে এসেছেন মিজান মিয়া। তিনি জানান, ‘ছাড়ের জিনিস সব সময় ভালো হয়। অনেক দেখে-শুনে কিনতে হয়। আমি ওয়াল্টনের একটি টিভি কিনব, দেখাশোনা চলছে।’ নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তা মো. ইব্রাহিম জানান, ‘মেলায় পরিবেশ খুব সুন্দর। আমরা সব সময় চেষ্টা করছি মেলার পরিবেশ কীভাবে আরো ভালো রাখা যায়। ক্রেতারা কেনাকেটা করে যেন নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেনÑ এটাই আমাদের লক্ষ্য।’

"