শ্রমিক বিক্ষোভ : ভাঙচুর সংঘর্ষ, কারখানায় ছুটি

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

বেতন কাঠামোতে বৈষম্য দূর করাসহ বিভিন্ন দাবিতে ষষ্ঠ দিনের মতো গতকালও রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছে তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকরা। গতকাল শনিবার সকাল থেকে রাজধানীর মিরপুর, শেওড়াপাড়া, টোলারবাগসহ বিভিন্ন স্থানে পোশাকশ্রমিকরা কারখানা থেকে বের হয়ে সড়কে বিক্ষোভ করে। এদিকে সাভারের আশুলিয়াতে বিক্ষোভরত শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পথচারীসহ ১০ জন আহত হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। আমাদের প্রতিবেদক জানায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর মিরপুর ১৪ নম্বর সড়ক অবরোধ করে শ্রমিকরা। এতে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুর্ভোগে পড়ে যাত্রীরা। মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজের সামনে ও টোলারবাগে রাস্তা অবরোধ করে ও গাড়ি ভাঙচুর করে বিক্ষোভকারীরা। তবে মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাদন ফকির বলেন, ‘শ্রমিকরা সড়কে বিক্ষোভ করছে। তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ সহযোগিতা করবে। তবে কেউ নাশকতার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

দক্ষিণ খান ও উত্তর খান থানা এলাকার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, এসব এলাকায় শ্রমিকরা রাস্তায় বিক্ষোভ করছে না। তবে কয়েকটি কারখানার কাজ বন্ধ রয়েছে। ভাষানটেকের তামান্না গার্মেন্টের শ্রমিকরা সকালে সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করে। এ বিষয়ে ভাষানটেক থানার ওসি মুন্সী সাব্বির আহমেদ দুপুরে বলেন, শ্রমিকরা রাস্তা বন্ধ করার চেষ্টা করছে। তাদের বোঝানো হচ্ছে। দ্য ফাইনারি লিমিটেড, অ্যাপারেল এক্সপোর্ট লিমিটেড, ডেভিলন, আহম্মেদ ফ্যাশনস ও গোল্ডেন গার্মেন্ট নামে পাঁচটি পোশাক কারখানা রয়েছে ওই এলাকায়। দ্য ফাইনারি লিমিটেডের আইরন ম্যান মিল্টন ও অন্য আরেক শ্রমিককে মারধর করা হয়েছে। শ্রমিক বিক্ষোভে সব কারাখানাই ছুটি ঘোষণা করা হয়।

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি জানায়, গাজীপুরের টঙ্গীতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের মধ্যে ছয়জন নিখোঁজের অভিযোগে সেখানে বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতি, বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেছে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানায় ভেতরে থাকা গাড়িতে ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে গাড়ি ভাঙচুর চালায়। এ সময় পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিলে ঘটনার এক ঘণ্টা পর ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে। এতে এক সাংবাদিকসহ দুজন শ্রমিক আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগড়া, কোনাবাড়ী, মোগরখাল এলাকাসহ আশপাশের এলাকার অন্তত ২০টি কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানান, শুক্রবার দুপুরে টঙ্গীর বিভিন্ন স্থান থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে টঙ্গীর বিসিক এলাকার ত্রিভলী অ্যাপারেলস্ লিমিটেড নামক কারখানার ৬ শ্রমিককে ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছে তারা। নিখোঁজ শ্রমিকরা হলো ওই কারখানার সুইং অপারেটর আবু সাঈদ (২৫), সোহেল (২৭), মো. রোমান মিয়া (২২), শামিম (২৯), সোহাগ (২৪), মো. রুবেল (২৫)। এ খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পর দিন শনিবার সকাল থেকে আন্দোলনে নাম শ্রমিকরা।

টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মো. কামাল হোসেন প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, আন্দোলনে যোগ দেয়ার জন্য আশপাশের বিভিন্ন কারখানায় গিয়ে শ্রমিকদের আহ্বান জানায় বিক্ষোভকারীরা। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মহাসড়কের ওপর থেকে অবরোধকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে এবং বেশ কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর চালায়।

আশুলিয়া প্রতিনিধি জানায়, আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় শ্রমিকরা যাত্রীবাহী বাসসহ ১৫টি গাড়ি ভাঙচুর করেছে।

স্থানীয়রা জানায়, সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেওয়ার পরে ৯টার দিকে কারখানা থেকে বের হয়ে এসে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করে। ঘটনা চলাকালে প্রায় ১ ঘণ্টা ওই মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ তাদের সরাতে গেলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় ১০ শ্রমিক আহত হয়।

ঢাকা-১ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের এসপি সানা সামিনুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, শ্রমিকরা যেন ফের সড়ক অবরোধের চেষ্টা করতে না পারে সেজন্য ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও ৮ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

সকালে সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ২০টি পোশাক কারখানায় গতকাল জন্য ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এদিকে, সাভার ও আশুলিয়ার আন্দোলনরত শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান।

"