স্মরণসভায় বক্তারা

সৈয়দ আশরাফ মন্ত্রিত্বের কাঙাল ছিলেন না

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ama ami

রাজনীতিবিদ ও ব্যক্তি হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ‘অসাধারণত্বের’ কথা স্মরণ করেছেন তার সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা। তারা বলেছেন, সৈয়দ আশরাফ মন্ত্রিত্বের জন্য কাঙাল ছিলেন না। গতকাল শুক্রবার বিকেলে এক স্মরণসভায় গত সরকারের মন্ত্রিসভায় আশরাফের সহকর্মী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, রাজনীতিবিদ হয়, সংসদ সদস্য হয়, মন্ত্রী হয়। কিন্তু একজন সৈয়দ আশরাফ সহজে হয় না। ক্ষমতায় থেকেও ক্ষমতার মোহ থেকে তিনি নিজেকে সব সময় মুক্ত রেখেছেন। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গান-কবিতায় গত সরকারের জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফের ওই স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে সৈয়দ আশরাফ দুই মেয়াদে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ছিলেন তিনি।

৬৭ বছর বয়সী আশরাফ ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে গত ৩ জানুয়ারি থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে মারা যান। তার সততা ও নির্লোভ মানসিকতার প্রশংসা করছেন প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের নেতারাও। সৈয়দ আশরাফকে বাংলাদেশের রাজনীতির ‘উজ্জ্বল নক্ষত্র’ বর্ণনা করে আসাদুজ্জামান নূর বলেন, মাটির কাছাকাছি থেকেও নিজেকে আকাশের উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারার মতো এক বিরল ব্যক্তিত্বের অধিকারী এই মানুষটিক শ্রদ্ধা জানাই অন্তরের অন্তস্থল থেকে।

সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘আমরা যারা রাজনীতি করি, আমরা ফেরেশতা নই, শয়তানও নই। আমরা দোষে-গুণে মানুষ। কিন্তু যারা দোষ না করে গুণে এগিয়ে থাকেন, তারা মহা মানুষ, ভালো গুণের মানুষ। সৈয়দ আশরাফ তেমনি একজন ছিলেন। ফেরেশতাও ছিলেন না, শয়তানও ছিলেন না। তিনি গুণী মানুষ ছিলেন, সাহসী মানুষ ছিলেন, দক্ষ মানুষ ছিলেন।’

ষাটের দশকের শেষে ছাত্রলীগের একজন নেতা হিসাবে দেখার এবং মুক্তিযুদ্ধে সৈয়দ আশরাফকে সঙ্গী হিসাবে পাওয়ার কথা জানিয়ে জাসদ সভাপতি ইনু বলেন, জীবনের সর্বক্ষেত্রে ‘নীতি, নিষ্ঠা, আদর্শ ও দৃঢ়তার’ পরিচয় দিয়ে গেছেন আশরাফ। এক-এগারোর সময় যখন অনেকে বিভ্রান্ত হয়েছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বিন্দুমাত্র বিভ্রান্ত হননি।

ইনু বলেন, ‘তিনি নীতিবান ছিলেন, নিষ্ঠাবান ছিলেন, আদর্শবান ছিলেন, কুশলী ছিলেন, সজ্জন ছিলেন। ক্ষমতা ও টাকার পেছনে ছোটেননি কখনো। এসব বিষয় তার কাছ থেকে শেখার আছে আমাদের।’

অনুষ্ঠানের শুরুতেই শোকসংগীত ‘তুমি, নির্মল কর, মঙ্গল করে মলিন মর্ম মুছায়ে’পরিবেশন করেন গণসংগীতশিল্পী সমন্বয় পরিষদের শিল্পীরা। এরপর সৈয়দ আশরাফের প্রতিকৃতিতে ফুল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাতীয় নেতারা, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।

অনুষ্ঠানে জীবনানন্দ দাশের ‘আবার আসিবো ফিরে’ কবিতা পাঠ করেন সৈয়দ হাসান ইমাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘পরিচয়’ পাঠ করেন ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়। সৈয়দ শামসুল হকের ‘আমার পরিচয়’ পাঠ করেন আহকাম উল্লাহ্, রেজিনা ওয়ালী লীনা পড়েন শামসুর রাহমানের ‘পান্থজন’।

"