এখনো সেই নীলের আবাদ রংপুরে ৭০০ চাষি স্বাবলম্বী

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

আব্দুর রহমান রাসেল, রংপুর ব্যুরো

ব্রিটিশের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির লোকেরা বাংলায় নীল চাষে বাধ্য করত এখানকার চাষিদের। রংপুর অঞ্চলে এসব অত্যাচারের বিরুদ্ধে কৃষক বিদ্রোহের কাহিনি নিয়ে রচিত হয়েছে সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের কাব্য নাটক ‘নুরুলদীনের সারাজীবন’। এখন ব্রিটিশ নাই, কিন্তু এখনো রংপুর অঞ্চলের কৃষকরা চাষ করেন সেই ‘নীলগাছ’, স্থানীয় ভাষায় তাকে বলে ‘মালগাছ’। নীল চাষ করে রংপুরে স্বাবলম্বী হয়েছে ৭২০টিরও বেশি চাষি পরিবার।

রংপুর অঞ্চলে চাষ করা ‘নীল’ দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করে অর্জিত হচ্ছে ৫০ লাখ টাকারও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা। প্রতি বছর ভারতে এর চাহিদা রয়েছে ২৫০ টন। এ ছাড়াও জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে বাংলার নীলের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।

রংপুর সদর উপজেলার রাজেন্দ্রপুর ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে নীল চাষিদের দেখা মেলে। নীল চাষে জড়িয়ে আছে বেশ কিছু কৃষক পরিবারের জীবন-জীবিকা। সেখানে রয়েছে নীল প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র। এ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রের পরিত্যক্ত বর্জ্য নাইট্রোজেনে ভরা; যা চাষিরা ইউরিয়ার বিকল্প সার হিসেবে ব্যবহার করেন। এখানে গড়ে উঠেছে কেয়ার বাংলাদেশের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘লিভিং ব্লু প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের নীল প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র। নীল উৎপাদনের আগেও এখানকার অনেক কৃষক জ্বালানির জন্য নীলগাছ রোপণ করতেন। এর পাতা দিয়ে জমির সবুজ সার হয়।

স্থানীয় নীল চাষি পাতানী রানী, জামনি রানী, মঞ্জু রানী, বিমলা বালা ও বুলু মিয়া বলেন, জ্বালানি কাজে ব্যবহারের জন্য মালগাছ (নীলগাছ) চাষ করা হতো। সেই মালগাছের পাতা প্রতি কেজি বিক্রয় করা হয় ৩০০ টাকা দরে। এ ছাড়াও প্রতি কেজি বীজও বিক্রি হয় ২০০ টাকায়। এজন্য বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে নীল উৎপাদনে, কৃষকরাও ঝুঁকছেন নীল চাষে।

জানা যায়, রংপুর জেলার সদর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে এখন নীলের আবাদ হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। এগুলো হলো রাজেন্দ্রপুর, খলেয়া গঞ্জিপুর, মমিনপুর, চন্দনপাঠ ও হরিদেবপুর। এ ছাড়া জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলাতেও নীল চাষের দিকে ঝুঁকছেন সেখানকার কৃষক।

জেলা কৃষি সম্প্রারণ অধিদফতর জানায়, বালিময় পরিত্যক্ত জমি ও রাস্তার পাশেই নীলের আবাদ হচ্ছে। গাছটির জন্য বৃষ্টি দরকার। তবে গোড়ায় পানি জমলে গাছের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। নীলগাছ রোপণের উপযুক্ত সময় হচ্ছে মার্চ মাস। প্রতিটি গাছ রোপণের ৩ মাস পর পাতা সংগ্রহ করা যায়। এ পাতা সংগ্রহ করা যায় সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত। গাছের ২২ থেকে ২৫ ইঞ্চি পর্যন্ত আগা কেটে পাতা সংগ্রহ করা হয়। নিয়মিত পরিচর্যা করা হলে বপনকৃত ৩ কেজি বীজ থেকে ১ হাজার ৫০০ কেজি নীলের পাতা পাওয়া সম্ভব।

"