নির্বাচনোত্তর খুলনার রাজনীতি

হতাশ বিএনপি, চাঙা আ.লীগ ঘর গোছাচ্ছে অন্যান্য দল

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

মো. শাহ আলম, খুলনা
ama ami

সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গন স্বাভাবিক। বিএনপি নেতারা আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেতেই রয়েছেন ব্যস্ত। সাংগঠনিক কাজে তেমন সময় দিতে পারছেন না তারা, তাদের মধ্যে বিরাজ করছে হতাশা। অনেকের মধ্যে দলত্যাগের হিড়িকও পড়ে গেছে, কেউ কেউ যোগ দিচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলে। অপরদিকে বিপুল জয়ের কারণে আওয়ামী লীগে বইছে আনন্দ-উল্লাস। ঘর গোছাতে সাধ্যমতো সক্রিয় রয়েছে অন্য দলগুলো। সূত্র মতে, গত ১ জানুয়ারি দুপুরে বিএনপি কার্যালয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সমর্থিত খুলনা-২ আসনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ডিজিটাল ভোট ডাকাতির মাধ্যমে জনরায়কে প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়নি। খুলনা অঞ্চলে মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। অনেক স্থানে আগের দিন রাতে আবার অনেক আসনে দুপুর ১২টার আগেই ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। তিনি খুলনার ছয়টি আসনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন।

পদত্যাগের হিড়িক : সংসদ নির্বাচনের পর জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও কয়রা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি, উত্তর বেদকাশি ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সরদার মতিয়ার রহমান, তার ছেলে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ কাজল, উত্তর বেদকাশি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এসকে আরিফুল ইসলাম, কয়রা উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আজিজুল ইসলাম, কয়রা সদর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. ইউনুস আলী মোল্যা ও সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ শাহাজান সিরাজ স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত কারণে দল ত্যাগ করেছেন। উত্তর বেদকাশির ইউপি চেয়ারম্যান ১৯৭৯ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত। পাইকগাছা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও ফসিয়ার রহমান মহিলা কলেজের প্রভাষক দল ত্যাগ করেছেন। এ ছাড়া রূপসা ও দিঘলিয়া উপজেলার একাধিক নেতাকর্মী দল ত্যাগ করেছেন।

সম্প্রতি খালিশপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী সেকেন্দার আলী ডালিমের ছেলে কাজী রিয়াজ সুমন দল ত্যাগ করে ক্ষমতাসীন দলে যোগদান করেন।

চাঙা পরিবেশ আওয়ামী লীগে : গত ৮ জানুয়ারি স্থানীয় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সৈয়দ আশরাফের স্মরণসভায় জেলা সভাপতি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশিদ, নগর সভাপতি ও সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক দলের সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি, অঙ্গসংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটির সক্রিয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। দুর্বৃত্ত ও মাদক কারবারি যাতে দলে ঠাঁই নিতে না পারে, সেদিকে সজাগ সৃষ্টি রাখতে আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতীয় পার্টি ও জেপি : গত ১ জানুয়ারি জাতীয় পার্টি ও জেপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পৃথক পৃথক আলোচনা সভায় দলকে ঢেলে সাজানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। নগর জাতীয় পার্টির নতুন কমিটির ওপর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পাইকগাছা ও দিঘলিয়া উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত করায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। জেপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান শরীফ শফিকুল হামিদ চন্দন বলেন, দলকে সংগঠিত করে সরকারের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে হবে।

জাকের পার্টি : সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে জাকের পার্টির চেয়ারম্যান গত সপ্তাহে জেলা শাখার সাবেক সভাপতি বদরুদ্দীন বদু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবী মাসুম, নির্বাহী সদস্য মিজানুর রহমান কুমকুমকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

সিপিবি : বাম গণতান্ত্রিক জোটের শরিক দল নগর সিপিবি গত ৫ জানুয়ারি দলীয় কার্যালয়ে নির্বাচনোত্তর এক মূল্যায়ন সভার আয়োজন করে। নগর সভাপতি এইচ এম শাহাদাৎ সভায় সভাপতিত্ব করেন। আলোচনায় বক্তারা একাদশ সংসদ নির্বাচনকে প্রহসন বলে আখ্যায়িত করেন।

ওয়ার্কার্স পার্টি : গত ৪ জানুয়ারি দলীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি খুলনা জেলা শাখার এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। মিনা মিজানুর রহমান এতে সভাপতিত্ব করেন। সভায় কমিউনিস্ট আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে সব উপজেলা শাখা শক্তিশালী ও নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির কর্মসূচি নেওয়া হয়। সভায় বলা হয়, দলকে শক্তিশালী করতে শিগগিরই কংগ্রেস আহ্বান করা হবে।

১৪ দল : গত ৩ জানুয়ারি ১৪ দলের একাংশের উদ্যোগে আইনজীবী সমিতিতে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা নেতা মিনা মিজানুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। সভায় জেপির শরীফ শফিকুল হামিদ চন্দন, সাম্যবাদী দলের এফ এম ইকবাল, ন্যাপের তপন ভট্টাচার্য, ওয়ার্কার্স পার্টির মফিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। সভায় খুলনার ৬টি আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের অভিনন্দন জানানো হয়।

"