আশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ২০ গার্মেন্টে ছুটি

প্রথম বৈঠকেই মজুরি কাঠামোর মূল সমস্যা চিহ্নিত

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

মজুরি কাঠামো নিয়ে অসন্তোষের মধ্যে ঢাকার আশুলিয়ায় পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার মধ্যে অন্তত ২০টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের জামগড়ার ছয়তলা, বেরন ও জিরাবো-কাঠগড়া-বিশমাইল সড়কে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে সংঘর্ষের এসব ঘটনা ঘটে। অপরদিকে, পোশাক শ্রমিকদের বেতনবৈষম্য নিরসনে পর্যালোচনা কমিটির প্রথম বৈঠকেই মজুরি কাঠামোর মূল সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে। আশুলিয়া প্রতিনিধি জানান, শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে গেলে আশুলিয়ার জিরাবো-কাঠগড়া ও জামগড়াসহ বেশকিছু এলাকায় ২০ থেকে ২৫টি পোশাক কারখানায় একদিনের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

আশুলিয়া শিল্প পুলিশ ১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘রাস্তায় নেমে আসা শ্রমিকদের সরাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। কোথাও কোথাও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। এতে কিছু শ্রমিক আহত হন।’ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি সদস্যদের সাভার-আশুলিয়ার বিভিন্ন কারখানার সামনে টহল দিতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে পোশাক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্ট্র বলেন, ‘শ্রমিকরা এখন ছাঁটাই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। আন্দোলনকারী শ্রমিকদের দেখে দেখে ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে।’

সরেজমিনে জিরাবো-কাঠগড়া-বিশমাইল এলাকায় মাসকট নিট ওয়্যার, রেডিসন, রাতুল, ইউনিয়ন, কন্টিনেন্টাল, হ্যাশন কোরিয়া, সাউদার্ন মিলিনিয়াম, টেক্সটাউন, ক্রসফেয়ার, এভারগ্রিন, লিলি, এফজিএস, ডিআর, ফ্যাশন ফেয়ার, গ্রিন লাইফ,

গ্লোরিয়াস, কমপ্লিট নিট ওয়্যারসহ ১৭টি পোশাক কারখানায় গিয়ে বন্ধ দেখা গেছে। এদিকে, পোশাক শ্রমিকদের বেতনবৈষম্য নিরসনে পর্যালোচনা কমিটির প্রথম বৈঠকেই মজুরি কাঠামোর মূল সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে। মজুরি কাঠামোর সাতটা গ্রেডের মধ্যে ৩, ৪ ও ৫ নম্বর গ্রেডে মূলত সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। মালিক-শ্রমিক ও সরকার- ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে এ সমস্যা শনাক্ত করা হয়।

পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামো পর্যালোচনার জন্য গঠিত ১২ সদস্যের কমিটির প্রথম সভা গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে শ্রম মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ও কমিটির আহ্বায়ক আফরোজা খান।

বৈঠক শেষে তিনি বলেন, ‘যেহেতু সমস্যা শনাক্ত হয়েছে সেহেতু সমস্যা সমাধান করা যাবে। আগামী রোববার (১৩ জানুয়ারি) কমিটির বৈঠক আবার বসবে। ওই বৈঠকে চিহ্নিত তিনটি গ্রেডের বিষয় সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’ তিনি বলেন, কমিটিকে বিষয়টি সমাধানে এক মাসের সময় দেওয়া হয়েছিল। ওই সময়ের আগেই বিষয়টির সমাধান হয়ে যাবে। সরকার যে শ্রমিকবান্ধব তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শ্রমিকদের কারো বেতনই কমবে না। মজুরি কাঠামোর কারণে যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে তা নয়, এর পেছনে অন্য ঘটনা রয়েছে যার একটি উদাহরণ উল্লেখ করে আফরোজা খান বলেন, ‘মজুরি কাঠামোর চেয়ে বেশি বেতন দেওয়া হয় এমন একটি কারখানা ভাঙচুর করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, অর্থনীতির মূলভিত্তি হচ্ছে গার্মেন্ট খাত। এ খাতকে ধ্বংস করার জন্য একটি চক্র পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে। এ কারণে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘শুধু বেতনই নয়, শ্রমিকরা যেকোনো সমস্যায় পড়লে একটি হটলাইন নম্বর চালু করবে শ্রম অধিদফতর। রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা সেই নম্বরে ফোন দিয়ে শ্রমিকরা তাদের সমস্যা জানাতে পারবেন। সমস্যার যাতে তাৎক্ষণিক সমাধান হয় তার ব্যবস্থাও থাকবে। নম্বরটি শিল্প অঞ্চলে মাইকিং করে জানানো হবে।’ বৈঠকে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বাংলাদেশ তৈরি পোশাক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম এবং বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শিদীসহ গার্মেন্ট মালিক, শ্রমিক এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনা কমিটির ১২ সদস্যের মধ্যে ১০ জন উপস্থিত ছিলেন।

"