কাজ বাকি রেখেই শুরু হয়েছে বাণিজ্য মেলা

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

পাঠান সোহাগ
ama ami

কাজ বাকি রেখেই রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অস্থায়ী মাঠে বাণিজ্য মেলা শুরু হয়েছে। গত বুধবার বাণিজ্য মেলার পর্দা উঠেছে। কিন্তু এখনো মেলার প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ বাকি আছে। মেলা প্রাঙ্গণের স্টলগুলো পরিপাটি করে সাজানো হয়নি। প্যাভিলিয়ন ও স্টলের মেরামতের কাজ চলছে। আবার কোথাও কোথাও মালামাল সাজিয়ে রাখা হয়েছে। মেলায় অল্পসংখ্যক দর্শনার্থী ও ক্রেতার সমাগম হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার। তারা মেলায় বিভিন্ন স্টল ঘুরে ঘুরে দেখচ্ছেন। কেউ কেউ আবার প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মেলার ভেতরের সবগুলোর রাস্তার কাজ শেষ হয়নি। মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের স্টল ও প্যাভিলিয়নের কাজও শেষ করতে পারেনি। অবকাঠামোর কাজ শেষ হলেও ভেতরের সাজসজ্জা সম্পন্ন হয়নি। কোনো কোনো স্টল ও প্যাভিলিয়নের ভেতরে পণ্য নেওয়াই হয়নি। এ ছাড়া মেলার ভেতরের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শেষ করতে পারেনি মেলা আয়োজকরা।

মেলা ঘুরে দেখা যায়, পোশাক ও নিত্যপ্রয়োজনীয় স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলোতে ভিড় সবচেয়ে বেশি। দর্শনার্থী-ক্রেতারা ঘুরে ঘরে দেখছেন ও পছন্দের পণ্য কিনছেন। মিরপুর বাংলা কলেজের শিক্ষার্থী সনবুজ মিয়া বলেন, ‘১ হাজার ২০০ টাকা দিয়ে একটি শীতের কাপড় কিনেছি।’ আকলিমা মুনসুর বলেন, ‘প্লাস্টিকের কয়েকটি পণ্য কিনলাম। এর মধ্যে আরএফএলের জিনিস আছে।’

আবুল খায়ের গ্রুপের প্যাভিলিয়নের সামনে কথা হয় নিরাপত্তা কর্মী শহিদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এই প্যাভিলিয়নটি প্রায় এক মাস ধরে কাজ করছে। কিন্তু এখনো শেষ করতে পারেনি। কাজের গতি কম।’ আবুল খায়ের গ্রুপের এই প্যাভিলিয়ন তৈরির কাজ করছেন নয়ন, কবিরসহ আরো অনেকেই। তারা বলেন, ‘টুকিটাকি কাজ প্রচুর। দ্রুতগতিতেই কাজ চলছে। তবে দুই দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ কাজ শেষ হয়ে যাবে।’ এর পামেয় আরেকটি স্টলে কাজ করছেন মো. আশ্রাফ। তিনি জানান, স্টল মালিক সিদ্ধান্ত দিতেই দেরি করেছেন। আমরা সাত দিন কাজ করছি। আর দু-তিন দিনের মধ্যেই কাজ শেষ হবে। এ ছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের স্টল, প্যাভিলিয়ন নির্মাণে পিছিয়ে আছে। বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের স্টল নির্মাণের কাজ চলছে। এই প্রতিঠানের কর্মরতরা জানান, কাঠামো ছাড়া বাকি রয়েছে সব কাজ। স্টলে পুকুর তৈরি, সাজসজ্জা কিছুই হয়নি। সম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে চার-পাঁচ দিন লাগবে।

প্রধান ফটকের সামনে রয়েছে ডিজিটাল এক্সপিরিয়েন্স সেন্টার। এখানে দর্শনার্থীরা তাদের পছন্দের স্টল বা প্যাভিলিয়ন খোঁজে না পেলে সহয়তা পাবে। মেলায় আসা দর্শনার্থীদের জন্য বিশ্রামের ব্যবস্থা রাখছে মেলা কর্তৃপক্ষ। তবে বিশ্রামাগার বা অবসর সময় কাটানোর জন্য বেঞ্চ তৈরির কাজও শেষ হয়নি।

মূল ফটকের সামনে কাউন্টারে টিকিট বিক্রি করছেন সুজন মিয়া। তিনি জানান, প্রতিদিন সকাল ১০টায় শুরু হয়ে চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৩০ টাকা ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ টাকা টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তেমন টিকিট বিক্রি হয়নি। শুক্রবারে দর্শনার্থী ও ক্রেতার সংখ্যা বাড়বে বলে জানান তিনি।

মেলায় প্যাভিলিয়ন, মিনি প্যাভিলিয়ন, রেস্তোরাঁ ও স্টলের সংখ্যা ৬০৫টি। এর মধ্যে রয়েছে প্যাভিলিয়ন ১১০টি, মিনি প্যাভিলিয়ন ৮৩টি ও রেস্তোরাঁসহ স্টলের সংখ্যা ৪১২টি।

"