‘বন্দুকযুদ্ধে’ অপহরণকারী নিহত, শিশুর লাশ উদ্ধার

প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

যশোর প্রতিনিধি
ama ami

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার সাতনল এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বিল্লাল (১৯) নামে এক অপহরণকারী নিহত হয়েছে। অপহৃত শিশু উদ্ধার করতে গিয়ে গত মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। একই রাতে পুলিশ অপহৃত শিশুটির লাশও উদ্ধার করে।

যশোর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনসার উদ্দিন জানিয়েছেন, গত ৬ জানুয়ারি মনিরামপুর উপজেলার খেদাইপুর গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র তারিফ নিখোঁজ হয়। এরপর তারিফের বাবার কাছে মুক্তিপণ চেয়ে ফোন করলে তিনি ৭ জানুয়ারি থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পুলিশ অপহরণকারীদের দেওয়া বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে বিল্লালকে শনাক্ত করে। এরপর তার দেওয়া তথ্যে মঙ্গলবার রাতে তারিফকে উদ্ধারে সাতনল এলাকায় যায় পুলিশের একটি টিম। এ সময় অপহরণকারী চক্রের অন্য সদস্যরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করতে শুরু করে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এ সময় অপহরণকারী চক্রের গুলিতেই নিহত হয় বিল্লাল। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি ওয়ান শুটারগান ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে।

তিনি আরো জানান, পরে ভোররাত ৪টার দিকে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে খেদাইপুর কালভার্টের নিচ থেকে অপহৃত শিশু তারিফের লাশ উদ্ধার করা হয়।

তারিফ উপজেলার গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল। নিহত বিল্লাল গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ত। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একই গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের মেয়ে লিমা খাতুন (২০) ও আমিন সরদারের ছেলে মাসুম বিল্লাহকে (৩৫) আটক করেছে পুলিশ। অপহরণের শিকার শিশু তারিফের মামা আক্তার হোসেন জানিয়েছেন, ‘গত রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বল হাতে নিয়ে তারিফ তার যমজ ভাই তাসিফের সঙ্গে মাঠে খেলতে যায়। সন্ধ্যায় তাসিফ বাড়ি ফিরলেও ফেরেনি তারিফ। অনেক খোঁজাখুঁজি করে তারিফকে না পাওয়ায় পরের দিন সোমবার মনিরামপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এরপর মঙ্গলবার সকালে তারিফদের বাড়ির পাশে একটি চিঠি পাওয়া যায়। চিঠিতে লেখা ছিল ‘তারিফকে আমরা অপহরণ করেছি। পাঁচ লাখ টাকা দিলে তাকে মুক্তি দেব।’ চিঠিতে একটি মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়। পরে সেই নম্বরে যোগাযোগ করলে পাশের কেশবপুর বাজারের একটি বিকাশ এজেন্টের নম্বর দেওয়া হয়। সেই বিকাশ নম্বরে যোগাযোগ করে বিষয়টি এজেন্ট মালিককে খুলে বলা হয়। মঙ্গলবার বিকেলে সেই দোকানে টাকা নিতে আসে বিল্লাল। ওই সময় এজেন্ট মালিক কৌশলে বিল্লালকে আটকে রেখে আমাদের খবর দেয়। আমরা মনিরামপুর থানায় যোগাযোগ করলে কেশবপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় বিল্লালকে আটক করে পুলিশ। আটকের পর বিল্লালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার রাতে উপজেলার ছিলুমপুর গ্রামের একটি কালভার্টের নিচ থেকে ভাগিনা তারিফের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।’

"