রাজধানীতে যাত্রী ছাউনির বেশির ভাগ নির্মাণই বাকি

প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ১৩০টি বাস স্টপেজ ও যাত্রী ছাউনি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের চাহিদা মোতাবেক এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই মধ্যে ঢাকা দক্ষিণকে ৭০টি ও উত্তরকে ৬০টি বাস স্টপেজ ও যাত্রী ছাউনি নির্মাণের জন্য তালিকা দেওয়া হয়। তালিকা অনুযায়ী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন দুটি প্রকল্পের আওতায় এরই মধ্যে ৩৮টির নির্মাণকাজ শেষ করেছে। এরই মধ্যে ২৮টি দক্ষিণ সিটিতে এবং বাকি ১০টি উত্তর সিটিতে। পুরো কাজের এখনো দু-তৃতীয়াংশ নির্মাণের বাইরে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ (কেইস) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন শীর্ষক মেগা প্রকল্পের আওতায় এগুলোর নির্মাণকাজ হয়।

প্রকল্পের আওতায় তৈরি বাস-বে’র মাধ্যমে নির্ধারিত স্থান থেকেই যাত্রীরা বাসে ওঠানামা করতে পারবেন। রোদ কিংবা বৃষ্টিতে যত্রতত্র দাঁড়াতে হবে না তাদেরে। কমবে দুর্ঘটনাও। উন্নত দেশগুলোর বাস-বে’র মতো এসব বাস-বে’তে উন্নত ফুটপাত, বিশুদ্ধ খাবার পানি, ওয়াইফাই, টি-স্টল ও মোবাইল ফোন চার্জের ব্যবস্থা থাকার কথা।

তবে সরেজমিনে ঘুরে এমন কোনো দৃশ্য চোখে পড়েনি। শুধু নির্মাণ শেষ করেই দায়িত্ব শেষ করেছে সিটি করপোরেশন। নেই কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত লাইট। সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে প্রায়ই ভবঘুরে ও মাদকসেবীদের দখলে থাকে এসব যাত্রী ছাউনি। যদিও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোনো স্থান থেকে যাত্রী তোলা নিষিদ্ধ।

সোমবার শাহবাগের ঢাকা ক্লাবের সামনের যাত্রী ছাউনি ও স্টপেজে গিয়ে দেখা গেছে, স্টপেজ ছাড়াও মাঝ রাস্তা থেকে যাত্রী নিচ্ছে বাসগুলো। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিডওয়ে পরিবহনের চালক রাজিব উদ্দিন বলেন, ‘যাত্রীরা হাত উঠিয়ে বাসে উঠতে চাচ্ছেন, সে কারণে কয়েকজনকে তুলেছি। আর স্টপেজে তো বাস দাঁড়ানোর জায়গা হয় না। সে জন্য রাস্তা থেকে তুলছি।’

যাত্রী ছাউনি ও বাস স্টপেজ দুই সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর ১৩০টি স্থানে বাস স্টপেজ ও যাত্রী ছাউনি করার জন্য দুই সিটি করপোরেশনকে তালিকা দেয় পুলিশ। ওই তালিকা অনুযায়ী কাজ শুরু করে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এরই মধ্যে করপোরেশনের কেইস প্রকল্পের আওতায় দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ১০টি করে ২০টি যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হয়। এ ছাড়া দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মেগা প্রকল্পের আওতায় আরো ১৮টি যাত্রী ছাউনি নির্মাণ শেষ করেছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে ৩০টি যাত্রী ছাউনি ও বাস স্টপেজ নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। বাকি ১২টি যাত্রী ছাউনি নির্মাণাধীন।

ডিএসসিসির ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাজিব খাদেম বলেন, ‘পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের ৬০টি স্থানের নাম উল্লেখ করে তালিকা দেওয়া হয়েছে। এ থেকে আমরা দুটি প্রকল্পের আওতায় এখন পর্যন্ত ২৮টি যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করেছি। এগুলো যাত্রীবান্ধব ও দৃষ্টিনন্দন। প্রতিটি ছাউনির সামনে বাস স্টপেজ রয়েছে। বাসগুলো এসে স্টপেজে দাঁড়াবে এবং ছাউনি থেকে যাত্রীরা বাসে উঠবে। তবে তালিকা অনুযায়ী সব ছাউনি করা যায়নি। বেশ কয়েকটি নির্মাণের সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে বাধা এসেছে। সেগুলো প্রক্রিয়াধীন।

কেইস প্রকল্পের পরিচালক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা কেইস প্রকল্পের আওতায় দুই সিটি এলাকায় ১০টি করে ২০টি যাত্রী ছউনি নির্মাণকাজ শেষ করেছি। যাত্রীরা এরই মধ্যে ছাউনিগুলো ব্যবহার শুরু করেছে।’

এ প্রসঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মাদ আরিফুর রহমান বলেন, ‘কেইস প্রকল্পের আওতায় আমাদের এলাকায় ১০টি যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হয়েছে। এর বাইরে আমরা নিজস্বভাবে কয়েকটি নির্মাণ করার জন্য কাজ করছি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।’

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক দক্ষিণ) মফিজউদ্দিন আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, ‘ঢাকার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে রাজধানীতে ১৩০টি স্থানে বাস-স্টপেজ ও যাত্রী ছাউনি নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব স্থানে গণপরিবহন থামিয়ে যাত্রী ওঠাতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কারণ, পথচারীরা যদি লাইনে দাঁড়িয়ে বাসে ওঠে, তাহলে দুর্ঘটনা অনেকটাই কমে যাবে।’

তবে বাস মালিকদের শৃঙ্খলা না ফেরাতে পারলে কোনো প্রকল্পই কাজে আসবে না; বরং উল্টো ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করেন নগর বিশেষজ্ঞরা। নগর পরিকল্পনাবিদ ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বি-আইপি) সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খানের মতে, সড়কে শৃঙ্খলার জন্য শর্ত বাস মালিকদের মধ্যে শৃঙ্খলা ফেরানো। তাদের শৃঙ্খলায় না এনে যতই আধুনিক বাস-বে কিংবা যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হোক কোনো কাজে আসবে না। আমরা এখনো অনেক চালককে দেখেছি, তারা নির্ধারিত স্থানে বাস থামায় না। আইন প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করলে অনেকাংশে পরিবর্তন হবে।

"