শোকসভায় বক্তারা

সবার কাছে প্রিয় মানুষ ছিলেন সৈয়দ আশরাফ

প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

সদ্য প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ছিলেন বিরল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। দলমত নির্বিশেষে সব মানুষের কাছেই তিনি অত্যন্ত প্রিয় মানুষ ছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় বক্তারা এ কথা বলেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটির নগর ভবনে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ অডিটরিয়ামে এ শোকসভার আয়োজন করা হয়। এদিকে বিকেলে সৈয়দ আশরাফের কুলখানিতে জনতার ঢল নেমেছিল।

রাজধানীর বেইলি রোডের অফিসার্স ক্লাবে ফাঁকা জায়গায় বিশাল সামিয়ানা টানিয়ে মানুষের বসার ব্যবস্থা করা হয়। লোকজনের জায়গা সংকুলান না হওয়ায় সামিয়ানার বাইরেও চেয়ার দেওয়া হয়। বিকেল সাড়ে ৪টায় মিলাদ মাহফিল শুরু হয়ে ৫টায় শেষ হয়।

কুলখানিতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, ১৪ দলের মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, ১৪ দল নেতা দিলীপ বড়ুয়া, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমানসহ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং অন্য রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিচারপতি, আইনজীবী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, ডাক্তার, সাংবাদিক, কবি, সাহিত্যিকসহ হাজার হাজার সাধারণ মানুষও উপস্থিত ছিলেন। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও মিলাদ মাহফিলে অংশ নেন।

নগর ভবনের আলোচনায় বক্তারা বলেন, সততা, নম্রতা, সরলতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা, সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে সর্বজন শ্রদ্ধেয় করে তুলেছিল। এমন চিত্র রাজনীতির অঙ্গনে বিরলই বটে। শোকসভায় অংশ নিয়ে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন, বিশ্বাসী, অনুগত নেতা ছিলেন সৈয়দ আশরাফ। তার মত নেতা রাজনৈতিক জীবনে হাতেগোনা কয়েকজন পাওয়া যায়। আওয়ামী লীগের মতো এত বড় একটি দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও তার মধ্যে অহংকার ছিল না, রাজনৈতিক কোনো নেতাকর্মী কখনই বলতে পারবেন না সৈয়দ আশরাফ তাদের সঙ্গে কখনো জোরে বা ধমক দিয়ে কথা বলেছেন। তিনি সব সময়ই ছিলেন বিনয়ী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকী বলেন, ‘সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের প্রতিটি জানাজায় বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিল। এর থেকে আমরা বুঝতে পারি তিনি কতটা জনপ্রিয় ছিলেন সবার কাছে।’

রাজনৈতিক, সামাজিক ও পারিবারিক জীবন তিনি অতিবাহিত করেছেন সততার মাধ্যমে। একজন রাজনৈতিক নেতার কাছে এমনটাই আশা করে সব মানুষ। তাই সৈয়দ আশরাফ অনুকরণীয় হওয়া উচিত সব নেতাদের কাছেই।

মেয়র সাঈদ খোকনের সভাপতিত্বে নাগরিক শোকসভায় আরো বক্তব্য দেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মোস্তফা গোলাম কুদ্দুছ, পরিবেশ আন্দোলনের সহসভাপতি স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান।

এ ছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সচিব শাহাবুদ্দিন খান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মো. জাহিদ হোসেন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. শেখ সালাহ্উদ্দিনসহ কাউন্সিলররা।

গত ৬ জানুয়ারি রাজধানীর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয় সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে। ৩ জানুয়ারি থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। কয়েক মাস ধরে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি। ৫ জানুয়ারি তার মরদেহ দেশে আনা হয়।

"