ট্রাফিকের লক সিস্টেম চালু

নগরীতে পার্কিং জোন নিয়ে বিড়ম্বনায় চালকরা

প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

খুলনা ব্যুরো
ama ami

খুলনা মহানগরীতে ট্রাফিকের লক সিস্টেম চালু করা হয়েছে। এই লক প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ নগরবাসী। নগরীতে কোথায় গাড়ি রাখলে কখন মামলায় পড়তে হবে তা নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় গাড়িচালকদের। গাড়িতে ট্রাফিকের লক পড়লেই কোনো অনুরোধে কাজ হয় না। মামলা অবধারিত।

জানা গেছে, খুলনা মহানগরীর সড়কগুলোতে সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সড়কে বাস, ট্রাক ও এ ধরনের বড় যান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যে এসব যান চলে না তা নয়। তাদের বিরুদ্ধে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) ট্রাফিক বিভাগ মামলাসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এদিকে নগরীতে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং না করার জন্যও রয়েছে ট্রাফিক বিভাগের নির্দেশনা। তারপরও নির্দেশনা অমান্য করে যত্রতত্র রাখা হয় গাড়ি। আর যত্রতত্র পার্কিং করা গাড়ির বিরুদ্ধে তৎপর রয়েছে কেএমপি ট্রাফিক বিভাগ।

সরেজমিন সোমবার নগরীর ময়লাপোতা মোড়। ঘড়ির কাঁটায় সন্ধ্যা ৭টা ছুঁই ছুঁই। ময়লাপোতা মসজিদের সামনে অবস্থিত ওষুধের দোকানের সামনের সড়কের পাশে রাখা মোটরসাইকেল। চালক বুঝে ওঠার আগেই গাড়ির চাকায় ট্রাফিকের লক (তালা)। দু’একজন চালক দেখতে পেয়েও লক না দিতে অনুরোধ করেও রেহাই পায়নি। ট্রাফিকের দায়িত্বরতরা লক পড়লে মামলা অবধারিত বলে সাফ জানিয়ে দেন। তারা ওই স্থানে গাড়ি রাখলে মামলা বা লক পড়বে এমন বিষয়ে তারা অবগত নয় বলে জানান তারা।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রোগীর জন্য ওষুধ কিনতে আসা ফরহাদ বলেন, তিনি তার অসুস্থ রোগীর জন্য ওষুধ কিনতে আসে। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে তার গাড়িতে লক দেন দায়িত্বরত ট্রাফিক। এ রকম আরো অনেককে গাড়িতে লক দেন। মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে দায়িত্বরত ট্রাফিকরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ বলে জানিয়ে দেন।

মাহবুব হাসান নামের অপর এক চালক বলেন, তিনি বিষয়টি জানেন না। এমনকি ওই স্থানে পার্কিং করা যাবে না এমন কোন নির্দেশনাও তার জানা নেই। অনুরোধ করেও রেহাই পাওয়া যায়নি।

দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট সরোয়ারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মৌখিক আদেশই আইন। আর কোথায় কোথায় পার্কিং জোন রয়েছে তা জানার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জানতে হবে। তার পাশেই রাস্তার ওপরে কিছু গাড়ি রাখা হয়েছে এগুলো পার্কিং জোনে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এগুলো পার্কিং জোনে। কিন্তু কোন পর্যন্ত তা তিনি জানাতে পারেনি।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ ট্রাফিক বিভাগের ডেপুটি কমিশনার মো. সাইফুল হক বলেন, রাস্তার ওপরে গাড়ি রাখা হলে এ ধরনের ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। তবে রাস্তার ওপরে গাড়ি রাখা ঠিক নয় কিন্তু মাঝে মাঝে তারা এ ধরনের ব্যবস্থা করতে পারেন না। আর এর মাধ্যমে রাস্তার ওপরে গাড়ি না রাখতে চালকরা অভ্যস্ত হবে বলেও জানান তিনি।

"