এক ধাক্কায় ছিটকে যাবে পৃথিবীসহ সৌরম-ল!

প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

বিজ্ঞানীদের মতে যতদিন জলন্ত সূর্য থাকবে পৃথিবীতে জীবনের আলো জ্বলবে। কিন্তু নতুন বছরের গোড়াতেই, ভয়ংকর এক খবর দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, সূর্যের স্বাভাবিক মৃত্যু পর্যন্ত হয়তো অপেক্ষা করতে হবে না, তার অনেক আগেই গোটা সৌরমন্ডলটা মহাশূন্যে ছিটকে বেরিয়ে যেতে পারে, আমাদের ছায়াপথে অন্য আর এক ছায়াপথের ধাক্কার চোটে। তখন তো আমাদের এই স্বাদের গ্রহটা ফনাফনা হয়ে যাবে।

মহাকাশ থেকে আসা নানান তথ্য ঘাঁটতে ঘাঁটতে আর তার গতি-প্রকৃতি বিশ্লেষণ করতে করতে, সম্প্রতি এই বিপদের সম্ভাবনাটি নজরে এসেছে ডারহ্যাম ইউনিভার্সিটির জ্যোতি পদার্থবিদদের। তারা জানিয়েছেন, এই বিপদটির নাম হলো লার্জ ম্যাজেলান্টিক ক্লাউড (এলএমসি) নামের একটি ছায়াপথ। আমাদের ছায়াপথ মিল্কি ওয়ে’র চারদিকে ঘুরে বেড়ায় একাধিক ছোট আকারের ছায়াপথ। তাদের মধ্যেই একটি হলো এই এলএমসি। সাধারণত নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে মিল্কি ওয়ে’কে প্রদক্ষিণ করে আকারে ছোট এই ধরনের ছায়াপথগুলো। কখনো কখনো মিল্কি ওয়ে’র মাধ্যাকর্ষণ শক্তির বাইরেও বেরিয়ে যায় এগুলো।

এমএলসিও এখন মিল্কি ওয়ে’র থেকে দূরে সরে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এই মুহূর্তে মিল্কি ওয়ে থেকে ১ লাখ ৬৩ হাজার আলোকবর্ষ দূরে রয়েছে এলএমসি। প্রতি সেকেন্ডে ২৫০ মাইল গতিতে দূরে সরে যাচ্ছে সেটি। কিন্তু একটা সময় ধীরে ধীরে তার এই দূরে সরে যাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। তখন আমাদের সৌরমন্ডলের দিকে মুখ ফেরাবে সে। তারপর ছুটে আসতে আসতে, আগামী ২৫০ কোটি বছর পর আমাদের মিল্কি ওয়ে’তে এসে ধাক্কা মারবে।

এমএলসি’র ওজন আমাদের সূর্যের ২৫ হাজার কোটি গুণ। মিল্কি ওয়ের সঙ্গে তার সংঘর্ষে অবশ্য আলাদা করে গ্রহ এবং নক্ষত্রদের মধ্যে কোনো সংঘর্ষ বাধবে না। তবে সৌরমন্ডলের ওপর তার প্রভাব পড়বে ব্যাপক। সেটি মহাশূন্যে ছিটকে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন ডারহ্যামের ইনস্টিটিউট ফর কম্পিউটেশনাল কসমোলজি বিভাগের ডিরেক্টর কার্লোস ফ্রেঙ্ক। মিল্কি ওয়ে’র মধ্যখানে যে ব্ল্যাক হোল সুপ্ত অবস্থায় রয়েছে, এই সংঘর্ষের ফলে তাও সক্রিয় হয়ে উঠবে। বর্তমানের চেয়ে ১০ গুণ বড় আকার ধারণ করবে। তাতে মহাকাশে তেজস্ক্রিয়তা বহুগুণ মাত্রা বেড়ে যাবে বলেও ধারণা বিজ্ঞানীদের।

 

"